আজ: ২১ জুলাই, ২০১৮ ইং, শনিবার, ৬ শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৯ জিলক্বদ, ১৪৩৯ হিজরী, রাত ১১:২৫
সর্বশেষ সংবাদ
চটগ্রাম বিভাগ, বাংলাদেশ, বিভাগীয় সংবাদ রাউজানে ছিনতাইকারীদের হাতে ছিনতাইকারী অপহৃত, গ্রেপ্তার ৭

রাউজানে ছিনতাইকারীদের হাতে ছিনতাইকারী অপহৃত, গ্রেপ্তার ৭


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০১/১৪/২০১৮ , ৭:০৪ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: চটগ্রাম বিভাগ,বাংলাদেশ,বিভাগীয় সংবাদ



চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় ছিনতাইকৃত টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে এক ছিনতাইকারীকে তার সহযোগীরা অপহরণের ঘটনায় পুলিশ সাত ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। এক ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ও ১১টি মোবাইল ফোনসেট ছিনতাইয়ের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে নিজেদের সহযোগীকে অপহরণ করে একই দলের অন্য সদস্যরা।

গতকাল শনিবার আদালতের মাধ্যমে অপহৃত ছিনতাইকারীসহ তাদের দলের সাতজনকে জেলে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় একটি অপহরণ ও একটি ছিনতাইয়ের মামলাসহ দুটি মামলা হয়েছে। গতকাল এ বিষয়ে সাংবাদিকদের তথ্য প্রকাশ করে থানা পুলিশ।

নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাবেদ মিয়া ও থানার এসআই মীর হোসেন জানান, গত ৮ জানুয়ারি রাতে উরকিরচর ইউনিয়নের জিয়া বাজার জিলানী টেলিকমের মালিক সোহেল দোকান বন্ধ করে তাঁর বাড়ি একই ইউনিয়নের মীরাপাড়ায় ফিরছিলেন। এ সময় উরকিরচর হারপাড়ার মৃত আলী আহমদের ছেলে মো. ইসহাক (৩৮) গশ্চির আবু সামার ছেলে মো. সুমন (২৪), একই এলাকার আলম শরীফের ছেলে সাজ্জাদ (২০), হারপাড়ার বাবুলের ছেলে মো. জাবেদসহ (২২) চার ছিনতাইকারী সোহেলকে ছুরিকাঘাত করে এক লাখ ২০ হাজার টাকা, ১১টি মোবাইল ফোনসেট ছিনতাই করে পালায়। তখন স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে সোহেলকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

এরই মধ্যে ছিনতাইকারীদেরই একজন মো. জাবেদ ওই ঘটনায় তাকে ভাগ-বাটোয়ারা না দেওয়ায় বিষয়টি ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেয় তার সঙ্গীদের। তারই জের ধরে গত ১০ জানুয়ারি রাতে বৈজ্জাখালী এলাকা থেকে জাবেদকে অপহরণ করে তার সতীর্থরা। এরপর দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তার মা খতিজা খাতুনকে ফোন করে অপহরণকারীরা। পরের দিন ১১ জানুয়ারি বিষয়টি নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ থানা পুলিশকে জানান খতিজা। ওই দিন ছিনতাইকারীরা আবারও ফোন দিলে জাবেদের মা খতিজা তাঁর কাছে অত টাকা নেই বলে জানিয়ে তাঁর কাছে ২০ হাজার টাকা আছে বলে জানান। অপহরণকারীরা ২০ হাজার টাকা নিয়ে ১১ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে নোয়াপাড়া স্কুলের পেছনে আসতে বলে।

ওই মোতাবেক খতিজা সেখানে গেলে তাঁকে দুই ঘণ্টা ধরে নানা অজুহাতে ঘোরাঘুরি করায় ছিনতাইকারীরা। ওই সময় সিভিল পোশাকে ঘুরছিল নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির লোকজন। একপর্যায়ে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় নোয়াপাড়া স্কুলের পেছন থেকে অপহরণকারী দলের এক সদস্য মো. মুন্নাকে আটক করতে সক্ষম হয়। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক ১১ জানুয়ারি রাত ২টার দিকে এলাকার লোকজনসহ পুলিশের সদস্যরা নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চৌধুরীহাট যাওয়ার পথে পরিত্যক্ত হাজী মো. নুরুল আলম ইসলামিয়া কমপ্লেক্সের ভেতর থেকে ভিকটিম জাবেদসহ সাতজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো উরকিরচর হারপাড়ার মৃত আলী আহমদের ছেলে মো. ইসহাক (৩৮), গশ্চির আবু সামার ছেলে মো. সুমন (২৪), একই এলাকার আলম শরীফের ছেলে সাজ্জাদ (২০), হারপাড়া বাবুলের ছেলে ভিকটিম মো. জাবেদ (২২), নোয়াপাড়ার নুর আহমদের ছেলে মো. মুন্না (২২), হাটহাজারী কুয়াইশ বাইন্যপাড়ার আইয়ুব আলীর ছেলে মো. অভি (২৩), নোয়াপাড়ার মৃত আবদুল আহাদের ছেলে মো. সাহেদ (২০), উরকিরচর বৈজ্জাখালীর সৈয়দ আহমদের ছেলে শুক্কুর (২১)।

থানা পুলিশ জানায়, ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছিনতাইয়ের শিকার সোহেল বাদী হয়ে একটি এবং অপহরণের ঘটনায় জাবেদের মা খতিজা বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি অপহরণ মামলাসহ দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।    – কালের কণ্ঠ 

Comments

comments

Close