আজ: ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, শনিবার, ১২ ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ৯ জমাদিউস-সানি, ১৪৩৯ হিজরী, বিকাল ৫:৫৫
সর্বশেষ সংবাদ
রাজনীতি বাঙলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বহিষ্কার

বাঙলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বহিষ্কার


পোস্ট করেছেন: News Desk | প্রকাশিত হয়েছে: ১০/২৫/২০১৭ , ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: রাজনীতি


মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান অনিককে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বাঙলা কলেজের ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শুভ্রা মাহমুদ জ্যোতিকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ তাকে বহিষ্কার করা হয়।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন শাহাজাদা রাত সাড়ে ১২টায় এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘সংগঠনের নিয়ম শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মঙ্গলবার রাতেই তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

মজিবুর রহমান অনিকের বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ এস এম জাকির হোসাইন বলেন, ‘সংগঠনের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় তাকে সংগঠনে রাখার কোনো সুযোগ নেই। সেই হিসেবে অনিককে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান অনিকের বিরুদ্ধে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ এনেছেন একই কলেজের ছাত্রলীগের সহসভাপতি শুভ্রা মাহমুদ জ্যোতি। অভিযুক্ত অনিক ছাত্রলীগের কাফরুল থানার নেত্রী ও মিরপুর বাঙলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্সের ছাত্রী ফাতেমাতুজ জোহরা বৃষ্টির আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলারও এজহারভুক্ত ২নং আসামি।

শুভ্রা অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার সকালে অনিক ১০-১৫ জন নেতাকর্মীকে নিয়ে মিরপুরের দারুস সালাম এলাকায় তার ফ্ল্যাটে যান। সেখানে তারা তাকে বেধড়ক মারধর করেন। পরে সেখান থেকে দারুস সালাম থানায় নিয়ে তাকে দীর্ঘ চার ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।

এর আগেও একবার অনিকের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনেছিলেন ছাত্রলীগ নেত্রী শুভ্রা। ওই ঘটনায় মামলাও দায়ের করা হয়।

মারধরের কারণ জানতে চাইলে শুভ্রা বলেন, ‘অনিকের সঙ্গে ইডেন কলেজের এক ছাত্রীর প্রেম ছিল। ওই মেয়েকে বিয়ের কথা বলে অনিক তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। একটা সময় এনিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হলে ওই তরুণী অনিকের নামে মামলা করতে চায়। তখন তার পরিবার বাধা দেয়। পরে মেয়েটি দুদিন আগে আমার বাসায় এসে আশ্রয় নেয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘মেয়েটিকে নিয়ে সোমবার আমরা লালবাগ থানায় মামলা করতে যাই। থানা থেকে বলা হয়, মিরপুর থানায় গিয়ে মামলা করতে। মিরপুর থানায় গেলে তারা অভিযোগ পেয়ে অনিককে ধরতে তার বাসায় যায়। সেখান থেকে ফিরে পুলিশ জানায়, এটা তাদের থানার অধীনে পড়েনি, দারুস সালাম থানায় মামলা করতে হবে।’

শুভ্রা বলেন, ‘তখন আমরা আদালতে গিয়ে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু তার আগেই অনিক খবর পেয়ে নেতাকর্মী ও পুলিশ নিয়ে আমার বাসায় এসে আমাকে মারধর করে। আমি বাম কানে শুনতে পাচ্ছি না। এখন চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘এর আগে ২০১৫ সালেও একবার অনিক আমাকে মারধর করেছিল। বেশ কিছুদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। ওই ঘটনায় মিরপুর থানায় মামলাও হয়েছে।’

তবে শুভ্রাকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে মজিবুর রহমান অনিক বলেন, ‘শুভ্রা আমার কলেজের ছোটবোন। আমি কেন তাকে মারধর করতে যাব। আর ইডেন কলেজের যে মেয়ের কথা বলা হচ্ছে তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্কই নেই। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম-উজ জামান বলেন, ‘ইডেন কলেজের ওই ছাত্রীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তারই এক ভাই অভিযোগ করেন যে ওই ছাত্রী শুভ্রার বাসায় আছে। পরে আজ শুভ্রার বাসায় পুলিশ গিয়ে ওই ছাত্রীসহ চারজনকে দেখতে পায়। পরে তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়।’

তিনি বলেন, ‘ওই ছাত্রীকে তার বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্য কিছু ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। তা ছাড়া শুভ্রা থানায় কোনো মারধরের অভিযোগ করেননি।’

Comments

comments

Close