আজ: ২৪ এপ্রিল, ২০১৮ ইং, মঙ্গলবার, ১১ বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৯ শাবান, ১৪৩৯ হিজরী, রাত ১০:৩৬
সর্বশেষ সংবাদ
ফেসবুক থেকে ‘নেত্রী মুক্তি পাক, সেদিন ফুল নেব’

‘নেত্রী মুক্তি পাক, সেদিন ফুল নেব’


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০১/১৫/২০১৮ , ২:৩২ অপরাহ্ণ | বিভাগ: ফেসবুক থেকে


মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আপোষহীন এক সৈনিকের নাম।

১৪ জানুয়ারি। ২০০৭ সা‌লের এইদি‌নে ১/১১ পরবর্তী সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথম রাজ‌নৈ‌তিক নির্যাত‌নের শিকার হ‌য়ে দীর্ঘ ঊনিশ মাস বিনা বিচারে ডাণ্ডাবেড়ি পরিহিত অবস্থায় কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে দিনযাপন করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন!
রোটন ভাইয়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা- ছাত্রলীগের তৎকালীন সহসভাপতি মিজানুর রহমান, লাভলু মোল্লা‌ শি‌শির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল হাসান জু‌য়েল ও তৌ‌হিদুর রহমান কাজল ভাইদেরকেও সেদিন একই সাথে গ্রেফতার করে তাদের উপর চালানো হয় নির্যাতনের স্টিমরোলার! তাদেরকেও সেদিন বিনা বিচারে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে দীর্ঘ এগারোটা মাস আটক করে রাখা হয়!
নেই কোন মামলা, নেই কোন অভিযোগ; শুধু অপরাধ রোটন ছিলেন ছাত্রলীগ এর সাধারণ সম্পাদক। ঠিক একই অভিযোগে ‘অভিযুক্ত’ ছিলেন রোটন-সহযোদ্ধা অন্য ৫ জন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর সাংগঠনিক নেত্রী, আমাদের প্রিয় নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার দিক-নির্দেশনা পেতে সন্ধ্যায় ছাত্রলীগ এর কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ আমাদের প্রিয় নেত্রীর সাথে দেখা করে। নেত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দিক-নির্দেশনা নিয়ে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিরে আসে। ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন তার সহযোদ্ধাদের নিজ নিজ হলে পৌঁছে দিতে কার্জন হলের দিকে রওনা হয়।
টিএসসি-কার্জন হলের রাস্তা থেকে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জলপাই রঙের পোশাকধারীরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন সহ বাকি ৫ জন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাদেরকে কোন কারণ ছাড়াই আটক করে। সেখান থেকে তাদেরকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর জিমনেশিয়াম এর মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর শুরু হয় তাদের উপর নির্যাতন-নিষ্পেশন।
আটককৃত ৬ ছাত্রলীগ শীর্ষনেতাকে কিভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল; তা আমি অনুধাবন করতে পেরেছিলাম রোটন ভাইকে দেখে , যখন রাত ২ টার দিকে রোটন ভাইকে শাহবাগ থানায় এনে রাখা হয়।
রাত তিনটার দিকে তৎকালীন ছাত্রলীগ সহসভাপতি রাশেদুল মাহমুদ রাসেল ভাই আমাকে ফোন করে বললো, এক্ষুনি শাহবাগ থানায় আসো। আমি তখনও জানি না, কি হয়েছে! রাসেল ভাই জানালো রোটনকে এরেস্ট করেছে। জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে, তিন/চারদিন আগে। সেই সময় রাতে হল থেকে বের হয়ে বাইরে ঘুরাঘুরি করাটা ছিল বিপজ্জনক। প্রচণ্ড শীত বাইরে। দ্রুত বিছানা ছেড়ে শীতের পোশাক গায়ে দিয়ে হল থেকে বের হলাম। সাথে ছিল বন্ধু কর্নেল। শামসুন নাহার হল পার হবার পর দেখি জনশূন্য রাস্তায় সেনাবাহিনীর গাড়ি টহল দিচ্ছে। এক দুই মিনিট পর পর দু’একটি করে সেনাবাহিনীর গাড়ি যাচ্ছে। টিএসসি’র ‘স্বোপার্জিত স্বাধীনতা’ ভাস্কর্যের পিছনে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি বুঝবার চেষ্টা করলাম। আশেপাশে সেনাবাহিনীর গাড়ি এখন আর দেখছি না। এই সুযোগে এক দৌঁড়ে মিলন চত্তর গিয়ে উঠলাম। মিলন চত্তর থেকে আরেক দৌঁড়ে মসজিদ গেট; পাব্লিক লাইব্রেরির সামনে কয়েকটি সেনাবাহিনীর টহল গাড়ি আছে, দূর থেকে গাড়ির লাইট দেখে বুঝতে পারছি। তবুও এগিয়ে যাচ্ছি। সিদ্ধান্ত নিয়েই রেখেছি, আমাকে রাস্তায় আটকালে বলবো বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে আমার রিলেটিভ ভর্তি, জরুরী প্রয়োজনে আমাকে যেতে হচ্ছে। চারুকলার গেট পার হবার পর দেখি গাড়িগুলো শাহবাগ থানার ভিতর ঢুকছে। দ্রুত হাঁটা শুরু করলাম। সব গাড়িগুলো থানার ভিতর ঢুকে গেছে। এই সুযোগে আমিও এক দৌঁড়ে থানার গেট পার হলাম। গেটে ঢুকেই রাসেল ভাইকে দেখলাম। এগিয়ে গেলাম। ভাই বললো, বা দিকের রুমে রোটন আছে, যাও।
রুমে ঢুকে রোটন ভাইকে দেখলাম! প্রচণ্ড শীতের মধ্যে একটি চেয়ারে খালি গায়ে বসে আছে। তার সারা শরীর ভেজা। থর থর করে কাঁপছে। শরীরে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট। আমার একটু আগে থানায় এসেছে রিয়াজউদ্দিন চৌধুরী সুমন, নীলক্ষেত আবাসিক এলাকার ছোট রাসেল ভাই ও সুব্রত দা। আমরা রোটন ভাইয়ের পাশে দাঁড়ানো। আমার গায়ের চাদরটা রোটন ভাইয়ের দিকে এগিয়ে দিতেই পুলিশের ধমক! দিতে পারলাম না। পরিবেশটা এমন, ওখানে একটা কথাও বলা যাচ্ছে না। সহ্যও করা যাচ্ছে না। অশ্রু বিসর্জন দেয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই। রোটন ভাইয়ের এই অবস্থা দেখে বুঝে নিলাম বাকি ৫ জনের কি অবস্থা হতে পারে!
সেইদিন থেকে রোটন ভাইকে টানা ১৯ মাস বিনা বিচারে ডিটেনশনের পর ডিটেনশন দিয়ে কারা-অভ্যন্তরে ডান্ডা-বেড়ি পরিয়ে রাখা হয়! বাকি ৫ ছাত্রনেতা ১১ মাস ঠিক একইভাবে নির্মম নির্যাতন এর শিকার হয়ে কারাগার থেকে মুক্ত হন।
আপনাদের প্র‌তি অশেষ শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।
রোটন ভাই দিনের পর দিন, মাসের পর মাস কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে দিনাতিপাত করছে। মাসের পর মাস চলে যায়! রোটন ভাইয়ের আব্বা-আম্মা, গোটা ছাত্রলীগ অপেক্ষায়…কবে মুক্ত হবে রোটন?
এদিকে আমাদের প্রিয় নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করে রাখার কূট অভিপ্রায়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রিয় নেত্রীকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে ‘ওরা’ গোটা বাংলাদেশকেই অবরুদ্ধ করে ফেলেছে। গণতন্ত্র, বাক-স্বাধীনতা, মুক্তচিন্তা অবরুদ্ধ।
রোটন ভাই প্রিয় নেত্রীর মুক্তির জন্য জেল থেকে চিঠির মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ এর সভাপতি শেখ সোহেল রানা টিপু ভাই ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ সাকীব বাদশা ভাইকে নির্দেশনা দিতেন। ঢাকা শহর সহ সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতৃবৃন্দদের কাছে চিঠির মাধ্যমে নেত্রীর মুক্তি আন্দোলন ত্বরান্বিত করার বার্তা পাঠাতেন।
মাসের পর মাস চলে যায়। রোটন ভাই কারান্তরীণ। এর মাঝে কয়েকবার রোটন ভাই অসুস্থ হয়ে গেল; কখনও তাকে নিয়ে আসা হলো ঢাকা মেডিকেলে, কখনওবা বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে। তখন দেখেছি, তার হাতে-পায়ে ডান্ডা-বেড়ি পরানো!
দু’দুবার তাকে ছেড়ে দিয়ে আবারও জেলগেট থেকে আটক দেখিয়ে পুনরায় কারান্তরীণ করে রাখা হয়। ডান্ডা-বেড়ি পরিয়ে একবার তাকে নেয়া হচ্ছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে, কখনওবা ময়মনসিংহ কারাগারে!
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নেত্রীর মুক্তি-আন্দোলন এর সাথে যুক্ত করলো রোটন মুক্তি আন্দোলন।
গত দু’বারের মতো আবারও রোটন ভাইকে ছেড়ে দিয়ে জেল গেট থেকে আটক করে কারান্তরীণ করে রাখা হতে পারে! এমন সংশয় ছিল আমাদের সকলের মনে!
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর তৎকালীন সহসভাপতি হাসানুজ্জামান লিটন ভাই ও তৎকালীন সহসভাপতি রাশেদুল মাহমুদ রাসেল ভাই আমাকে রোটন ভাইয়ের বাসায় সন্ধ্যায় ডাকলেন। রাসেল ভাই ও লিটন ভাই বললেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটা প্লাটফর্ম তৈরি করতে হবে। একটা ‘নাম’ ঠিক করো। আর ওই সংগঠনের ৬/৭ সদস্য বিশিষ্ট একটা আহবায়ক কমিটি প্রস্তুত কর।
ওই রাতেই সংগঠনটির নাম ঠিক করলাম, “মানবাধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ”। রাসেল ভাই-লিটন ভাইকে সংগঠনটির নাম বললাম। দু’জনই নামটি পছন্দ করলেন।
সংগঠনটির আহবায়ক কমিটি করবার জন্য পরদিন সন্ধ্যায় এনেক্স ভবনের মাঠে বসলাম। সুব্রত রায় পলাশ, সাইদ মজুমদার, শওকত ইসলাম, মহিউদ্দিন, হেদায়েত উল্লাহ সরকার, কমল কর্নেলিউস, মশিউর রহমান রুবেল, পিন্টু, এরশাদুর রহমান চৌধুরী, মুক্তাদিউর রহমান শিমুল…
এনেক্সের মাঠে বসেই “মানবাধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ” সংগঠনের আহবায়ক ঠিক করা হলো জগন্নাথ হলের কমল কর্নেলিউসকে।
যুগ্ম আহবায়ক ঠিক করা হলো: মশিউর রহমান রুবেল, এরশাদুর রহমান চৌধুরী, মুক্তাদিউর রহমান শিমুল, দেবাশিস আইচ, ধ্রুব,সূর্যসেন হলের সুমন (কিশোরগঞ্জ), জগন্নাথ হলের মোহন, চারুকলার শেখ আসমানকে।
“মানবাধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দে”র ব্যানারে শুরু হলো রোটন মুক্তি আন্দোলন। টানা কয়েকদিন চললো বিক্ষোভ মিছিল। এরপর উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি পেশ। এরমাঝে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রোটন ভাইয়ের মুক্তির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।
রোটন মুক্তি আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে টিপু ভাই ও বাদশা ভাইয়ের পরামর্শ ও সহযোগিতা ছিল অকৃত্রিম। বিভিন্ন ড্রাফট লেখা, প্রেস রিলিজ রেডি করার ক্ষেত্রে রূপক ভাই সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেছে। চারুকলার নব, রণ’র তত্ত্বাবধানে আসমান, দেব, সিনবাদ, সুজন প্লাকার্ড, ফেস্টুন প্রস্তুত করতে থাকে (নিজেদের খরচে)।
আবারও সেই পুরনো খবর! ময়মনসিংহ জেলখানা থেকে মুক্ত হয়ে জেলগেট থেকে রোটন ভাইকে আবারও কারান্তরীন করে রাখা হয়েছে!
এ খবর শোনার পর তখন আসলে সবার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। মুহূর্তের ভিতর আবার সবাই ঐক্যবদ্ধ। সবাই জড়ো হতে থাকলো ভিসি অফিসের সামনে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবরুদ্ধ করে ফেললো। ভিসি অফিসের সামনে অবস্থান নিল “মানবাধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ”। মশিউর রহমান রুবেল, এরশাদুর রহমান চৌধুরী এবং মুক্তাদিউর রহমান শিমুলের সঞ্চালনায় ভিসি অফিস ঘেরাও করে চলছে টানা অবস্থান কর্মসূচি। বিভিন্ন হলের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জড়ো হচ্ছে ভিসি অফিসের সামনে। দেবপ্রসাদ দাঁ’র নেতৃত্বে রোটন মুক্তির জন্য প্রতিবাদী গান, দেশাত্মবোধক গান, জাগরণের গান। দীর্ঘ কয়েকঘন্টা ধরে ভিসি অবরুদ্ধ। ভিসিকে মানবাধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ ইতিমধ্যে আল্টিমেটাম দিয়েছে, যদি আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে রোটন ভাইকে মুক্তি দেয়া না হয়, তবে সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ছাত্রধর্মঘট পালিত হবে। ভিসি ফায়েজ স্যার কয়েকবার ছাত্রদেরকে আশ্বস্ত করতে আসলে তিনি বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের প্রবল তোপের মুখে পড়েন। মানবাধিকার সচেতন শিক্ষার্থীদের ডাকা আল্টিমেটাম এর সাথে একাত্মতা পোষণ করে টিপু ভাই-বাদশা ভাইয়ের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।
”আমার ছেলে জেল থেকে বের হয়ে না আসা পর্যন্ত আমি এখান থেকে (উপাচার্যের কার্যালয়) যাব না। রাতে অফিসের বারান্দায় শুয়ে থাকব।”-রোটন ভাইয়ের আব্বার এই বক্তব্য শুনে বিক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রী যেন হঠাৎ আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলো।
ঘন্টার পর ঘন্টা অবস্থান কর্মসূচি চলছে। ভিসি কক্ষের ভিতর বৈঠক চলছে। কোন সদুত্তর এখনও আসেনি। খবর আসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অচলাবস্থা দূর করার জন্য ভিসি সহ বিশ্ববিদ্যালয় এর ৪ সদস্যের একটি টিমকে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে ডাকা হয়েছে।
সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
মানবাধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দের ভিসি অফিস ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি চলছে। রাত দশটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শেষে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের সামনে হাজির হয়েছে।
খবর আসলো, আগামীকাল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনকে ময়মনসিংহ কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হবে।
(রোটন ভাইয়ের মুক্তির প্রক্রিয়া এই পর্যন্ত আসার পিছনে ১/১১ পরবর্তী কারা নির্যাতিত হারুন স্যার, আনোয়ার স্যার এবং মিজান স্যারের ভূমিকা লিখে শেষ করা যাবে না।)
মুক্ত হয়ে রোটন ভাই ধানমন্ডী ৩২ নম্বর জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দেবার পর সেদিন তিনি কোন নেতাকর্মীর কাছ থেকে ফুল নেন নি। রোটন ভাইকে বলতে শুনেছিলাম, ‘নেত্রী কারা-অভ্যন্তরে; ফুল নেবার দিন এখন নয়। নেত্রী মুক্তি পাক, সেদিন ফুল নেব।’

লিখেছেন- জয়দেব নন্দী, সাবেক সহসভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি,বাংলাদেশ ছাত্রলীগ । 

Comments

comments

Close