আজ: ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং, সোমবার, ৩ পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১০ রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী, রাত ১২:৪৪
সর্বশেষ সংবাদ
খেলাধূলা, প্রধান সংবাদ বিজয় নিশান উড়ছেই টাইগারদের, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯১ রানের জয়

বিজয় নিশান উড়ছেই টাইগারদের, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯১ রানের জয়


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০১/২৩/২০১৮ , ৮:২৪ অপরাহ্ণ | বিভাগ: খেলাধূলা,প্রধান সংবাদ


Spread the love
Spread the love

ত্রিদেশীয় সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯১ রানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দলের পক্ষে সাকিব নেন সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট। এ ছাড়া মাশরাফি ২টি, সানজামুল ২টি, মুস্তাফিজুর রহমান ২টি ও রুবেল নেন ১টি উইকেট।

স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ের জন্য ২১৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৩৬.৩ ওভার শেষে সবকয়টি উইকেট হারিয়ে ১২৫ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি জিম্বাবুয়ের। তিন ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ১২ রান তুলে ফেললেও চতুর্থ ওভারে বোলিং এসে হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে তুলে নিয়ে প্রথম আঘাত হানেন টাইগার দলপতি মাশরাফি। স্লিপে সাব্বির রহমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে মাসাকাদজা করেন ৫ রান।

ইনিংসের সপ্তম ওভারে বল করতে এসে জোড়া আঘাত হানেন সাকিব। তার করা ওই ওভারের পঞ্চম ও ষষ্ঠ বলে সলোমন মিরে ও ব্রেন্ডন টেইলরকে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান বাঁহাতি এই স্পিনার। এদের মধ্যে ৭ রান করা সলোমন মিরে ফেরেন সরাসরি বোল্ড আউট হয়ে। আর এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরার আগে কোনো রানই করতে পারেননি টেইলর।

দশম ওভারে বোলিংয়ে এসে আবারো আঘাত হানেন টাইগার দলপতি মাশরাফি। এবার তার শিকার ক্রেইগ আরভিন। মাসাকাদজার মতো অফস্ট্যাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে স্লিপে সাব্বির রহমানের হাতে ধরা পড়ে সাজঘরে ফেরা আরভিন করেন ১১ রান।

আরভিনের বিদায়ের পর পিটার মুরকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্চম উইকেট জুটিতে দলীয় সংগ্রহে ৩৪ রান যোগ করেন সিকান্দার রাজা। ২৩তম ওভারে বোলিংয়ে এসে পিটার মুরকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে জুটি ভাঙেন তরুণ স্পিনার সানজামুল। মুর করেন ১৪ রান।

মুর সাজঘরে ফেরার পর ব্যাট করতে নামেন ম্যালকম ওয়ালার। তবে সানজামুলের পরের বলেই এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে জিম্বাবুয়ের ষষ্ঠ উইকেটের পতন হয়। তাদের দলীয় সংগ্রহ তখন ৬৮ রান।

ওয়ালারের বিদায়ের পর ব্যাট করতে নামেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমার। তাকে নিয়ে সপ্তম উইকেট জুটিতে ২৭ রানের আরেকটি জুটি গড়েন সিকান্দার রাজা। ইনিংসের ৩০তম ওভারে বোলিংয়ে এসে ক্রেমারকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে জুটি ভাঙেন পেসার রুবেল। এর মধ্য দিয়ে দলীয় ৯৫ রানে জিম্বাবুয়ের সপ্তম উইকেটের পতন ঘটে।

ক্রেমারের বিদায়ের পর ব্যাট করতে নামেন কাইল জার্ভিস। তাকে নিয়েও প্রতিরোধের লড়াই চালানোর চেষ্টা করেন সিকান্দার রাজা। তবে বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি তার সেই প্রচেষ্টা। ইনিংসের ৩৩তম ওভারে বোলিংয়ে এসে সিকান্দার রাজার প্রতিরোধ ভাঙেন মোস্তাফিজ। সরাসরি বোল্ড আউট হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে রাজা করেন ৩৯ রান।

মঙ্গলবার বেলা ১২টায় ঢাকার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২১৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় স্বাগতিকরা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৬ রান করেন ওপেনার তামিম ইকবাল। এছাড়া সাকিব আল হাসান করেন ৫১ রান। সানজামুল ১৯, মুশফিক ১৮ ও মোস্তাফিজ ১৮ রান করেন।

জিম্বাবুয়ের পক্ষে গ্রায়েম ক্রেমার ৪টি, কাইল জার্ভিস ৩টি এবং টেন্ডাই চাতারা ও সিকান্দার রাজা একটি করে উইকেট নেন।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশেরও। দলীয় মাত্র ৬ রানেই প্রথম উইকেট হারায় তারা। তবে দ্বিতীয় উইকেট তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের জোড়া অর্ধশতকে সে ধাক্কা কাটিয়ে ওঠে টাইগাররা। এই দুই ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর আবারো ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। এক পর্যায়ে ১৭০ রান তুলতেই আট উইকেট হারিয়ে দুইশ’ রানের নিচেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ শিবির।

তবে শেষ দিকে সানজামুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেনের দৃঢ়তায় ২১৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করাতে সক্ষম হয় টাইগাররা। সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ জেতায় এরই মধ্যে ফাইনাল নিশ্চিত বাংলাদেশের। অন্যদিকে ফাইনালে উঠতে এই ম্যাচ জয় পেতে হবে জিম্বাবুয়েকে।

এই ম্যাচে মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনকে বসিয়ে দলে জায়গা দেওয়া হয়েছে স্পিনার সানজামুল ইসলামকে। অর্থাৎ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের একাদশই খেলাচ্ছে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট।

বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, এনামুল হক, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), নাসির হোসেন, সাব্বির রহমান, মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, সানজামুল ইসলাম।

জিম্বাবুয়ে দল: হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, সলোমন মিরে, ক্রেইগ আরভিন, ব্রেন্ডন টেইলর (উইকেটরক্ষক), সিকান্দার রাজা, পিটার মুর, ম্যালকম ওয়ালার, গ্রায়েম ক্রেমার (অধিনায়ক), কাইল জার্ভিস, টেন্ডাই চাতারা, ব্লেসিং মুজারাবানি।

Share

Comments

comments

Close