আজ: ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, শুক্রবার, ১১ ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ৮ জমাদিউস-সানি, ১৪৩৯ হিজরী, বিকাল ৪:৪৫
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয়, প্রধান সংবাদ মায়ের সম্মতিতে নুসরাতকেও হত্যা করে প্রেমিক শাহীন

মায়ের সম্মতিতে নুসরাতকেও হত্যা করে প্রেমিক শাহীন


পোস্ট করেছেন: News Desk | প্রকাশিত হয়েছে: ১১/০৪/২০১৭ , ৫:৫৮ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: জাতীয়,প্রধান সংবাদ


রাজধানীর বাড্ডায় জামিল শেখ ও তার মেয়ে নুসরাত হত্যাকাণ্ডে স্ত্রী আরজিনা বেগম ও তার কথিত প্রেমিক শাহীন মল্লিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে জামিলকে হত্যা করেন। তবে ঘটনাটি দেখে ফেলায় শিশু নুসরাতকেও হত্যা করেন শাহীন। তবে এতে সায় ছিল নুসরাতের মা আরজিনা বেগমের।

শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ এ সব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, জামিল-আরজিনা দম্পতি ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বাড্ডায় একটি ভবনের নিচতলায় ভাড়া থাকতেন। একই বাড়িতে স্ত্রী মাসুমাকে নিয়ে তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন শাহীন। মাসুমা সারাদিন অন্যের বাসায় কাজ করতেন। জামিল ছিলেন গাড়িচালক। ফলে আরজিনা ও শাহীন দু’জনই প্রায় সারাদিন বাসায় থাকতেন। সে সুযোগে তাদের মধ্যে নৈকট্য হয়। শাহীন বিভিন্নভাবে প্রশংসা করায় তার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে আরজিনা। কয়েকদিন পর ওই বাড়ি ছেড়ে জামিল ও আরজিনা ময়নারবাগের ৩০৬ নম্বর বাড়ির ছাদের একটি ছোট ফ্ল্যাট ভাড়া নেন।
নতুন বাসায় এসেও শাহীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন আরজিনা। নিয়মিত তার সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন। শাহীনকে কাছে পেতে নতুন কৌশল অবলম্বন করেন আরজিনা। সংসারের খরচ কমানোর কথা বলে শাহীনের পরিবারকে সাবলেট দেয়ার পরামর্শ দেন স্বামী জামিলকে। পূর্বপরিচিত হওয়ায় শাহীন ও তার স্ত্রীকে তিন হাজার টাকায় সাবলেট দেন জামিল।

নতুন বাসায় এসে আরজিনা ও শাহীনের সম্পর্ক আরও গভীর হতে শুরু করে। এক পর্যায়ে আরজিনা জামিলকে তালাক দিয়ে শাহীনের কাছে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে শাহীন তাকে তালাক না দেয়ার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে দুইজন মিলে জামিলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

বুধবার রাতে একই বিছানায় ঘুমান জামিল, আরজিনা, নুসরাত ও তার ছোট ভাই। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আরজিনা ঘরের দরজা খুলে রেখে ঘুমান। পরে শাহীন বাড়ির নিচ থেকে একটি কাঠের টুকরা নিয়ে ঘরে ঢুকে জামিলের মাথায় আঘাত করেন। প্রথম আঘাতের পর জামিল উঠে যায় এবং জিজ্ঞেস করে কেন তাকে আঘাত করা হল। এরপর শাহীন কোনো কথা না বলে আরও কয়েকবার আঘাত করে তাকে হত্যা করেন।

এ সময় ঘুম থেকে জেগে ওঠে নুসরাত। সে শাহীনের কাছে বাবাকে হত্যার কারণ জানতে চায় এবং চিৎকার করে কান্নাকাটি করতে থাকে। তখন নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করেন শাহীন। এতে প্রথমে আরজিনা রাজি না হলেও পরে বিপদে পড়ার আশঙ্কায় মেয়েকে হত্যায় সম্মতি দেন। পরে নুসরাতকে বিছানায় গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করেন শাহীন। তখন নুসরাত চিৎকার করায় মুখে বালিশ চাপা দিয়ে মারা হয়।

জামিল ও নুসরাতকে হত্যার পর ছাদে শাহীন ও আরজিনা সিদ্ধান্ত নেন, কেউ জানতে চাইলে বলবেন ডাকাতরা জামিল ও তার মেয়েকে হত্যা করেছে। এছাড়া ডাকাতরা যাওয়ার সময় তাকে ধর্ষণ করেছে বলেও দাবি করবেন আরজিনা। পরিকল্পনা অনুযায়ী সারারাত ছাদের সিঁড়ির সামনে মুখ গোমড়া করে বসে থাকেন আরজিনা। পরদিন সকালে পুলিশ গিয়েও তাকে সিঁড়ির সামনে বসে থাকতে দেখেন। তবে ওই রাতেই স্ত্রী মাসুমাকে নিয়ে খুলনায় পালিয়ে যান শাহীন।

ডিসি আরও জানান, এ ঘটনা তদন্তে আশপাশের অনেকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা শিশুও কিছু তথ্য দিয়েছে। সব মিলে এ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এই দুইজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তাদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

গত বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার ময়নারবাগের ৩০৬/পাঠানভিলার তৃতীয় তলায় ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় বাবা জামিল শেখ (৩৮) ও মেয়ে নুসরাত জাহানের মরদেহ। নিহত জামিলের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের করপাড়া ইউনিয়নের বনপাড়া গ্রামে। তিনি তেজগাঁওয়ে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক ছিলেন। পাঠান ভিলার তৃতীয় তলায় দুই কক্ষ ভাড়া নিয়ে পরিবার নিয়ে থাকতেন তিনি। গত কোরবানির ঈদের পর স্ত্রী আরজিনা (৩০), মেয়ে নুসরাত (৭) ও ছেলে আলফিকে (৩) নিয়ে ওই বাসায় ওঠেন জামিল।

Comments

comments

Close