আজ: ২১ আগস্ট, ২০১৯ ইং, বুধবার, ৬ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১ জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী, সকাল ৮:৩৮
সর্বশেষ সংবাদ
স্বাস্থ্য পিরিয়ডের সময় খান ধনিয়ার বীজ

পিরিয়ডের সময় খান ধনিয়ার বীজ


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০১/১৪/২০১৮ , ৬:৫৫ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: স্বাস্থ্য


Spread the love

প্রতিদিনের রান্নায় আমরা যে মশলা ব্যবহার করি, তার কারণ কি জানেন? শুধুই কি স্বাদের জন্য? তা কিন্তু নয়। বরং প্রতিটি মশলাই আমাদের শরীরের গঠনে নানাভাবে কাজে আসে। যেমন ধনিয়া বীজের কথাই ভাবুন না। যেমন সুন্দর গন্ধ, আবার স্বাদও বাড়ায়।

তবু ধনিয়া বীজের গুণগুলো সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি না। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে ধনিয়া বীজের বহু গুণের উল্লেখ পাওয়া যায়। আর ঠিক এই কারণেই আজ আমরা আলোচনা করতে চলেছি ধনিয়া বীজ এবং ধনিয়া পাতার নানা অজানা দিক নিয়ে।

নিয়মিত রান্নায় ধনিয়া বীজের ব্যবহারে যে উপকারগুলো পাওয়া যায়…

১.ত্বকের যত্নে কাজে আসে

ক্যালিফোর্নিয়ার আয়ুর্বেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা থেকে জানা যায় ত্বকের একাধিক সমস্যা কমাতে ধনিয়া দারুণ ভাবে কাজ আসে। যেমন- একজিমা, চুলকানি, ফোড়া বা ব্রণ ইত্যাদির প্রকোপ কমাতে ধনিয়ার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। এর মূল কারণ হল বীজে প্রচুর পরিমাণে জীবাণুনাশক উপাদান রয়েছে, যা এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পলন করে থাকে। প্রসঙ্গত, মুখের ঘা বা জ্বরঠোসাতেও ধনে ব্যবহার করলে উপকার মেলে। আসলে এই প্রাকৃতিক উপাদানটিতে থাকা লিনোলেয়িক অ্যাসিড যন্ত্রণা দূর করতে বিশেষ ভূমিকা নেয়।

২.ডায়াবেটিস কমাতে সাহায্য করে

আমাদের চারিদিকে বহু মানুষ রয়েছেন যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এমনকি ডায়াবেটিস হওয়ার জন্য এখন আর কোনও বয়সের ধাপ পেরুতে হয় না। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রার কারণে আজ কম বেশি সকলেই এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। তাই তো ধনিয়ার গুরুত্ব বেড়েছে চোখে পরার মতো। কারণ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে ধনিয়া বীজে উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

৩.চুলের বৃদ্ধি ঘটায়

অনেক কারণে চুল ঝরে যেতে পারে। যেমন- দুর্বল চুলের গোঁড়া, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, দুশ্চিন্তা, ডায়েটের গণ্ডগোল প্রভৃতি। এই সব সমস্যা কমাতে দারুন কাজে আসে ধনিয়া বীজ। কারণ এই প্রাকৃতিক উপাদানটি গোড়া থেকে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে চুলের গ্রন্থিকে মজবুত এবং স্বাস্থ্যসম্মত করে তুলতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। ফলে চুল পড়ার সমস্যা কমতে শুরু করে।

৪.হজম শক্তির উন্নতি ঘটায়

কলকাতার এন আর এস হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. অমল ঘোষ-এর মতে, ধনিয়া বীজের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকায় এটি লিভারের কাজ সুদৃঢ় করতে সাহায্য করে। ফলে খুব সহজে হজম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এছাড়াও এ বীজ খাবারে যেমন সুন্দর গন্ধ যোগ করে, তেমনই হজমেও সাহায্য করে। একই সঙ্গে ধনেতে উপস্থিত ফাইবার, ফসফরাস এবং ক্যালসিয়াম নানাভাবে শরীরের উপকারে লাগে।

৫.কোলেস্টেরলের মাত্রা সঠিক রাখে

ডাক্তারের কাছে গেলেই কোলেস্টেরল নিয়ে হাজারো বকুনি শুনতে হয়? তাই চিন্তায় চিন্তায় রাতের ঘুম উড়েছে? তাহলে অবশ্যই ধনিয়া বীজের শরণাপন্ন হোন। কারণ এতে রয়েছে কোরিয়ান্ড্রিন নামক একটি উপাদান, যা হজম ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি রক্তে উপস্থিত খারাপ কোলোস্টেরলের মাত্রা কমাতেও সাহায্য করে।

৬.জ্বর এবং সর্দিতে দারুণ কাজ করে

ধনিয়া বীজের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন এ, বেটা ক্যারোটিন এবং ভিটামিন সি। এই উপাদানগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এতটাই শখ্তিশালী করে তোলে যে সর্দি এবং জ্বরের প্রকোপ কমতে শুরু করে।

৭. ঋতুস্রাব সম্পর্কিত সমস্যা দূর করে

যাদের ঋতুস্রাব চলাকালীন অতিরিক্ত হারে রক্তপাত হয়, তারা প্রতিদিন ধনিয়া বীজ খেলে দারুণ উপকার পেতে পারেন। কারণ নিয়মিত এ বীজ খেলে এন্ডোক্রাইন গ্রন্থি থেকে হরমোনের ক্ষরণ ঠিক মতো হতে শুরু হয়। ফলে ঋতুস্রাবকালীন পেটের ব্যাথা এবং অতিরিক্ত রক্তপাত থেকে মুক্তি মেলে।

Share

Comments

comments

Close