আজ: ২০ জুলাই, ২০১৮ ইং, শুক্রবার, ৫ শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৮ জিলক্বদ, ১৪৩৯ হিজরী, সকাল ৭:১৮
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয় যশোরে দুই চরমপন্থী নেতার ফাঁসি কার্যকর

যশোরে দুই চরমপন্থী নেতার ফাঁসি কার্যকর


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১১/১৬/২০১৭ , ৯:১৪ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জাতীয়



চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার এক মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যার দায়ে দুই চরমপন্থী নেতাকে যশোর কারাগারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টায় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় বলে যশোর কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার কামাল হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

যাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তারা হলেন, পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা আবদুল মোকিম ও গোলাম রসুল। তারা চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার মেম্বার হত্যা মামলার আসামি।

জানা যায়, বিকেল থেকেই যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসির প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সন্ধ্যার পর পরই কারাগারের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। এরপর রাত ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, সিভিল সার্জন দিলীপ কুমার রায় কারাগারে প্রবেশ করেন।
তার পর রাত ১১ টা ৪৫ মিনিটে দুই আসামিকে ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

রাত ১২টায় সিনিয়র জেল সুপার কামাল হোসেন জেল গেটে প্রেসব্রিফিং করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর নিশ্চিত করেন। লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে।

আদালত ও পুলিশ সূত্র মতে, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমারী ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামের মৃত রবকুল মন্ডলের মেজো ছেলে মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার হোসেনকে ১৯৯৪ সালের ২৮ জুন গ্রামের বাদল সর্দ্দারের বাড়িতে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির কতিপয় চরমপন্থী কুপিয়ে হত্যা করে। ওই দিন নিহতের ভাই মুক্তিযোদ্ধা অহিম উদ্দীন বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় ২১ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

২০০৮ সালের ১৭ এপ্রিল এ হত্যা মামলার রায় ঘোষিত হয়। রায়ে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির দুই আঞ্চলিক নেতা দুর্লভপুরের মৃত মুরাদ আলীর ছেলে আব্দুল মোকিম ও একই গ্রামের মৃত আকছেদ আলীর ছেলে গোলাম রসুলসহ ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুর্লভপুরের মৃত কুদরত আলীর ছেলে আমিরুল ইসলাম ও একই গ্রামের আবু বক্করের ছেলে হিয়াসহ দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ এবং বাকি ১৬ আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

মামলার রায় ঘোষণার পর উচ্চ আদালতে আপিলসূত্রে ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত এক আসামি ও যাবজ্জীবন প্রাপ্ত দুই আসামি আমিরুল ইসলাম ও হিয়ার দণ্ডাদেশ মওকুফ করা হয়। তবে মোকিম ও গোলাম রসুলের ফাঁসির আদেশ বহাল থাকে।

মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার হোসেন দুই দুইবার ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি কৃতি খেলোয়াড় হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। ভারতের পশ্চিম বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়েও দিয়ে হা-ডু-ডু খেলেছেন।

Comments

comments

Close