আজ: [english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ
নারী ও শিশু, প্রধান সংবাদ বগুড়ায় বখাটের উত্ত্যক্তে আরও এক ছাত্রীর আত্মহত্যা

বগুড়ায় বখাটের উত্ত্যক্তে আরও এক ছাত্রীর আত্মহত্যা


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: 10/10/2017 , 4:04 pm | বিভাগ: নারী ও শিশু,প্রধান সংবাদ



বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় বখাটেদের অত্যাচারে ‘আত্মহননের’ পথ বেছে নিল আরও এক স্কুলছাত্রী। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার মোস্তফাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মিলি খাতুন।

মিলি খাতুন

এর আগে গত রোববার দুপুরে একই পরিস্থিতিতে আত্মহত্যা করে মোস্তফাপুর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরের জিয়ানগর গ্রামের নবম শ্রেণির ছাত্রী রাজিফা আকতার সাথী। মিলির মা বেলি খাতুন এ ঘটনায় একই গ্রামের বখাটে বুলু মণ্ডল (৩৮) ও তার সহযোগী ছদরুল ফকিরকে (৩৬) আসামি করে মামলা করেছেন। তার ধারণা, বখাটেরা তার অনুপস্থিতিতে বাড়িতে এসে হয়তো মিলিকে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে গেছে। পুলিশ অভিযুক্ত দুই বখাটেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি।

কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ঘটনার পর থেকেই আসামিরা পালিয়ে আছে। পুলিশ ও গ্রামবাসীর কাছ থেকে জানা গেছে, স্থানীয় একটি কেবল অপারেটর সংস্থার লাইনম্যান আবদুর রশিদের মেয়ে মিলি খাতুনকে একই গ্রামের দুই সন্তানের পিতা বুলু মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করত। একই গ্রামের আবুল ফকিরের ছেলে ছদরুল ফকির তাকে সহযোগিতা করত।

মিলি খাতুনের মা বেলি খাতুন  বলেন, বখাটেপনার প্রতিবাদ করায় বুলু মণ্ডল কয়েকদিন আগেও তার মেয়েকে বেধড়ক পিটিয়েছিল। এতে মিলির নাকমুখ দিয়ে রক্ত বের হয় এবং সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বুলু মণ্ডল প্রভাবশালী হওয়ায় ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে তিনি কোথাও নালিশ করার সাহস পাননি। মিলির মা জানান, তার মেয়ে মিলি সোমবার স্কুলে না গিয়ে বাড়িতেই ছিল। দুপুরের দিকে বুলু মণ্ডল বারবার মোবাইল ফোনে তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে। তিনি বলেন, ‘ওই দিন বিকেল ৫টার দিকে বুলু মণ্ডল আমাদের বাড়ি থেকে একটু দূরে একটি বাঁশঝাড়ের কাছে এসে আবারও আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। আমি তখন আমার মেয়েকে চুপ থাকতে বলি। পরে দোকান থেকে কেরোসিন তেল আনতে যাই। সন্ধ্যার একটু আগে এসে দেখি ঘরের দরজা খোলা এবং ভেতরে গলায় ওড়না দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় আমার মেয়ের লাশ ঝুলছে।’ তিনি জানান, মিলিকে হয়তো বখাটেরা হত্যার পর এভাবে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে গেছে। মোস্তফাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামিম হোসেন জানান, মিলি খাতুন খুব শান্ত স্বভাবের মেয়ে ছিল।

দুপচাঁচিয়া থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক জানান, ‘আমরা পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখব। আসামিদের গ্রেফতার করতে পারলেই সবকিছু আরও পরিষ্কার হবে।’

এর আগে স্কুলছাত্রী সাথী আত্মহত্যা করার পর মামলা হলে পুলিশ অভিযুক্ত বখাটে যুবক হুজাইফা ইয়ামিনকে (২০) গ্রেফতারের জন্য জিয়ানগরে অভিযানে যায়। তখন ওই বখাটের পক্ষের লোকজনের হামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন। হামলাকারীরা পুলিশের একটি ওয়াকিটকি ছিনিয়ে নেয়, যা এখনও উদ্ধার হয়নি। হামলার অভিযোগে ২৬ জনকে গ্রেফতার করা হলেও এখনও বখাটে ইয়ামিন গ্রেফতার হয়নি। 

Comments

comments

Close