আজ: ১৭ জুলাই, ২০১৮ ইং, মঙ্গলবার, ২ শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৫ জিলক্বদ, ১৪৩৯ হিজরী, রাত ৯:৪৫
সর্বশেষ সংবাদ
চিত্র বিচিত্র, ভিডিও ফুটেজ বিশ্বের সবথেকে রহস্যময় বই নেক্রোনমিকন

বিশ্বের সবথেকে রহস্যময় বই নেক্রোনমিকন


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১১/০৫/২০১৭ , ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: চিত্র বিচিত্র,ভিডিও ফুটেজ



বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় বইটি ঠিক কোথায় আছে, কেউই তা বলতে পারেন না। কিন্তু একটি বিশেষ মহলের ধারণা, বইটি আছে। বিংশ শতকের শুরুর দিকে খ্যাতনামা মার্কিন লেখক এইচপি লাভক্র্যাফ্ট বইটিকে নিয়ে সরব হন। তার অসংখ্য গল্পে তিনি এই বইয়ের কথা লিখতে শুরু করেন। বইটির নাম ‘নেক্রোনমিকন’।

 

জানা যায়, বইটি আরবি ভাষায় লেখা। পরে এর গ্রিক অনুবাদ ইউরোপের রহস্যবাদী কাল্টগুলোর হাতে পৌঁছে।

 

ধারণা করা হয়, ‘নেক্রোনমিকন’র লেখক আবু আলি আল-হাসান নামে জনৈক আরব। তাকে দামাস্কে ‘আরব আবদুল’ বলে ডাকা হতো। ইউরোপে তিনি ‘দ্যা ম্যাড অ্যারাব’ নামেই পরিচিত ছিলেন। তার আসল পরিচয় আজও জানা যায়নি। তবে অনুমান করা হয়, ৮২৭ সালের দিকে আরব আবদুল জীবিত ছিলেন। ‘ইরাম’ নামে কোনো এক গোপন শহরে ১০ বছর থেকে তিনি গুপ্তবিদ্যার শিক্ষা নেন। তারপর ‘আজিফ’ ছদ্মনামে এই বইটি লেখেন।

 

বইটিতে কি আছে, তা কারো কাছেই স্পষ্ট নয়। তবে লাভক্র্যাফ্টসহ অসংখ্য সাহিত্যিক মনে করেন, এই বই কালোজাদুর এক খনি। এতে পিশাচ-জাগরণের পদ্ধতি থেকে শুরু করে মৃতকে জীবিত করার উপায় পর্যন্ত বর্ণিত রয়েছে। যে ব্যক্তি এই বইটি পড়ে ফেলতে পারবেন, মহাজগতের সব রহস্য তার হাতের মুঠোয়।

 

 

মধ্যযুগে ইউরোপে যখন ডাকিনীবিদ্যার চর্চা তুঙ্গে, তখন ‘নেক্রোনমিকন’ নিয়ে পাগলামি বিপুলভাবে দেখা দেয়। অসংখ্য মানুষ সন্ধান করতে থাকেন বইটির। তাল বুঝে বেশ কিছু নকলনবিশ ‘নেক্রোনমিকন’ নাম দিয়ে কল্পিত বই বাজারে ছাড়তে শুরু করে। অসংখ্য নকল ‘নেক্রোনমিকন’এ ভরে যায় ইউরোপের বইয়ের বাজার।

 

১৯২৭ সালে লাভক্র্যাফ্ট ‘নেক্রোনমিকন’কে নিয়ে একটি কল্প-ইতিহাস লেখেন। ১৯৩৮ সালে তা প্রকাশিত হলে তুমল হইচই পড়ে যায় পাশ্চাত্যে। এরপর থেকে মাঝে মাঝেই এই বইয়ের কথিত খণ্ডাংশ, কল্পিত টীকাভাষ্য ইত্যাদি প্রকাশিত হতে শুরু করে। গুজব ছড়ায় জারতন্ত্রী রাশিয়ার কুখ্যাত জাদুকর রাসপুটিন, নাৎসি নেতা হিমলার, এমনকি স্বয়ং হিটলারও একটি করে কপি হস্তগত করেছিলেন। তবে লাভক্র্যাফ্টের মতে, কোনোদিনই পুরো বইটিকে কেউ চোখে দেখেনি।

 

আজও অসংখ্য মানুষ বিশ্বাস করেন, কোথাও না কোথাও ‘নেক্রোনমিকন’ রয়েছে। যিনি একে পড়ে ফেলতে পারবেন, তার হাতেই আসবে পৃথিবী শাসনের অগাধ ক্ষমতা।

 

Comments

comments

Close