আজ: [english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ
আন্তর্জাতিক, প্রধান সংবাদ পদত্যাগ করেছেন জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে

পদত্যাগ করেছেন জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: 11/22/2017 , 10:59 am | বিভাগ: আন্তর্জাতিক,প্রধান সংবাদ



অবশেষে পদত্যাগ করেছেন জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে। মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টে তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের জন্য প্রস্তাব আনার পর তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

১৯৮০ সালে দেশটির স্বাধীনতা লাভের পর প্রায় ৩৭ বছর দেশ পরিচালনার পর মঙ্গলবার ৯৩ বছর বয়সী মুগাবে পদত্যাগ করলেন।

কয়েক দিন আগে দেশটির সেনাবাহিনী প্রেসিডেন্টকে গৃহবন্দি করে পদত্যাগের জন্য চেষ্টা করছিল। কিন্তু কোনোভাবেই তিনি পদত্যাগে রাজি না হওয়ায় মঙ্গলবার পার্লামেন্টে তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব আনা হয়।

এদিকে মঙ্গলবার পার্লামেন্টে এ প্রস্তাবা আনার পর পরই হারারেতে পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে লোকজন জমায়েত হয়ে অভিশংসনের উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানায়। খবর বিবিসির।

এর আগে মুগাবে পদত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকেন। কিন্তু অধিকাংশ মন্ত্রীই তার ডাকে সাড়া দেননি এবং তারা এতে যোগ দেননি।

এর আগে পদত্যাগের জন্য মুগাবেকে তার নিজের দল জানু-পিএফ পার্টি ২৪ ঘণ্টার যে সময় বেঁধে দিয়েছিল তারও সময় অতিক্রান্ত হয়েছে সোমবার।

অন্যদিকে সেনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মুগাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের একটা ‘রোডম্যাপ’ বা ‘পরিকল্পনা’ রয়েছে।

ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে দেশকে স্বাধীন করে এক সময় পুরো মহাদেশে উপনিবেশবিরোধী মুক্তির নায়কে পরিণত হয়েছিলেন ‘গ্র্যান্ড ওল্ড ম্যান’ মুগাবে।

প্রতিবেশী দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৯৯৪ সালে জাতিগত বিদ্বেষের অবসানের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান জানানো নেতাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। জিম্বাবুয়েতে শ্বেতাঙ্গদের মালিকানাধীন কোম্পানির দখল নেয় তার মুগাবের অনুসারী মিলিশিয়া।

কালোদের নেতা মুগাবে পাশ্চিমা দেশগুলোতেও ‘থিংকিং ম্যানস গেরিলা’ নামে পরিচিতি পেয়েছিলেন। মুগাবে উচ্চশিক্ষার সাতটি ডিগ্রি নিয়েছিলেন, যার তিনটি অর্জন করেন কারাবাসে থেকে।

বিবিসি লিখেছে, জিম্বাবুয়ের অনেকের কাছে নিন্দিত রবার্ট মুগাবে দেশটির অনেকের কাছে নায়ক হয়ে থাকবেন, এমনকি তার বিদায়ের দাবিতে আন্দোলনকারীদের অনেকের কাছেও। মুগাবেবিরোধী আন্দোলনের অনেকে তার এই অবস্থার জন্য স্ত্রী গ্রেস মুগাবে ও তার কাছের কিছু লোককে দায়ী করছেন।

মুগাবের জন্ম ১৯২৪ সালে হারারের কাছে একটি ক্যাথলিক মিশনে। যাজকদের কাছে লেখাপড়া শেখেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার ইউনিভার্সিটি অব ফোর্ট হেয়ারে যাওয়ার আগে কিছু দিন স্কুলে পড়ান।

সে সময় যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে আফ্রিকান জাতীয়তাবাদ বিকশিত হয়, সেগুলোর অন্যতম ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ওই বিশ্ববিদ্যালয়।

সেখান থেকে ১৯৬০ সাল জন্মভূমি তৎকালীন রোডেশিয়ায় ফিরে রাজনীতিতে আসেন মুগাবে। চার বছরের মাথায় তাকে কারাবন্দি করে সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গদের সরকার।

প্রায় এক দশক কারান্তরীণ থেকে মুগাবে যখন মুক্তি পান তখন স্বাধীনতা আন্দোলনে থাকা প্রভাবশালী জিম্বাবুয়ে আফ্রিকান লিবারেশন আর্মির শীর্ষ নেতৃত্বে চলে আসেন তিনি।

ব্রিটিশ শাসনের অবসানে নেতৃত্ব দেওয়া গেরিলা যোদ্ধা মুগাবে স্বাধীনতার পর ১৯৮০ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন রবার্ট মুগাবে। দুই দফা প্রধানমন্ত্রী থাকার পর সংবিধান সংশোধন করে ১৯৯০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার কিছু দিন আগে মুগাবের প্রথম স্ত্রী স্যালি মারা যান। ১৯৯৬ সালে প্রায় ৪০ বছরের ছোট গ্রেস মারুফুকে বিয়ে করেন তিনি।

গত শতকের শেষ দিকে ভূমি সংস্কারে ধীরগতি নিয়ে কালোদের ক্ষোভের প্রেক্ষাপটে সংবিধান সংশোধন নিয়ে গণভোটে হেরে যান মুগাবে। তারপর জিম্বাবুয়ের স্বাধীনতা আন্দোলনের যোদ্ধা পরিচয় দেওয়া সশস্ত্র কালোরা শ্বেতাঙ্গদের মালিকানাধীন কোম্পানির দখল নেন।

তাকে উপনিবেশিক শাসনের অবিচারের প্রতিবিধান বলে বৈধতা দেন মুগাবে। তারপর থেকেই পশ্চিমাদের কঠোর সমালোচনার মুখে ছিলেন তিনি।

এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রথম দফা ভোটে মর্গান সাভাঙ্গিরাইয়ের কাছে মুগাবে হেরে যান। প্রতিক্রিয়ায় দেশজুড়ে সমর্থকদের ওপর হামলার প্রেক্ষাপটে রান অফ ভোটে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন সাভাঙ্গিরাই।

পরের বছর মুগাবে নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য সরকারে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন সাভাঙ্গিরাই। অর্থনৈতিক ধসের মধ্যে দায়িত্ব নেওয়া ওই সরকারের চার বছরে সাভাঙ্গিরাই জনপ্রিয়তা হারান। এরপর ২০১৩ সালের নির্বাচনে আবার জয়ী হন মুগাবে।

দেড় দশক আগে জিম্বাবুয়েতে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক সংকট আর কাটিয়ে উঠতে পারেননি মুগাবে। সমালোচকদের মতে, জাতীয় সম্পদ বণ্টন নিয়ে তিনি যতোটা ভেবেছেন, তা কীভাবে বাড়ানো যায় সেদিকে ততোটা নজর দেননি।

মুগাবে বরাবরই জিম্বাবুয়ের অর্থনৈতিক সমস্যাকে যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বাধীনে পশ্চিমা দেশগুলোর তাকে উৎখাতের একটি চক্রান্ত বলে দোষারোপ করে এসেছেন। শ্বেতাঙ্গ-মালিকানাধীন ফার্মগুলো জব্দ করার কারণে পশ্চিমারা তাকে উৎখাতের এ চক্রান্ত করেছে বলে যুক্তি দেখিয়েছেন তিনি।

এছাড়া মতবিরোধীদের থামাতে দমন-পীড়নের আশ্রয় নেওয়ায় নায়ক মুগাবে দিন দিন জনগণের চোখে ‘খলনায়কে’ পরিণত হতে থাকেন বলে পশ্চিমা গণমাধ্যমের ভাষ্য।

Comments

comments

Close