আজ: ২২ জুলাই, ২০১৮ ইং, রবিবার, ৭ শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১০ জিলক্বদ, ১৪৩৯ হিজরী, দুপুর ২:৫৩
সর্বশেষ সংবাদ
নারী ও শিশু, প্রধান সংবাদ, বিশেষ প্রতিবেদন কেমন ছিল আইএস জঙ্গি জয়ার জীবন?

কেমন ছিল আইএস জঙ্গি জয়ার জীবন?


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১১/১২/২০১৭ , ৪:২১ অপরাহ্ণ | বিভাগ: নারী ও শিশু,প্রধান সংবাদ,বিশেষ প্রতিবেদন



নাম জয়া চৌধুরী৷ পৈত্রিক বাড়ি বাংলাদেশের সিলেটে৷ বড় হওয়া লন্ডনে৷ এমনই এক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মহিলার আইএস জঙ্গি জীবন নিয়ে শুরু হয়েছে আলোড়ন৷ জয়ার দাবি, ব্রিটিশ বর্ণবৈষম্যের কারণেই আমার মধ্যে ধর্মীয় মৌলবাদকে বাড়তে সাহায্য করে৷ তাঁর এই মন্তব্য ব্রিটেনের সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত গবেষকদের নতুন করে ভাবাচ্ছে৷

বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে থাকেন জয়া চৌধুরী৷ নাম পাল্টে হয়েছেন জর্জলেস তানিয়া।সম্প্রতি তিনি টেক্সাসের সংবাদপত্র ‘The Atlantic’- কে এক সাক্ষাৎকার দেন৷ তারপর থেকেই এই প্রাক্তন আইএস মহিলা জঙ্গিকে ঘিরে চর্চা চলছে৷

কেমন ছিল IS জঙ্গি জয়ার জীবন?
কিশোরী অবস্থায় জয়া চৌধুরী এমন একজনকে বিয়ে করেছিলেন, যিনি ছিলেন একজন কট্টরপন্থী৷ পরে ইসলামিক স্টেট জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিয়ে সিরিয়া চলে যান জয়া৷ পরপর তিন সন্তানের জননী হন৷ চতুর্থ সন্তানের জন্মের কিছু আগে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন৷ কোনও রকমে সিরিয়া থেকে জয়া তুরস্কে চলে আসেন৷ সিরিয়ায় থাকার সময় আইএস মহিলা জঙ্গি হয়েছিলেন জয়া৷ পরে আইএস জঙ্গিবাদ ছেড়ে দেন এই ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মহিলা৷ বর্তমানে তিনি মার্কিন মুলুকের টেক্সাসে সুখে ঘরকন্না করছেন৷ সন্তানদের নিয়েই কাটে তাঁর জীবন৷

‘The Atlantic’ দেওয়া সাক্ষাৎকারে জয়া জানিয়েছেন, আমি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত৷ আমার পরিবারকে ব্রিটিশ বর্ণবাদীদের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হতে দেখেছি৷ সেই থেকে আমি ধীরে ধীরে ধর্মীয় মৌলবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েছিলাম।

প্রাক্তন আইএস জঙ্গি জয়া জানিয়েছেন, লন্ডনে আমরা ছিলাম গরিব৷ চূড়ান্ত বর্ণবাদের শিকার হচ্ছিলাম। বর্ণবাদের কারণে প্রতিবেশীরা আমাদের বাড়ির জানালা ভেঙে দিত৷ তখন থেকে আমার নিজেকে বহিরাগত মনে হত৷ আমেরিকায় ৯/১১ জঙ্গি হামলার আক্রমণের সময় আমার বয়স ছিল ১৪ বছর৷সেই হামলার কিছু পরে আলজেরিয়ার এক সংগঠনের জড়িয়ে পড়েছিলাম৷ শুরু হয়েছিল আমার জেহাদি জীবন৷ অনলাইনে ধর্মান্তরিত আমেরিকান মুসলিম জন জর্জলেসের সঙ্গে পরিচয়ের পর তাকেই বিয়ে করি৷ নিজেদের জেহাদি ভাবার পাশাপাশি সন্তানদেরও তেমন তৈরি করতে চেয়েছিলাম৷

২০০৬ সালে জেহাদি ওয়েবসাইট পরিচালনার কাজে জড়িত থাকার কারণে গ্রেফতার হয়েছিলেন জয়া। মুক্তি পেয়ে ইংল্যান্ড এবং আমেরিকায় অস্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করেন৷ পরিবার চলে যায় মিশরে৷ এদিকে জয়ার স্বামী জন ইয়াহিয়া আবু হাসান নাম নিয়ে ইসলামি খিলাফত গড়ার ডাক দেয়৷ পরে আইএস জীবন আর মেনে নিতে পারেননি জয়া৷ পালিয়ে চলে আসেন৷- কলকাতা ২৪/৭ 

Comments

comments

Close