আজ: [english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ
বিনোদন গেইম রিটার্নস: মন্দের ভালো

গেইম রিটার্নস: মন্দের ভালো


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: 11/08/2017 , 3:06 pm | বিভাগ: বিনোদন



পরিচালক: রয়েল খান
অভিনয়ে: নিরব, তমা মির্জা, লাবন্য, মিশা সওদাগর, সোহেল সিরাজী, ডন
রেটিং: ২/ ৫

 

‘সিকুয়েল’ যুগের চাহিদা। সারা বিশ্বেই জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের সিকুয়েল হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বাংলাদেশে মুক্তি পেল ২০১৫ সালের প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি গেইম-এর সিকুয়েল গেইম রিটার্নস। কিন্তু নিরব, অমৃতা খান অভিনীত গেইম কতটুকু সফল কিংবা আলোচিত ছবি ছিল, আদৌ সে ছবিটির নাম দর্শকের মুখে মুখে ফিরেছে কিনা কিংবা গেইম-এর সিকুয়েল দেখার জন্য দর্শক অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছে কিনা-গবেষণার বিষয়। তাছাড়া খেলার প্রত্যাবর্তন অর্থাৎ গেইম রিটার্নস দেখবার পর ছবির নামকরণের সার্থকতাও খুঁজে পাইনি। কোন খেলাধুলার প্রত্যাবর্তন বোঝানো হয়েছে? মরণ খেলা? যারা গেইম দেখেনি, তারা কি করে বারংবার ‘মায়া ইজ ব্যক’ সংলাপের মর্মার্থ বুঝতে পারবে? সুতরাং বক্স অফিসে ব্যর্থ কিংবা অনালোচিত একটি ছবির নাম নিয়ে সিকুয়েল না করে এ ছবির নাম ভিন্ন হতে পারতো। আমি আমজনতার দৃষ্টিকোণ থেকে চলচ্চিত্র দেখতে পছন্দ করি। যুক্তি-তর্ক শিঁকেয় তুলে হৈ হুল্লোড় করে দেশের চলচ্চিত্র উপভোগ করার চেষ্টা করি। তারপরও কিছু খটকা চোখ এড়ানো যায়না। আমি যতদূর শুনেছি ছবির নাম গেইম রিটার্নস। কিন্তু ঢাকার পূরবী হলে ছবির ব্যনার দেখে জানলাম ছবির নাম গেইম রিটানর্স। ‘রিটানর্স’ শব্দের অর্থ নির্মাতারা বুঝিয়ে দিলে নতুন কিছু শিখতে পারতাম। আফসোস, এত বড় ভুল কারো চোখেই পড়লোনা!

শুরুতেই স্বীকার করে নেই, সমালোচনার প্রারম্ভে ছবি নিয়ে নেতিবাচক কথা বললেও আমি বাংলা ছবির খুঁত ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখতেই ভালোবাসি। গেইম রিটার্নস দেখতে গিয়ে নিউজিল্যন্ডের ছবি কন্ট্র্যক্ট কিলার্স (২০১৪)-এর সাথে কিছুটা মিল খুঁজে পেলেও মনকে বারবার প্রবোধ দিয়েছি, হয়তো শেষ পর্যন্ত দেশীয় চলচ্চিত্রের নিয়মিত দর্শকদের জন্য বিনোদনমূলক একটি চলচ্চিত্রই পাবো। ছবির গল্প অনেকটা এরকম: খুন করা নিরবের নেশা, পেশা নয়। তারপরও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে মিশা সওদাগরের অফিসে ভাড়াটে খুনির পদবী নিয়ে বহাল তবিয়তে দিন কাটান তিনি। এ ক্ষেত্রে তার ছায়াসঙ্গী নতুন নায়িকা লাবণ্য; যিনি ৯ বছর ধরে নিরবের সঙ্গে কাজ করেন, ভালোবাসেন। যদিও বন্দুক, বুলেটের আড়ালে এই ভালোবাসা কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে থাকে। এই সুযোগে নিরবের জীবনে প্রবেশ করেন আরেক নায়িকা তমা মির্জা। বর্তমানে যার বেঁচে থাকার একটাই উদ্দেশ্য, রাজকীয়ভাবে আত্মহত্যা করা। খুব অল্প সময়ের মধ্যে নিরব লাবণ্যকে বাই পাস করে তমা মির্জার মনের মঞ্জিলে প্রবেশ করেন। অতঃপর অপরাধ জগতকে সাময়িকভাবে বিদায় ঘোষনা দিয়ে নতুন জীবন শুরু করেন। যদিও পরবর্তীতে অনাকাঙ্খিত এক ঘটনার কারণে আবারো খুনখারাবির খেলায় মেতে উঠতে বাধ্য হন তিনি।

গল্পের স্তম্ভ ঠিক আছে। তবে গাঁথুনি নড়বড়ে। সংলাপ দিয়ে মচমচে করবারও সুযোগ পাননি পরিচালক রয়েল খান। তবে এ সময়ের দর্শকদের জন্য নির্মাতার যুগোপযোগী করে নির্মাণের চেষ্টা চোখে পড়েছে। ছবির প্রতিটি চরিত্রের বর্ণনা করা হয়েছে গ্রাফিক্সের মাধ্যমে। উদ্যোগ ভালো। কিন্তু খরগোশের চেয়েও অতি দ্রুত এবং পিঁপড়ার চেয়েও অতি ক্ষুদ্র লেখা দর্শকদের মাঝে কোনো আবেদন তৈরি করতে পারেনি। প্রধান চরিত্র মায়ার নেশা খুন করা, পেশা নয়। কিন্তু কেন? পেছনের কোনো অর্থবহ গল্প দেখানো যেতো। যদিও এ ছবিতে মিশা সওদাগর শুরুতেই আমাদের অবগত করেছেন, ‘মানুষ তার মৃত্যু নিয়ে খুবই আতঙ্কিত। আর সে আতঙ্কের সুযোগেই আমরা মৃত্যু নিয়ে বিজন্যস করি। যাকেই আপনি দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে চান না কেন, নো প্রবলেম, আমাদের কাছে আসুন’। তারপরও ছবিতে মিশা সওদাগরের স্যুট, টাই পড়া গেটআপ দেখে মূলত তিনি কোন অফিসে চাকরী করেন, সমাজে তার অবস্থান কোথায়-স্পষ্ট নয়। পায়েল (তমা মির্জা) কেন এ পৃথিবী ত্যাগ করতে চান, সে গল্প আরো শক্তিশালী হতে পারতো। তাছাড়া যে মায়ার নিঃশ্বাসে বিশ্বাসে শ্বাস প্রশ্বাসে খুনখারাবির নেশা, সে কেন এত অল্প সময়ের মধ্যে দুর্বল এক প্রেম কাহিনির শিকার হয়ে অপরাধজগতকে ইস্তফা দেয়ার ঘোষনা দিলেন, এ গল্পটিও আরো শক্তিশালী হতে পারতো। প্রেমিকাকে চিরতরে হারিয়ে সে হত্যারই প্রতিশোধ নিতে গিয়ে কেন আবার এক তরফা প্রেমের (প্রেমিকা শায়না) কাছে গিয়েই অবলীলায় মন দিয়ে দিলেন, বিশ্বাসযোগ্য নয়। খুব বেশি দূরে নয়, আমাদের পাশের দেশেরই অতি সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া গাজনী, এক ভিলেন, বাদলাপুর, কাবিল ছবিগুলোতেও দেখেছি প্রেমিকা কিংবা স্ত্রী হত্যার প্রতিশোধ নিতে গিয়ে প্রেমিক কিংবা স্বামী প্রতিশোধের খেলায় মেতে ওঠেন। প্রতিশোধ পর্ব শেষ। গল্পও শেষ। কিন্তু গেইম রিটার্নস ছবিতে নায়কের যার জন্য এত খেলা, তাকে পল্টি দিয়ে নতুন এক প্রেমের ম্যচ ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি মায়ার চরিত্রটিকে ব্যক্তিত্বহীন করে তুলেছে। আমরা প্রায়ই দর্শকদের বোকা ভেবে অনেক কিছু দেখাই। যেমন: এ ছবিতে মায়া পায়েলকে নিয়ে যখন নিজের ঘরে আসেন, নিজেকে অগোছালো-ছন্নছাড়া প্রমাণ করার জন্য সোফা ঝাড়েন। দর্শকরা যাতে নিজ দায়িত্বে ধুলো পড়া নায়কের বাস্তবতা বুঝে নেন। তবে আমার পাশে বসা দিনমজুর দর্শকও হাসতে হাসতে বলছিল, দ্যাখেন ময়লা নাই, পাউডার ফালাইয়া রাখছে। হি হি হি। ধুলো বোঝাতে পাউডার বিছিয়ে রাখা যেতেই পারে। তবে দর্শকদের কাছে যেন এসব বিষয়গুলো বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়, এ ব্যাপারে নির্মাতার সজাগ দৃষ্টি থাকা প্রয়োজন। যুক্তির জায়গাগুলো আরো বেশ কিছু জায়গায় ফিকে হয়েছে, তবে সেসব দেখেও না দেখার ভান করেছি। গেইম ছবিতে মায়ার সংলাপ ‘অস্ত্র নয়, গেইম খেলতে হয় ব্রেইন দিয়ে’ হাত তালি কুড়িয়েছিল। গেইম রিটার্নস ছবিতে শিস কিংবা তালি পাবার মত কোনো সংলাপ না পাওয়া গেলেও হাত তালি পেয়েছে বেশ কিছু দৃশ্য। বিরতির দৃশ্যটি তো বটেই, এছাড়াও যে দৃশ্যে মাটির ভেতর থেকে মায়া তার গুপ্তধন বের করেন, সে দৃশ্যে দর্শক মুহূর্মুহু তালি দিয়েছে। ভাড়াটে খুনি শায়নার অস্ত্র ধরার স্টাইল এবং অঙ্গভঙ্গি-ও অনেক দর্শকের হৃদয়ের শিহরণ জাগিয়েছে।

এ ছবির চিত্রগ্রহণ, আবহ সংগীত, শব্দগ্রহণ, শিল্প নির্দেশনা, নৃত্য পরিচালনা নিয়ে বিশেষ কিছু বলবার নেই। কমেডির অবকাশ ছিলনা। অ্যকশন গড়পড়তা ছবির চেয়ে ভালো। তবে শেষ অ্যকশন দৃশ্যে নায়িকার শরীরের ওপর খল চরিত্রের জুতা রাখার দৃশ্যটি অতি ভায়োলেন্স মনে হয়েছে। চলচ্চিত্র থেকে সবসময়ই শিখতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। সমাজ বদলের হাতিয়ারও সব চলচ্চিত্র নয়। তবে চলচ্চিত্রে এমন কিছুও থাকা উচিত না, যা সমাজে বৈরী পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এ ছবির সম্পাদনা আরো ধারালো হতে পারতো। অল্প সময়ের ব্যবধানে অতিরিক্ত গানের ব্যবহার দর্শকদের বিরক্ত করেছে, গল্প থেকে মনোযোগ সরিয়ে এনেছে। তবে ছবির শেষ ৫১ মিনিট অনেক দর্শককেই দেখেছি উত্তেজনায় বুঁদ হয়ে থাকতে। এরপর কি হবে-এ ধরনের উদ্বেগ তৈরি করা গেছে ছবির শেষ ভাগে।

গানের ক্ষেত্রে গেইম রিটার্নস’কে সফল বলা যায়। ছবির ৫টি গানের মধ্যে ‘এক চোখে তুমি’ (আরেফিন রুমী-শেনিজ) বেশ ভালো। ‘ভালোবেসে তোকে’ (বেলাল খান-উপমা) এবং ‘মনের মঞ্জিল’ (আরেফিন রুমী-দিনাত জাহান মুন্নী)-ও শ্রুতিমধুর। ‘ভালোবাসা গেছে বেড়ে’ (বেলাল খান-উপমা) এবং আইটেম গান আমজনতাকে চাঙ্গা রেখেছে। শিল্পী, গীতিকার, সুরকার যতœ নিয়েই কাজ করেছেন। তবে ছবির টাইটেল কার্ডে এবং ট্রেলারে ধ্রুব গুহ এবং ন্যান্সির নাম দেখেছি। তারা এ ছবির কোন গানটি গেয়েছেন, স্পষ্ট নয়।

গেইম রিটার্নস ছবির মূল কান্ডারী চিত্রনায়ক নিরব। ‘মায়া’ চরিত্রটি যে তাকে ভেবেই লেখা হয়েছে বিলক্ষণ বোঝা গেছে। নিরবও বেশ আন্তরিকতার সাথে তার দায়িত্ব পালন করেছেন। ২/১টি দৃশ্য বাদ দিলে নিরব পুরোটা সময় জুড়েই তার চরিত্রে ছিলেন। অভিব্যক্তি কিছু জায়গায় একই মনে হলেও ‘মায়া’ যে রাফ এন্ড টাফ পৌরুষদীপ্ত অ্যকশন হিরোর চরিত্র-নিরব বুঝেছেন। এ কারণেই তিনি যখন বলেন, প্রতিশোধ নিতে হবে। দর্শকও তার সঙ্গে এ যাত্রায় সওয়ারী হন। অ্যকশনে তো বটেই, নাচেও আগের চেয়ে বেশ এগিয়ে নিরব। গেইম রিটার্নস দেখে এটি বুঝলাম, আমাদের তারকাদের আসলে যথাযোগ্য স্কুলিং এবং সুযোগের অভাব। বলিউডে র‌্যম্প থেকে আসা অর্জুন রামপাল, জন আব্রাহাম, দিনো মোরিয়াদের অভিনয়কেও শুরুতে তুলোধুনো করা হতো। অথচ পরবর্তীতে এই অর্জুন রামপালরাই পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। আমরা বলি আমাদের দেশে অভিনয়শিল্পী নেই। এ কারণে আমরা বিদেশী শিল্পী নিয়ে এসে দেশের ছবিতে কাজ করাই। এটি ভুল। আমাদের দেশেও অনেক অভিনয়শিল্পী আছেন, যথাযোগ্য সুযোগ পেলে তারাও জ্বলে উঠতে পারেন। বছরের পর বছর দুর্বল চিত্রনাট্য এবং অদক্ষ পরিচালনা কিংবা নিম্নমানের চলচ্চিত্রের কারণে তাদের নিন্দার কাঁটা বয়ে বেড়াতে হয়। বিষয়টি দুঃখজনক। আশা করি, নিরব তার ভালো পারফরম্যন্সের ধারাবাহিকতা আগামী ছবিগুলোতেও অক্ষুন্ন রাখবার সুযোগ পাবেন এবং প্রমাণ করবেন।

চিত্রনায়িকা তমা মির্জা যেমন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাবার পরও সুঅভিনয়ের কোনো নমুনা দেখাবার সুযোগ পান না মূলধারার বানিজ্যিক ছবিতে। গেইম রিটার্নস ছবিতে তমার চরিত্রের প্রতি ধ্যানই দেয়া হয়নি। কারণ মন-প্রাণ-ধ্যান-জ্ঞান সব খরচ করা হয়েছে তমার মেকআপ ও গেটআপের দিকে। এর আগেও অহংকার সহ বেশ কিছু ছবিতে চরিত্রের বাইরে গিয়ে তমাকে চড়া মেকআপ করতে দেখা গেছে। গেইম রিটার্নস-ও তার ব্যতিক্রম নয়। মূলধারার বানিজ্যিক ছবির নায়িকা সবসময় সেজেগুজে পুতুল হয়ে থাকতেই পারেন। কিন্তু অকস্মাৎ গুলি লেগে আহত হবার পরও কয়েক স্তর মেকআপের প্রলেপ নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা মেনে নেয়া যায়না। পুরো ছবিতে, বিশেষ করে গানের দৃশ্যে তমার চড়া মেকআপ খুব চোখে লেগেছে। তমা ভীষণ সম্ভাবনাময়ী একজন চিত্রনায়িকা। অভিনয় জানেন, ভীষণ ভালো নাচ জানেন, দেখতে ভালো-তাকে কেন আমরা সঠিকভাবে সঠিক ছবিতে ব্যবহার করতে পারছি না, ভেবে দেখবার বিষয়। গেইম রিটার্নস ছবিতে জোর করে আহ্লাদী বানাবার ব্যর্থ প্রচেষ্টা এবং তিনটি গান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাকে। পায়েল চরিত্রের কোনো ওঠানামা নেই। যে কারণে তার বাবা হারাবার বেদনা দর্শকের মন ছুঁতে পারেনা। তার প্রেমে পড়ার যুক্তি বিশ্বাসযোগ্য হয় না। তার হঠাৎ বিদায় আবেগের দরজায় কড়া নাড়তে পারেনা। গাজনী, এক ভিলেন, কাবিল ছবিগুলোতেও তো গল্পের শুরুতে নায়িকার মৃত্যু হয়। তারপরও ছবি জুড়েই তারা ছিলেন। কিন্তু গেইম রিটার্নস-এ বিরতির পর তমা মির্জা উধাও। ছবির প্রধান নায়িকার আসনে চলে আসেন নতুন নায়িকা লাবণ্য। নতুন নায়িকা গুরুত্ব পেতেই পারেন। তবে তমা মির্জাও সমান্তরাল চরিত্রে থাকতে পারতেন। কিন্তু তমা ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ, এ ছবিতে লাবণ্য হয়ে উঠেছেন প্রধান চরিত্র। তমাকে পার্শ্ব চরিত্র নিয়েই খুশি থাকতে হয়েছে। অথচ মজার ব্যাপার, ছবিতে পার্শ্ব নায়িকা তমা পেয়েছেন ৩টি গান, প্রধান নায়িকা লাবণ্য পেয়েছেন ১টি।

নতুন নায়িকা হয়েও লাবণ্য ভালো চরিত্র পেয়েছেন। বিশেষ করে ছবির প্রথম ভাগ এবং শেষ ভাগে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে লেখা হয়েছে তার অভিনীত শায়না চরিত্রটি। প্রথম ছবি হিসেবে লাবণ্য বেশ সাবলীল। সাহসী। বেশ কিছু দৃশ্যে দর্শকের হাত তালি ও শিস প্রমাণ করে তলোয়ারের মত তার দৈহিক গড়ন দর্শকরা পছন্দ করেছেন। তবে বেশ কিছু দৃশ্য, যেমন: ‘যুক্তি তর্কের কোনো দাম কোম্পানীর কাছে নেই। তারা টার্গেটকে সরিয়ে দেবার দায়িত্ব নেয়। আর আমরা সে দায়িত্ব পূরণ করি’ কিংবা ‘আমি কাজটি করবো, কিন্তু টাকার বিনিময়ে নয়’-এই সংলাপগুলো বলবার প্রক্ষেপণ ও অভিব্যক্তি আরো ভালো হতে পারতো। এ বিষয়গুলো নিয়ে আরো যত্নশীল হলে লাবণ্য অনেক দূর যাবার যোগ্যতা রাখেন। ছবির শুরুতে হিন্দি ধুম টু ছবির ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের পোশাক নকল করে পড়া লাবণ্য’র কস্টিউম ভালো লাগেনি। তবে নির্মাতাদের ধন্যবাদ, লাবণ্য’র মত নায়িকাদের চলচ্চিত্রে নিয়ে আসবার জন্য।

মিশা সওদাগর চলচ্চিত্রের জন্য নির্ভরযোগ্য অভিনেতা। তবে নির্মাতারা তার চরিত্র নিয়ে খুব একটা ভাবেন বলে মনে হয় না। একটি খল চরিত্র লাগবে! ব্যস, মিশা সওদাগরকে চুক্তিবদ্ধ করাও। কিন্তু খল চরিত্রও যে বহুমুখী হতে পারে-এ বিষয়টি মাথায় রাখলে সার্বিকভাবে চলচ্চিত্রের জন্যই মঙ্গল। গেইম রিটার্নস ছবিতে মিশা সওদাগর তার স্বভাবজাত অভিনয় করেছেন। চমক সৃষ্টির অবকাশ ছিল না। তবে মিশা সওদাগর বরাবরের মত ভালো। বেশ কিছু দৃশ্যে তার সংলাপ প্রক্ষেপণ, যেমন: ‘খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো বর্গী এলো দেশে। বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেবো কিসে?’ কিংবা ‘তুই হচ্ছিস সর্বহারা, আর শায়না তোকে বিয়ে করতে এক পায়ে খাড়া’ দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে। অন্যান্য অভিনেতাদের মধ্যে মডেল সোহেল সিরাজীকে দেখে বিস্মিত হয়েছি। এত অপ্রধান চরিত্রে তাকে প্রত্যাশা করিনি। ইউসুফ রাসেল তুলনামূলকভাবে ভালো। তবে ডন অভিনয় করার মত কোনো দৃশ্যই পাননি।

শেষ কথা, ভালো-মন্দের মিশেলে গেইম রিটার্নস বড় বাজেটের অনেক বড় তারকার ছবির চেয়ে ভালো। কারণ এ ছবিতে গল্প আছে। তবে সেই গল্পের বুনন শক্তিশালী না হওয়ায়, ছবির বাজেট স্বল্পতা পর্দায় ধরা পড়ায়, বিভিন্ন বিভাগে ছবির বেশ কিছু দুর্বলতা এড়িয়ে না যাওয়ায় সব মিলিয়ে গেইম রিটার্নস’কে ‘খুব ভালো’-ও বলা যাবে না। অর্থাৎ মন্দের বাজারে ‘মন্দের ভালো’ গেইম রিটার্নস।

রিভিউ লিখেছেন   –রুম্মান রশীদ খান

Comments

comments

Close