আজ: ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং, বৃহস্পতিবার, ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৭ রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী, সকাল ১০:০৮
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয়, প্রধান সংবাদ, শিক্ষাঙ্গন ডেন্টাল কলেজের হোস্টেল থেকে নেপালি ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ডেন্টাল কলেজের হোস্টেল থেকে নেপালি ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১২/২০/২০১৭ , ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: জাতীয়,প্রধান সংবাদ,শিক্ষাঙ্গন


Spread the love
Spread the love

রাজধানীর ভাটারা থানাধীন পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজের হোস্টেলে বিনিশা (২০) নামের এক নেপালি শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার তার মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশের ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে তার ঘর থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। অপর দিকে বিনিশার মৃত্যুতে পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের কলেজের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ জানিয়েছেন।
জানা গেছে, বিনিশা পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজের ২২তম ব্যাচের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি টার্ম-২ পরীক্ষার্থী ছিলেন। বিনিশার সহপাঠী এবং রুমমেট রোকসা জানান, বিনিশা ও সে একই রুমে থাকেন। গতকাল সকালে তারা একসঙ্গে খেয়ে পরীক্ষা দিতে যান। তবে পরীক্ষা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগেই বিনিশা হল থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু রোকসা পরীক্ষা শেষ করে হোস্টেলে যান। তিনি হোস্টেলে এসে দেখেন তাদের রুমের দরজা ভেতর থেকে লক করা। তখন অনেক ডাকাডাকি করেও কোন সাড়া পাননি। পরে বিকল্প চাবি দিয়ে তিনি দরজা খুলে ঘরের মধ্যে বিনিশার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।
রোকসা আরো জানান, বিনিশা হাসিখুশি একটা মেয়ে ছিল। তার আচার আচরণে কখনই আত্মহত্যা করার মত ব্যাপার দেখতে পাননি। তার ধারণা, পরীক্ষা সংক্রান্ত কোন কারণে সে আত্মহত্যা করতে পারে।
রোকসা আরো জানান, আগামী বৃহস্পতিবার টার্ম-২ এর শেষ পরীক্ষা হওয়ার কথা। পরীক্ষার পর তাদের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। বিনিশা গত পাঁচ মাস ধরে বাড়ি যায় না। বাড়ি যাওয়ার জন্য খুব উদগ্রীব ছিল বলে রোকসা জানান।
বিনিশা’র সহপাঠীরা অভিযোগ করে জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষ টার্ম-২ পরীক্ষার আগে প্রবেশপত্র আটকে রেখে বিভিন্ন ফি বাবদ দুই লাখ টাকা পাওয়ার কথা জানায়। পরে কেউ কেউ টাকা দিয়ে আবার কেউ কেউ পরে দেওয়ার আবেদন করে প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। এই পরীক্ষায় ফেল করার ভয়ে এবং টাকা প্রদানের চাপে বিনিশা হতাশ হয়ে পড়েছিল। শিক্ষক ও কলেজ কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত চাপেই বিনিশা শাহ আত্মহত্যা করেছেন বলে সহপাঠীরা অভিযোগ করেছে।
ভাটারা থানা পুলিশ জানায়, তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। বিনিশা ২ বছর আগে বাংলাদেশে পড়তে আসে। তার বাবার নাম ভাগান সাহু, মা শান্তি দেবি সাহু। নেপালের বিরাট নগরের কাঞ্জন গ্রামে তাদের বসবাস। গতকাল দুপুর পৌনে ২টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করেছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশের ধারণা, পরীক্ষার হলে নকল করার অভিযোগে ধরা পড়ায় বিনিশা হতাশ হয়ে আত্মহত্যা করতে পারে। তবে মৃত্যুর সকল কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
Share

Comments

comments

Close