আজ: ২৪ জানুয়ারি, ২০১৯ ইং, বৃহস্পতিবার, ১১ মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৮ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী, রাত ১২:০২
সর্বশেষ সংবাদ
উপমহাদেশ, প্রধান সংবাদ বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গা প্রবেশের ঢল , একদিনেই ৫০ হাজার অনুপ্রবেশ

বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গা প্রবেশের ঢল , একদিনেই ৫০ হাজার অনুপ্রবেশ


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১০/১৬/২০১৭ , ১১:১৬ অপরাহ্ণ | বিভাগ: উপমহাদেশ,প্রধান সংবাদ


Spread the love
Spread the love

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন চলছেই। মাঝখানে কিছুদিন বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ খানিকটা কম ছিল। কিন্তু গতকাল সোমবার হঠাত্ করে আবারো রোহিঙ্গা ঢল নামে। গতকাল দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় অর্ধলক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। আগতরা বলছেন, তাদের ওপর নির্যাতন ও বাড়িঘর পোড়ানো বন্ধ হয়নি। আর খাদ্য সংকট দীর্ঘস্থায়ী করতে খাবারের দোকান পোড়ানো ও ত্রাণ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। তাদেরকে বর্মী ভাষায় ‘বাঙালি’ লেখা কার্ড জোর করে নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। সেনারা বন্দুক তাক করে রোহিঙ্গাদের দেশ ছাড়তে বলছে। নইলে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিচ্ছে।

এরকম বাস্তবতায় পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা বোঝাই একটি নৌকাডুবি হয়েছে। কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের কাছে ইঞ্জিনচালিত নৌকাডুবির ঘটনায় ১১ নারী ও শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে গত দুই মাসে ২৬টি নৌকাডুবির ঘটনায় ১৮২ জনের লাশ উদ্ধার করা হলো।

এ প্রেক্ষাপটে বলা যায় জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের চাপে মিয়ানমারের কার্যত সরকার প্রধান অং সান সু চির পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশ্বাসের প্রতিফলন নেই রাখাইন রাজ্যে।

এদিকে চীনের রাষ্ট্রপরিচালিত গণমাধ্যম দ্য গ্লোবাল টাইমস এক প্রতিবেদনে বলেছে, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টায় চীন ও ভারত যৌথভাবে নেতৃত্ব দিতে পারে। সমস্যাপীড়িত রাখাইন রাজ্যে মানবিক ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর প্রস্তাবের মধ্যে দিয়ে এর সমাধান হতে পারে। মিয়ানমারে বেইজিং ও নয়াদিল্লির স্বার্থ বজায় রেখে, দেশ দুটি রাখাইনে ত্রাণ পাঠাতে, বাংলাদেশকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পুনর্বাসনে এবং মিয়ানমারের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে সহায়তা দিতে পারে।

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, গতকাল সীমান্তের নাফনদী পেরিয়ে আনজিমানপাড়া দিয়ে আসা রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন শিবিরে। সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থিদের হিংসাত্মক আচরণে বুথিডংয়ের ১৪টি গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভোরের দিকে দলে দলে ক্ষুধার্ত, নিঃস্ব ও ভীতসন্ত্রস্ত রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ছোট ছোট সন্তানদের শরীরের সঙ্গে বেঁধে কোমরসমান পানি ও ঝোপঝাড় মাড়িয়ে এবং তীব্র প্রতিকূল স্রোত অতিক্রম করেছে তারা। এভাবে কয়েকদিন হেঁটে তারা গতকাল ভোরে বুথিডং থেকে বাংলাদেশে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মনে হচ্ছিল কখনো শেষ হবে না এমন একটি সারি বাংলাদেশের পালংখালীতে পৌঁছেছে। এদের বেশিরভাগই আহত। বয়স্কদের বয়ে আনা হয় কাঁধে করে। নারীদের মাথায় ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন: পাত্র, চালের বস্তা এবং কাপড়চোপড় দেখা গেছে।

নয়ংশপাড়া গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ ফয়েজ উল্লাহ (৪৮) জানান, কয়েকদিন আগে বর্মী সেনা ও রাখাইন যুবকরা মাদ্রাসাটি দখল করে নেয়। তারা সেখানে ক্যাম্প স্থাপন করে। ওই ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের ডাকা হচ্ছে। তারপর বর্মী ভাষায় বাঙালি লেখা কার্ড নেওয়ার জন্য জোর জবরদস্তি করছে। সামরিক বাহিনীর নয়া কৌশল অনুমান করতে পেরে শিক্ষিত রোহিঙ্গারা কার্ড গ্রহণ করেনি। ক্ষিপ্ত হয়ে বর্মী সেনাবাহিনী গ্রামে গ্রামে গিয়ে গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি, ধান চাল লুট করছে।

মুরাপাড়া গ্রাম থেকে পালিয়ে এসে আনজিমানপাড়া বেড়িবাঁধে ৯ সদস্যের পরিবার নিয়ে বসে ছিলেন মোঃ মিয়া (৫৮)। তিনি জানান, মিয়ানমার সেনারা বাড়িঘরের মালামাল লুটপাট করছে। বিতরণ করছে সাদা কার্ড। বন্দুক তাক করে রাতারাতি দেশ ত্যাগ করার নির্দেশ দিচ্ছে। ভয়, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার কারণে বুথিডংয়ের বাপিডিপো, নাইছাদং, চিংদং, লাউয়াদং, নয়াপাড়া, চান্দেরবিল, লম্বাবিল, জংমং ও প্রংফোপাড়াসহ ১৪টি গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ বাংলাদেশে এসেছে। তারা ছয় দিন পাহাড়, জঙ্গল, খাল ও ছড়া পেরিয়ে সোমবার ভোররাতে নাফনদীর এপারে চলে আসে।

অং সান সু চি সমপ্রতি মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, যারা মিয়ানমারের অধিবাসী বলে প্রমাণ দেখাতে পারবে সেসব শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেবেন।

Share

Comments

comments

Close