আজ: ২৪ জানুয়ারি, ২০১৯ ইং, বৃহস্পতিবার, ১১ মাঘ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৯ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী, দুপুর ১২:৪৮
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয়, প্রধান সংবাদ ঘোড়ামারা আজিজসহ ছয়জনের ফাঁসি

ঘোড়ামারা আজিজসহ ছয়জনের ফাঁসি


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১১/২২/২০১৭ , ২:০৭ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জাতীয়,প্রধান সংবাদ


Spread the love
Spread the love

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য আবু সালেহ মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ মিয়া ওরফে ঘোড়ামারা আজিজসহ গাইবান্ধার ছয়জনের বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে বলা হয়, প্রসিকিউশনের আনা তিন অভিযোগের সবগুলোই প্রমাণিত হয়েছে। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আসামিদের সাজা কার্যকর করতে হবে।

আসামিদের মধ্যে আব্দুল আজিজ মিয়া (৬৫), মো. রুহুল আমিন ওরফে মঞ্জু (৬১), আবু মুসলিম মোহাম্মদ আলী (৫৯), মো. নাজমুল হুদা (৬০) ও মো. আব্দুর রহিম মিঞা (৬২) পলাতক। রায়ের সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন কেবল মো. আব্দুল লতিফ (৬১)।

পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে সাজা কার্যকর করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে ট্রাইব্যুনালের রায়ে।

তিন অভিযোগের মধ্যে প্রথমটিতে গাইবান্ধার মৌজামালি বাড়ি গ্রামে গিয়ে লুটপাট, স্বাধীনতার পক্ষের লোকজনকে আটক, অপহরণ ও নির্যাতন এবং পরে দাড়িয়াপুর ব্রিজে নিয়ে একজনকে হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যার ঘটনায় আসামিদের আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

দ্বিতীয় অভিযোগে সুন্দরগঞ্জ থেকে ছাত্রলীগ নেতা মো. বয়েজ উদ্দিনকে ধরে মাঠেরহাট রাজাকার ক্যাম্প এবং থানা সদরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন এবং পরে গুলি করে হত্যা করে তার লাশ মাটির নিচে চাপা দেওয়ার ঘটনায় ছয় আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগে সুন্দরগঞ্জ থানার পাঁচটি ইউনিয়নে স্বাধীনতার পক্ষের ১৩ জন চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে আটক করে আটকে রেখে নির্যাতন এবং পরে নদীর ধারে নিয়ে গুলি করে হত্যার ঘটনাতেও আসামিদের সবার প্রাণদণ্ডের রায় এসেছে।

রায়ের পর লতিফের আইনজীবী খন্দকার রেজাউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। আপিল করব।”

পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম বলেন, “প্রসিকিউশন এ মামলায় যেসব সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেছে তাতে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে না। ২০০১ ও ২০০৭ সালের যেসব দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো রাজৈনিতক উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল।”

পলাতক আসামিরা আত্মসমর্পণ করে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে সবাই খালাস পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন এই আইনজীবী।

অন্যদিকে এ মামলার প্রসিকিউটর সায়েদুল হক সুমন বলেন, “রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। ন্যায্য বিচার পেয়েছি।”

অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে গতবছর ২৮ জুন এই ছয় আসামির বিচার শুরু করে আদালত। ২০১০ সালে এ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরুর পর মোট ২৯টির রায় হলো।

Share

Comments

comments

Close