আজ: ২৫ আগস্ট, ২০১৯ ইং, রবিবার, ১০ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৪ জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী, রাত ২:৫৭
সর্বশেষ সংবাদ
বাংলাদেশ, রাজশাহী বিভাগ তিন দশকেও চালু হয়নি বগুড়া বিমানবন্দর

তিন দশকেও চালু হয়নি বগুড়া বিমানবন্দর


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১০/১০/২০১৭ , ৩:৫২ অপরাহ্ণ | বিভাগ: বাংলাদেশ,রাজশাহী বিভাগ


Spread the love

বগুড়া বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্প শুরু হওয়ার পর কেটে গেছে প্রায় ৩০ বছর। এ দীর্ঘ সময়ে কয়েকবার সরকারের পরিবর্তন হলেও বগুড়াসহ আশপাশ জেলাবাসী আকাশপথের সুবিধা আজো ভোগ করতে পারেননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এরশাদ সরকারের আমলে (১৯৮৭ সালের দিকে) বগুড়া সদর উপজেলার বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের এরুলিয়া নামক স্থানে বগুড়া স্টল বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু ওই সরকারের আমলে সে উদ্যোগ বেশি দূর এগোয়নি। ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে (১৯৯১-১৯৯৬) বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদন পায়। সেই সময় এরুলিয়া মৌজায় রানওয়েসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণকাজ শুরু হয়। এ প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ২২ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৯৯৫ সালে ওই এলাকায় ১১০ একর জমি অধিগ্রহণ করে সরকার। জমি কিনতে ব্যয় ধরা হয় ২৮ লাখ টাকা। প্রকল্পে ছিল ৫ হাজার ফুট দীর্ঘ ও ৬ শ’ ফুট প্রস্থ রানওয়ে নির্মাণ, অফিস ভবন নির্মাণ, মূল গ্রাউন্ড নির্মাণ, কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন নির্মাণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ইত্যাদি। এরপর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০০০ সালে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আশা করা হয়। সে হিসেবে ২০০১ সালের শুরুতে বগুড়ার আকাশে বিমান উড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। কিন্তু ওই সময় সরকার বাণিজ্যিকভাবে লোকসনের আশঙ্কায় বিমান সার্ভিস চালু করেনি। বর্তমানে এখানে বিমান বাহিনীর একটি ট্রেনিং স্কুলের কার্যক্রম চালু রয়েছে।


সম্প্রতি বগুড়া বিমানবন্দর চালুর দাবি জোরালো হলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সম্ভাব্যতা যাচাই করে। এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট গত জুন মাসে দেয়া হয় সরকারকে। কিন্তু কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
বগুড়া জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া বিমানবন্দরের বর্তমান রানওয়ের সাথে আরো তিন হাজার ফুট দীর্ঘ রানওয়ে ও তেলের রিজার্ভার নির্মাণ, যাত্রী ও মালামাল হ্যান্ডলিংসহ অন্যান্য সুবিধার জন্য আরো প্রায় এক শ’ একর জমি দরকার। বিমানবন্দরের রানওয়ের পশ্চিমে এ জমি ক্রয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই ভূমির মধ্যে রয়েছে, ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, স্কুল ও মসজিদ। তবে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য এখনো কোনো চিঠি পায়নি জেলা প্রশাসন।
বগুড়া বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বগুড়ার চারতারকা হোটেল নাজ গার্ডেনের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মো: শোকরানা বলেছেন, বগুড়া উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র। এখানে বিমানবন্দর না থাকায় ইতোমধ্যে ‘এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন’ চট্টগ্রামে চলে গেছে। বর্তমানে বগুড়ার সাথে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক। এ ছাড়া সহজ রেলপথও নেই। তাই ভৌগোলিক, ব্যবসায় বাণিজ্যসহ নানা কারণে বগুড়ায় দ্রুত বিমানবন্দর চালু করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বগুড়া জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও এনডিসি এস এম জাকির হোসেন জানান, ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া যায়নি।

Share

Comments

comments

Close