আজ: ১৬ জুলাই, ২০১৮ ইং, সোমবার, ১ শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৪ জিলক্বদ, ১৪৩৯ হিজরী, দুপুর ১২:৪৭
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয়, প্রধান সংবাদ, রাজনীতি খালেদা জিয়া আগামী সপ্তাহে দেশে ফিরতে পারেন

খালেদা জিয়া আগামী সপ্তাহে দেশে ফিরতে পারেন


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১০/০৮/২০১৭ , ৩:৩৭ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: জাতীয়,প্রধান সংবাদ,রাজনীতি



ভোরের খবর ডেস্ক- আড়াই মাসেরও বেশি সময় লন্ডনে অবস্থান শেষে আগামী সপ্তাহেই দেশে ফিরতে পারেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। দেশে ফিরেই তার নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। এ ছাড়া তিনি দলকে চাঙ্গা করার জন্য ত্বরিত ফল লাভের জন্য আরো বেশকিছু ‘ক্রাশ কর্মসূচিও’ ঘোষণা দিতে পারেন। আগে থেকেই লন্ডনে অবস্থানরত দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতামতের ভিত্তিতেই দলকে চাঙ্গা করার এসব কর্মসূচি তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে দলের নেতারা জানিয়েছেন, তারা তাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখটি সম্পর্কে অবহিত নন। তবে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার একটি সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মানবকণ্ঠকে জানান, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) ‘নেক্সট উইকেই’ (পরবর্তী সপ্তাহ) দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

খালেদা জিয়া কি আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে দেশে ফিরবেন জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্দিষ্ট তারিখ তো বলতে পারব না। নেক্সট উইকে আসবেন।

বেগম জিয়ার কি চিকিৎসা শেষ হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো শেষ হয়নি। তবে এরই মধ্যে শেষ হওয়ার আশা করছি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিদেশ যাওয়ার প্রাক্কালে প্লেনের ভেতর থেকেই মানবকণ্ঠকে জানান, অক্টোবর মাসেই ‘ম্যাডামের’ (খালেদা জিয়া) দেশে ফেরার কথা রয়েছে। নির্দিষ্ট তারিখটি জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্লেনের ভেতরে আছি। আর বেশি কিছু বলতে পারছি না।

খালেদা জিয়া ১৫ জুলাই ফলোআপ চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান। ৮ আগস্ট লন্ডনের মুরফিল্ড হাসপাতালে তার ডান চোখে অস্ত্রোপচার হয়। লন্ডনে তিনি তার পায়ের চিকিৎসাও করান। ৫ সেপ্টেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছিলেন, পায়ের চিকিৎসা শেষ হলে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে অর্থাৎ ১৫ সেপ্টেম্বর দেশের ফিরবেন তার নেত্রী। তবে পায়ের চিকিৎসার জন্য তিনি সেই সময় আর দেশে ফিরতে পারেননি। লন্ডন বিএনপির সভাপতি এমএ মালেক তখন মানবকণ্ঠকে জানিয়েছিলেন, হাঁটুর চিকিৎসার জন্য ম্যাডামের ১৫ তারিখ দেশে ফেরার সম্ভাব্য যে সিডিউল ছিল, তা পেছানো হয়।

দলের নেতাদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার চোখ ও পায়ের চিকিৎসা এখন প্রায় শেষ। আগের তুলনায় অনেকটা সুস্থ বোধ করছেন। তাই তার দেশে ফেরার সময় হয়েছে। তা ছাড়া আগামী ২২ অক্টোবর ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। তিনি দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন মূলত দুই দেশের মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ পরামর্শমূলক কমিটির বৈঠকের জন্য। এই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পর্যালোচনা ছাড়াও আঞ্চলিক বিষয়ের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা নিয়ে আলোচনা কেন্দ্রীভূত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে সুষমা স্বরাজের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠকে যাতে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেন সে জন্যই এর আগেই ঢাকায় ফিরতে পারেন খালেদা জিয়া।

এ ব্যাপারে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল অবশ্য এখনই কিছু বলতে পারছেন না বলে মানবকণ্ঠকে জানান। তবে দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা মানবকণ্ঠকে জানান, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় এলে বিএনপির সঙ্গে বৈঠক তো হতেই পারে।

খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা নিয়ে তিনি জানান, চলতি মাসের ১৫-২০ তারিখের মধ্যে তিনি ফিরতে পারেন। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে ম্যাডামের (খালেদা জিয়ার) সুস্থতার ওপর।

লন্ডনে চিকিৎসার পাশাপাশি দীর্ঘ এ সময়ে কূটনৈতিক যোগাযোগসহ দলের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটে বেগম জিয়ার। বিশেষ করে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্দোলন ও সম্ভাব্য প্রার্থীর বিষয়ে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন তিনি। সেখানে অবস্থান করেই দলের সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তিনি। দেশে ফিরে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখাও দেবেন। তবে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথও খোলা রাখবেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিদেশে থাকলেও খালেদা জিয়া দেশের বিভিন্ন ইস্যুতে কাজ করে গেছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি লন্ডনে থেকেই রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী-অস্থায়ী ও ওআইসিভুক্ত দেশসহ মোট ৫০টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। ১২ সেপ্টেম্বর একই দিনে এ চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বাস্তব অবস্থা নির্ধারণের জন্য জাতিসংঘের অধীনে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থা গঠন, প্রয়োজনে জাতিসংঘের অধীনে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়াসহ ৫ দফার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। পুত্র তারেক রহমান ও পুত্রবধূ জোবায়দা রহমানের সঙ্গে একদিন লন্ডনের একটি শপিং মলে কেনাকাটা করা ছাড়া চিকিৎসার বাইরে আর কোথাও বের হননি খালেদা জিয়া। তিনি পূর্ব লন্ডনের কুইসস্টোন এলাকায় তারেক রহমানের বাসায় অবস্থান করছেন। বাসায় তারেকের স্ত্রী জোবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান রয়েছেন। ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমান, তার দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমানও আছেন সেখানে।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর খালেদা লন্ডনে যান। সেবারও ছেলে, পূত্রবধূ ও নাতি-নাতনিদের সঙ্গে ঈদ করেন তিনি।

Comments

comments

Close