আজ: ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, সোমবার, ১৪ ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১০ জমাদিউস-সানি, ১৪৩৯ হিজরী, রাত ৩:৪০
সর্বশেষ সংবাদ

আ-ম‌রি বাংলা ভাষা


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০২/০১/২০১৮ , ৬:৩১ অপরাহ্ণ | বিভাগ: ফেসবুক থেকে,বাংলাদেশ,সম্পাদকীয়


মোহাম্মদ শা‌ব্বির হোসাইন:

প্র‌তি বছর ভাষার মাস এলেই আমা‌দের ম‌ধ্যে একপ্রকার ভাষা‌প্রেম জে‌গে ও‌ঠে। কত রকম লেখা, কত রকম মন্তব্য! অথচ মাস শেষ হ‌তে না হ‌তেই আমা‌দের সে প্রেম হাওয়ায় মি‌লি‌য়ে যায়। কে‌নো এমন? চার‌দি‌কে বি‌ভিন্ন জায়গায় তো ব‌টেই এমন‌কি ফেসবু‌কের ওয়া‌লে পর্যন্ত কত রকম ভুল লেখার ছড়াছ‌ড়ি! প্র‌তি‌নিয়ত হাজা‌রো ভু‌লে আমরা আমা‌দের বর্ণমালা‌কে কর‌ছি রক্তাক্ত। ক‌ম্পিউটার বা মোবাই‌লে বাংলা না থাকার অযুহা‌তে আমরা শুরু ক‌রে‌ছি বাং‌লিশ বা বাং‌রে‌জি লেখা। ইদা‌নিং তো তরুণ প্রজ‌ন্মের ম‌ধ্যে শুরু হ‌য়ে‌ছে এক ধর‌ণের ভয়াবহ ব্যাপার। বক্তব্য‌কে সং‌ক্ষিপ্ত করার না‌মে সে বাং‌রে‌জি ভাষা‌কে আবার সং‌ক্ষিপ্ত ক‌রে (blte = বল‌তে) এমন একটা কক‌টেল বানা‌নো হ‌চ্ছে যে রী‌তিমত আতং‌কের ব্যাপার। পৃ‌থিবী‌তে একমাত্র ভাষা যার জন্য রক্ত ঝ‌রে‌ছে তা হ‌লো আমার গ‌র্বের বাংলা ভাষা। আমরা কো‌নো শিক্ষক কিংবা অভিভাবক কি পে‌রে‌ছি নতুন প্রজ‌ন্মের মা‌ঝে স‌ত্যিকা‌রের ভাষা‌প্রেম জা‌গি‌য়ে তুল‌তে? কিভা‌বে সম্ভব? আমি নি‌জেই যা ধারণ ক‌রি না তা আমার প্রজ‌ন্মের মা‌ঝে কীভা‌বে সঞ্চা‌রিত করব? তাহ‌লে কি দি‌নে দি‌নে বাংলা ভাষার প্র‌তি যে আবেগ তা হা‌রি‌য়ে যা‌বে? নয়ত কি? প্র‌তিমুহু‌র্তে আমার বর্ণমালাগু‌লো যেভা‌বে ধ‌র্ষিত হ‌চ্ছে কা‌জেই সেখান থে‌কে আর কি আশা করা যে‌তে পা‌রে? বাংলা ভাষায় একজন প‌ন্ডিত শিক্ষ‌কের সাহচ‌র্যে আসার সৌভাগ্য আমার হ‌য়ে‌ছিল। তি‌নি হ‌লেন, ঢাঃ‌বিঃ এর বাংলা বিভা‌গের সা‌বেক অধ্যাপক ন‌রেন বিশ্বাস স্যার। অত্যন্ত গুণী মানুষ ছি‌লেন, আত্মপ্রচা‌রে আগ্রহী ছি‌লেন না কখ‌নো। তি‌নি ক্লা‌সে বল‌তেন, ‘বধূ’ তে য‌দি ঊ-কার দেয়া না হয় তাহ‌লে বধূ‌কে ‘বধ’ করা হয়। আর কাউ‌কে বধ করার যে শা‌স্তি সে রকম শা‌স্তির ভয় ভেত‌রে জাগ্রত থাক‌লেই কেবল বানান ভু‌লের ব্যাপা‌রে যত্নবান থাকা সম্ভব। শিশুদের জন্য প্রধান শিক্ষালয় হ‌লো তার প‌রিবার, দ্বিতীয়ত স্কুল। এরপর তার পা‌রিপা‌র্শ্বিক প‌রি‌বেশ। অনেক সময় দেখা যায়, কো‌নো শিক্ষক য‌দি ভুল কিছু শেখান আর সেটা তার অভিভাবক সং‌শোধ‌ন করে দেন তাহ‌লে শিশু শিক্ষ‌কের শেখা‌নো পাঠ‌কেই স‌ঠিক ব‌লে বিশ্বাস ক‌রে। আবার অনেক সময় দেখা যায়, শিশুরা পথ চল‌তে আশেপা‌শে দে‌খেও অনেক কিছু শে‌খে। বি‌ভিন্ন দোকা‌নের সাইন বোর্ড, হো‌র্ডিং, বিল বোর্ড, বা‌সের গা‌য়ে বা ভেত‌রে লেখা ইত্যা‌দি। আশ্চ‌র্যের বিষয় হ‌লো, এ স‌বের বে‌শিরভাগ লেখাতেই থাকে অসংখ্য বানান ভুল। কোমলম‌তি শিশু‌দের এসব জানার কথা নয়। কা‌জেই এ বানানটা তার ম‌নে গেঁ‌থে যায় যেটা পরবর্তী‌তে তা‌কে ভুল লিখ‌তে সাহায্য ক‌রে। অনেক মেধাবী শিশু ভুল ধর‌তে পারার পর বিভ্রা‌ন্তি‌তে প‌ড়ে যায়, তাহ‌লে কোনটা স‌ঠিক? যেটা জা‌নি সেটা না‌কি যেটা লেখা দেখ‌ছি সেটা? সুতরাং, বানান ভু‌লের ব্যাপা‌রে সকলের অতিশয় যত্নবান হওয়া আবশ্যক। কল্পনাই করা যায় না‌, যে ভাষা নি‌য়ে আমার গর্ব, অহংকার, যে ভাষায় মন প্রাণ উজার ক‌রে ম‌নের ভাব প্রকাশ কর‌তে পা‌রি, যে ভাষার অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ঢাকার রাজপথ হ‌লো রক্তাক্ত সে ভাষায় কথা বল‌তে বা লিখ‌তে আমার ভাই, আমার সন্তান ভুল কর‌বে! আমা‌দের ভ‌বিষ্যৎ প্রজন্ম‌কে রক্ষা কর‌তে হ‌লে, তা‌দের‌কে যোগ্য নাগ‌রিক হি‌সে‌বে আগামী দি‌নের নেতৃত্বের জন্য গ‌ড়ে তুল‌তে হ‌লে শিক্ষা ব্যবস্থায় প‌রিবর্তন জরুরী। ‌ছোট‌বেলায় আমরা নী‌তি কথা মুখস্ত ক‌রে‌ছিলাম, সকা‌লে উঠিয়া আমি ম‌নে ম‌নে ব‌লি, সারা‌দিন যে‌নো আমি ভা‌লো হ‌য়ে চ‌লি। প‌রবর্তীতে এই ক‌বিতার কথাগু‌লো প্র‌তি‌টি মানু‌ষের জীব‌নে ব্যাপক কার্যকর প্রভাব ফে‌লে। তখন দে‌খি‌নি কো‌নো মানুষ তার ব‌য়ো‌জ্যেষ্ঠকে অসম্মান ক‌রে‌ছে বা তার সা‌থে বেয়াদবী ক‌রে‌ছে। কিন্তু আজকাল এমন ঘটনা অহরহই ঘট‌ছে। কারণ ছোট‌বেলায় তারা ঐ সকল নী‌তিকথার প‌রিব‌র্তে শিখ‌ছে, হা‌ট্টিমা‌টিম টিম, তা‌দের খাড়া দু‌টো শিং। এমন অলীক বিষয় আমরা তাদের শিখা‌চ্ছি যার কো‌নো অস্তিত্বই নাই। বড় হ‌য়ে ঐ শিশু জান‌বে যে তা‌কে মিথ্যা জি‌নিস শেখা‌নো হ‌য়ে‌ছে। কা‌জেই মিথ্যা বলা কো‌নো অপরাধ তার কা‌ছে ম‌নে হ‌বে না। এভা‌বেই আমরা আমা‌দের আগামী প্রজন্ম‌কে ধ্বং‌সের মু‌খে ঠে‌লে দি‌চ্ছি। এখনই সমাজ স‌চেতন সকল মানুষ‌কে বি‌শেষ ক‌রে যাঁরা দে‌শের নী‌তি‌ নির্ধারণী ব্যাপা‌রে জ‌ড়িত তাঁ‌দের বিষয়‌টি অতীব গুরু‌ত্বের সা‌থে বি‌বেচনা করার অনু‌রোধ কর‌ছি।

Comments

comments

Close