আজ: ২৪ জানুয়ারি, ২০১৯ ইং, বৃহস্পতিবার, ১১ মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৮ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী, রাত ৪:২৮
সর্বশেষ সংবাদ
জীবন ধারা স্লিম হওয়ার ৭টি সহজ উপায়

স্লিম হওয়ার ৭টি সহজ উপায়


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১১/১৪/২০১৭ , ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: জীবন ধারা


Spread the love
Spread the love

বর্তমান সময়ে সবার কাঙ্ক্ষিত একটি লক্ষ্য হল স্লিম হওয়া। কারণ এ যুগের লাইফস্টাইল অনুযায়ী স্থূলতা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। তবে সবার মধ্যে একটি ভুল ধারণা কাজ করে, আর তা হল প্রতিদিন বোধহয় একটু ব্যায়াম করলেই স্লিম হওয়া যায়। না এটি সম্পূর্ণ ভুল। প্রতিদিন ব্যায়াম করলে বড়জোর বর্তমান ওজন ধরে রাখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, স্লিম এবং সুস্থ শরীর চাইলে ব্যায়ামের সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের কোনো বিকল্প নেই।

মেদহীন টানটান একটা শরীর কে না চান? যারা আরাম-আয়েশ আর ভোজনবিলাসে শরীরে মেদ জমিয়ে জমিয়ে জীবনকে দাঁড় করিয়েছেন ঝুঁকির মুখে, এ অবস্থায় অনেকেই নেমে পড়েন ব্যায়াম করে মেদ ঝরানোর চেষ্টায়। পাশাপাশি খাওায়া-দাওয়াও চলে মোটামুটি আগের মতো। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি একেবারেই কার্যকর ব্যবস্থা নয়। বিশেষ করে সপ্তাহে ১৫০ মিনিটের মতো ব্যায়াম করে মেদ ঝরানোর যে প্রচলিত ধারণাটি রয়েছে, তাকে একরকম হাস্যকরই বলছেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের অবার্ন ইউনিভার্সিটি মন্টগোমারির অধ্যাপক ড. মিচেল ওলসন বুঝিয়ে বলেছেন ব্যাপারটা, এক পাউন্ড স্নেহ জাতীয় খাদ্য খেলে আমাদের শরীরে সাড়ে তিন হাজার ক্যালরি যোগ হয়। তারপর আপনি যদি ম্যারাথন দৌড়বিদদের মতো পুরো ২৬ মাইলও দৌড়ান, তাতে প্রতি মাইলে ১০০ গ্রাম হিসেবে সব মিলিয়ে মাত্র ২৬০০ ক্যালরি ঝরাতে পারবেন। সেই এক পাউন্ডের কারণে পাওয়া ক্যালরি থেকে ৯০০ ক্যালরি কিন্তু থেকেই যাবে। তাই প্রতিদিন ৪০-৫০ মিনিট ব্যায়াম বা ঘাম ঝরানোর মতো অন্য কিছু করার পাশাপাশি খুব সাবধানে খাওয়া-দাওয়া করারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একটু ব্যায়াম করে, হেঁটে, সাইকেল চালিয়ে বা সাঁতার কেটেই মেদ কমিয়ে ফেলবেন-এমন ভাবাটা মস্ত বড় ভুল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুলের এ স্বর্গে বাস করা মানে মেদবহুল দেহের যন্ত্রণাকেই মেনে নেওয়া। তাই যারা প্রকৃত অর্থে মেদ ঝরিয়ে স্লিম হতে চান তাদের প্রতিদিন ব্যায়ামের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ খুবই জরুরি। এখানে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ বলতে সুস্থ থাকার জন্য যতটুকু প্রয়োজন এর অতিরিক্ত না খাওয়াটাকেই বুঝায়।

১। খাওয়ার পর যা করবেন না… স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা প্রায় সময়েই বেশ চিন্তিত থাকি। কোনটায় ভালো হবে, কোনটায় স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে তা নিয়ে আমাদের জানার আগ্রহের শেষ নেই। কিন্তু অনেক সময় অজ্ঞতাবশত কিংবা নানান ভ্রান্ত ধারণার কারণে আমরা নিজেদের স্বাস্থ্যের অনেক বড় ক্ষতি করে ফেলি। বিশেষ করে প্রতিবেলা খাওয়ার পর আমরা এমন কিছু কাজ করি যেগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে প্রতিনিয়ত। জেনে নিন তেমনই কিছু কাজ সম্পর্কে যেগুলো খাওয়ার পর কখনও করা উচিত নয়।

২। ধূমপান করা অনেকে খাওয়ার পরপরই ধূমপান করে থাকে। ধূমপান খাওয়ার আগে হোক কিংবা পরে হোক, ক্ষতি হবেই। সিগারেটে আছে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান যা মানুষকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। তাই খাওয়ার পর হোক কিংবা অন্য যেকোনো সময় হোক, কখনও ধূমপান করা উচিত নয়।

৩। চা/কফি পান দুপুরে কিংবা রাতে খাওয়ার পরপর অনেকেরই এক কাপ চা না হলে চলে না। যাদের এই অভ্যাস আছে তারা নিজের অজান্তেই নিজের শরীরের ক্ষতি করছেন। চা অ্যান্টি অক্সিডেন্টের ভালো উত্স এবং প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে চা পান করলে হূিপণ্ডের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে যায়। কিন্তু প্রতিদিন এক পেট খাওয়ার পর চা পানের অভ্যাসটা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। চায়ে আছে পলিফেনল যা সবুজ শাকসবজির আয়রনকে শরীরে গ্রহণ করতে বাধা দেয়। ফলে যাদের শরীরে আয়রনের অভাব আছে তারা খাওয়ার পরে চা পান করলে শরীর আয়রন গ্রহণ করতে পারে না এবং আয়রনের অভাব পূরণ হয় না। ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। তাই খাওয়ার কমপক্ষে এক ঘণ্টা পর চা পান করা উচিত।

৪। খাওয়ার ঠিক পরপরই ফল খাওয়া ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সব ভিটামিনই পাওয়া যায় ফলে। কিন্তু ঠিক খাওয়ার পর ফল খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। কারণ কলা, কাঁঠাল ও খেজুর ছাড়া প্রায় প্রতিটি ফলই হজম করতে মোটামুটি ২০ মিনিট সময় লাগে। কিন্তু খাওয়ার ঠিক পরপর ফল খেলে পাকস্থলীতে অন্যান্য খাবারের ভিড়ে ফলের হজমপ্রক্রিয়ায় দেরি হয়ে যায়। এতে অনেক সময় ফলের মান নষ্ট হয়ে যায়। ফলে পেটের পীড়া, পেটে গ্যাস, বদহজম জাতীয় সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৫। গোসল করা ছোটবেলা থেকেই আমরা শুনেছি খাওয়ার পর গোসল না করে খাওয়ার আগে করতে। কিন্তু কখনও কি জেনেছি এই কথা বলার পেছনের সঠিক কারণটা। হজম প্রক্রিয়ায় শরীরের প্রচুর শক্তি ক্ষয় হয়। আর এই পুরো প্রক্রিয়াটার জন্য পাকস্থলীতে প্রচুর পরিমাণে রক্ত চলাচলের প্রয়োজন হয়। ফলে খাওয়ার পরে শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে যায়। কিন্তু গোসল করলে শরীরের তাপমাত্রায় তারতম্য ঘটে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় ভারসাম্য রাখতে গিয়ে হজম প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে। ফলে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কমপক্ষে ২০-৩০ মিনিট বেশি সময় প্রয়োজন হয় খাবার হজম হতে।

৬। সঙ্গে সঙ্গে হাঁটা খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অনেকে হনহন করে হাঁটা শুরু করেন। খাওয়ার ঠিক পরপরই জোরে হাঁটা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এতে হজম প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খাওয়ার পর জোরে না হাঁটলেও স্বাভাবিকভাবে ঘরের ভেতরের হাঁটাচলা করতে কোনো সমস্যা নেই। তবে খাওয়ার ৩০ মিনিট পর কিছুটা সময় হাঁটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো বলে জানিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনার গবেষকরা।

৭।ঘুমিয়ে পড়া খাওয়ার পর যেই কাজটি আপনার শরীরের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর তা হল ঘুমিয়ে পড়া। খাওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়লে হজম প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে। সেই সঙ্গে ঘুমে সমস্যা, ওজন বৃদ্ধি, নাক ডাকাসহ নানান রকমের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়।

Share

Comments

comments

Close