আজ: [english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ
সাহিত্য রাকিবুল বাসারের একগুচ্ছ কবিতা

রাকিবুল বাসারের একগুচ্ছ কবিতা


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: 01/28/2018 , 12:59 pm | বিভাগ: সাহিত্য



 হৃদ মাঝারে হৃদিতা … 

হৃদিতা , বৃষ্টি শেষে মাটির বুক চিড়ে ভেসে আসা সোঁদা গন্ধের মতন ভালোবাসি তোকে ,
আচ্ছা হৃদিতা , ভালোবাসা কোথায় বাস করে ?

বুকের মাঝে ?
মনে? নাকি মগজে ?
হৃদিতা , মনটাইবা কোথায় থাকে ?
হৃদপিণ্ডে নাকি মগজে ?
কিসব অদ্ভুত ভাবনা এসে যায় তোকে ভালোবাসার কথা জানাতে গিয়ে !
হৃদিতা , হৃদপিন্ডের ক্রিয়াবন্ধ হয়েই মৃত্যু হয় ,
তোর জন্য আমার ভালোবাসা হৃদপিণ্ডেই হয়তো বাস করে ,
তুই আমার হৃদ মাঝারে হৃদিতা ।

 

 

  • …রাজীব হায়দার…

রাজীব হায়দার , প্রিয় ভাই আমার
কবর দেশে কেমন আছো তুমি ?
আচ্ছা তুমি কি আমাদের কথা শুনতে পারো ?
এখনো কি তোমার মাঝে আবেগ কাজ করে ?
ফুটপাতের ধারে দাঁড়িয়ে চটপটি খেতে ইচ্ছে করে না আর ?
রাজীব হায়দার , প্রিয় ভাই আমার
বলো না কবর দেশে কেমন কাটছে একাকী সময় ?
তোমার হত্যাকারীরা আজো বেঁচে আছে ,
জানিনা কবে মামলার রায় কার্যকর হবে ।
আজো বসে আছি বিশ্বাস নিয়ে ,
একদিন দেখো ঠিকই ওদের ফাঁসি হবে …।

 

…কৈফ মজনুন…

তোমার চলে যাওয়ায় কবিতা হারিয়েছে তাঁর ছন্দ ,
পড়ে আছে শূন্য পথে তোমার এই ভক্ত …
কৈফ মজনুন, তোমার চলে যাওয়ায়
অন্ধকারাচ্ছন্ন ভবিষ্যৎ দেখছে আমার দুচোখ ,
এক পৃথিবীর কালোস্রোত যেন ধেয়ে এসেছে আমার দিকে ,
তমশাময় অবাক করা প্রান্তর,
তবু চেয়ে আছি জোছনাহীন আকাশের ক্ষয়ে যাওয়া চাঁদের দিকে….
কৈফ মজনুন, তুমি তারা নাকি চাঁদ হয়ে রয়েছ আকাশে ?

জানি ফিরবে না তুমি , তবুও চেয়ে থাকি নিভৃত চিত্তে
অবিচ্ছিন্ন আলোর মাঝে শূন্যতার ছোঁয়ায়
ধাঁধায় পূর্ন চারিদিক ।
কৈফ , এতোই কি তাড়া ছিল তোমার চলে যাবার?
চলেই যদি যাবে তবে কেন এতো আপনজন হয়েছিলে ?

 

…মাধবীলতা তুমি কেমন আছো ?…

মাধবীলতা তুমি কেমন আছো ?
তুমি কী ভালো আছো মাধবীলতা ?
কতোদিন দেখা হয় না তোমার আমার ….
মাধবীলতা জানো ,
আমার বুকের গভীরে
তুমিই ছুঁয়েছিলে স্পর্শ-কাতর পংক্তিমালা
কাব্যের এ জীবন ।
আমারদিকে তাকিয়ে দেখো মাধবীলতা
,তোমায় কয়েকদিন দেখতে না পেয়ে
পাগলাটে অনিমেষ হয়ে গেছে যেন
জীবন-কাব্যের অগোছালো পংক্তিমালা ,
তবুও রঙিন স্বপ্ন বুকে
আর তোমার ভালোবাসায় বেঁচে আছে অনি ,
বুকে তার অনন্ত বিশ্বাস
মাধবী কখনইঅনিকে ছেড়ে যাবে না ।

 

…আত্মার চিৎকার …

হয়তো কোনো এক সকালে ঘুম ভেঙে দেখবে তোমার পাশে প্রাণহীন আমার দেহ ,

এমনো হতে পারে, আজ রাতেই তোমার ঠোঁটে আমার শেষ চুম্বন ,
তোমার বুকের ঘ্রাণ পেতে উদগ্রীব হয়ে থাকবে আমার আত্মা ,
নিথর দেহের সাথে আত্মার দূরত্ব ঘোচানোর কোনো উপায় থাকবে না সেদিন ,

সেদিনও আমার আত্মা চিৎকার করে বলবে তোমায় , “ভালোবাসি” ,
কিন্তু শুধু তুমি নও, এ পৃথিবীর কেউ শুনবে না সে চিৎকার …

 

……“আমি কয়েদি”……

নাজিমুদ্দিন রোডের জেলখানায় আজ সপ্তম দিন আমার,
সাতটা দিন কিভাবে কেটে গেল জানিনা !
জেলখানা থেকে তোমার হলের দূরত্ব খুবই অল্প,
এই মাঝ রাতে তুমি ঠিক কি করছো ?
আমার যেমন তোমাকে জড়িয়ে ,
ঠিক তোমারও কি তেমন আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাতে ইচ্ছে করছে ?
প্রিয়তমা মন খারাপ করো না ,
ঘুমিয়ে যেও সময় মতন ।
জানো ,
নাগরিক কোলাহলের বিপরীতে এই আবদ্ধ জেলখানায় একটুও ভালো লাগে না আমার ।
দেয়ালের ওপারে ওঠা ভোরের সূর্যের সাথে বড় অমিল এখানে …
অপরাধী না হয়েও মগজের গহীনে গেঁথে গেছে , “আমি কয়েদি” ।
লোহার গারদ তোমার আমার মাঝে যেন দুই পৃথিবী !
দেয়ালের ওপারের মানুষগুলো স্বাধীন,
আর আমি নিরাপরাধ হয়েও বিনা বিচারে বন্দী ।
এপাশের পৃথিবী নিষিদ্ধ,
তাইতো তুমি দেখা করতে এলেও মাঝখানে লোহার বেড়াজাল ।

এখানে দেয়াল জুড়ে চকের আঁকিবুকি আর কয়লার দাগ ,
তারমাঝেই একপাশে বসে , তোমার জন্য লিখছি
আমার এ গদ্যময় কবিতা , নাকি চিঠি ?

……ভয় নেই প্রিয়তমা……

 

ভয় নেই প্রিয়তমা ,

ছুঁয়ে দেখ এইতো আমি তোর পাশেই ।
অক্টোপাসের মতন জড়িয়ে রেখেছি
ভালোবাসার বাঁধনে ।
চিরন্তনী মৃত্যু ছাড়া
আরতো কেউই পারবে না এ বাঁধন ছিঁড়তে ।
ভয় নেই প্রিয়তমা,
তোর দেহের প্রতিটি অঙ্গে
আমার অস্তিত্ব জানান দিবো
আজ এ রাতে …

 

……সেদিন ফার্মগেটে……

সেদিন ফার্মগেটে
খদ্দের খোঁজা এক বালিকার সাথে দেখা।
ভদ্র সমাজের চোখে বারবনিতা বা বেশ্যা,
অথচ গল্পে গল্পে জানা হল অনেক কিছুই,
বালিকাটিরও স্বপ্ন ছিল,
প্রেমিককে স্বামী বানিয়ে ঘর করার আশা ছিল।
অথচ মিথ্যে প্রেমের ফাঁদে বালিকা আজ বেশ্যা !
হায়রে প্রেমিক পুরুষ !
তুই জানোয়ার নাকি শুয়োরের বাচ্চা ?

 

…সু-সময়…

অসময় চাইনা ,
চাই সু-সময় ,
অসময়ে দুঃখ
তাই সু-সময় ।
সু-সময়ের পথ ছেড়ে ,
যাসনে তোরা অসময়ে ,
আয় তোরা ফিরে আয় ,
এই সু-সময়ে ।

…শিরোনামহীন -১…

তোমাকে হারিয়েছি বলে দুঃখ নেই,
তোমার ঠিকানাও হারিয়ে গেছে
এখন একটুও ভাবিনা তোমায়
একা একা কথা কই
কথা কই অন্ধকারের সাথে !
আমাকে লেখার কেউ নেই এখন
তবে আমি লিখে যাই ।
সারারাত জুড়ে লিখে যাই একের পর এক কবিতা….
মনের পাতায় আজ দুঃখের গদ্য লিখি ভালোবাসাহীন কলমে ।
আমার সামনে এখন অনেক প্রশ্ন
এতো প্রশ্নের শেষ কোথায় ?
কবে ? কখন ?জানেনা এই মন ।

…“সুখের কবিতা”… 
জীবন হতে অমঙ্গল ধূমকেতুকে তাড়িয়ে দিয়েছো তুমি কোটি নক্ষত্রের অন্তরীক্ষে ,
ব্যর্থ কুহেলিকার রঙ আজ জায়গা পায়না আমার জীবনে ,
তোমার দুহাত ধরে রঙিন স্বপ্নের ভিতর পথ চলছি আমি ,
জীবন কাব্যের অগোছালো পংক্তিমালা আজ “সুখের কবিতা” ,
তুমি , তুমি এই তুমিই আমার সুখ , আমার ভালোবাসা ।

…পরী… 
( অসমাপ্ত কবিতা- ” পরী” , উৎসর্গ – প্রিয়তমা ঋতু মজুমদার )

নদীর কাছে যে ভাবে নতজানু হয় চড় ভাঙা মানুষ ,
সেভাবেই আমি নতজানু তোর বুকের ঘ্রাণ পেতে ,
নাভিমূলে মৌমাছির হুল ফুটানোর যে যন্ত্রণা ,
তার থেকে বেশি যন্ত্রণা হয় তোর চোখে অশ্রু জল দেখে ,
পরী , এ জীবন শুধু তোর জন্য ,
পরী , এ ভালোবাসা শুধু তোর জন্য …

…মেয়ে তোমায় বলা হয়নি… 

মেয়ে তোমায় বলা হয়নি
কতোটা বেসেছিলাম ভালো ,
মেয়ে তোমায় বলা হয়নি,
তোমার কথা ভেবে
কতো রাত বিনিদ্র থেকে
চোখের নীচটা করেছিলাম কালো ,
মেয়ে তোমায় বলা হয়নি ,
বলা হয়নি আমিই সেই ,
রোজ বিকেলে তোমার বারান্দায়
গোলাপ ছুঁড়তো এই ছেলেই ।

একজন ধর্মীয় কমিউনিস্ট চেয়েছিল…

একজন ধর্মীয় কমিউনিস্ট চেয়েছিলাম,
যিনি মানবতার কথা বলবেন
মানুষের কথা বুঝবেন …

ধর্মের বাঁধ ভাঙার জন্য
মানুষের রূপে দেবতার দেখা চেয়েছিলাম ।
যিনি অভুক্তের দেয়া পূজার প্রসাদ খেয়ে নয়,
অভুক্তকে খাইয়ে
মাটির দেবতার অক্ষমতা ধরিয়ে দেবেন ।

 

…শীতল ঠোঁটের স্পর্শ… 

সে এক স্বর্গীয় অনুভূতি ,
প্রথম চুম্বন প্রিয়ার ঠোঁটে ,
শীতল ঠোঁটের স্পর্শ
সে স্বাদ যেন অমৃতের ।
আমার বুক কাঁপে ,প্রিয়ার শরীর কাঁপে ।
বিদিক শূন্য হয়ে যাই
কয়েক সেকেন্ডে ।
আমার ঠোঁট তার ভেজা ঠোঁটের দরজা খুলতে অবিরাম প্রচেষ্টায় মত্ত ,
বুঝি তার ঠোঁটের কারুকাজ বড়ই লাজুক সক্রিয় ,
তারপর নিস্ক্রিয় হয়ে যাই ।

 

 

Comments

comments

Close