আজ: [english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ
ফেসবুক থেকে, সম্পাদকীয় বেগম জিয়া কারাগারে এবং অতঃপর…….

বেগম জিয়া কারাগারে এবং অতঃপর…….


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: 02/26/2018 , 12:02 am | বিভাগ: ফেসবুক থেকে,সম্পাদকীয়



নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে যে দন্ডিত ব্যক্তি দলের কোন “দায়িত্বশীল পদে“ বহাল থাকতে পারবেন না; তবে খালেদা জিয়া দলের চেয়ারপারসন হিসেবে বহাল থাকতে পারবেন না। বলা বাহুল্য, দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দলে রড় কোন পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না। এক্ষেত্রে তিনি হয়তো দূর থেকে দলকে নির্দেশনা দিয়ে যেতে পারবেন। জিয়া পরিবারে কেউ হয়তো দলের হাল ধরার থাকছেন না। তারেক রহমান হয়তো সাহস করে দেশে ফিরে দলকে নেতৃত্ব দেবেন তা অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় না।

 

১। দুর্নীতি মামলা ও দন্ড

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জিয়ার পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায় হয়েছে। তিনি ছাড়াও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানেরও সাজা হয়েছে এবং সাথে অর্থদণ্ড। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এর আগেও আর একটি মামলায় দশ বছরের সাজা হয়েছে। তারেক রহমান বর্তমানে পলাতক পলাতক রয়েছেন বলে দেখানো হয়েছে। তিনি প্রায় দশ বছর সময় ধরে লন্ডনে সপরিবারে বসবাস করছেন। দূর থেকেই বিএনপির নীতিনির্ধারণীর ক্ষেত্রে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সহায়তা করতেন।

 

২। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্যে বিএনপি’র আন্দোলন

 

শুরুতে, বিশেষ করে রায়ের দিন জনগণের মাঝে প্রচণ্ড আশঙ্কা ছিল বিএনপির সহিংস আন্দোলন করবে কিনা। রাস্তাঘাটে মানুষ ও গাড়িও ছিল অল্প। প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। প্রশাসন ও পুলিশ ছিল তৎপর। তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা বিএনপি থেকে ঘটানোর সুযোগ ছিল না।

 

 

দন্ডিত হওয়ার আগে থেকেই প্রশ্নটি ছিল, দন্ডিত হলে খালেদা জিয়া কি নির্বাচন করতে পারবেন? দন্ডের পরে প্রশ্নটি ব্যাপক আলোচনায় আছে। বিএনপি দাবি করছে হাইকোর্টে আপিল করার পর হাইকোর্ট দন্ড স্থগিতাদেশ দিলেই বেগম জিয়া জামিন নিয়ে বেরিয়ে আসবেন।  অন্যদিকে, বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরো ৩৬টি মামলা রয়েছে । এসকল মামলার কোনটিতে তাঁকে শ্যেন এরেস্ট দেখানো হলে বেগম খালেদা জিয়ার জেলবাস দীর্ঘায়িত হতে পারে।

 

 

একটি বিষয় লক্ষণীয়, বিএনপির নেতা কর্মীরা বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচন করা নিয়ে ভাবছেন। এর অর্থ হতে পারে, আগামি নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ নিশ্চিত। মুখে-সংবাদ সম্মেলনে-বক্তৃতায় যতই তারা বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন করবে না বলে দাবি করলেও নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েই আছে।

 

৩। বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধন ও নির্বাচন কমিশন

 

বেগম খালেদা জিয়া দন্ডিত হওয়ার সপ্তাহ কয়েক আগে অনেকটা তড়িঘড়ি করে বিএনপি তাদের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেয়। কি ছিল সেই সংশোধনীতে? মূল গঠনতন্ত্রে ছিল (অনেকটা এরকম) “দুর্নীতি দায়ে কোন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি দলের সদস্য হতে পারবেন না। এমনকি সংসদ্ নির্বাচনেও অংশ নেয়ার সুযোগ নেই।” সেই ৭নং ধারাটিই সংশোধিত হয়। বিএনপির নেতৃবৃন্দ আগেই নিশ্চিত ছিলেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দন্ডিত হতে যাচ্ছেন। দলীয় প্রধান হিসেবে তাঁকে রাখতেই গঠনতন্ত্রের এ পরিবর্তন তা বলা বাহুল্য।

 

নির্বাচন কমিশন এখনো পর্যন্ত গঠনতন্ত্রের পরিবর্তনকে গ্রহণ বা বর্জন কোনটিই করেনি। তবে, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী অর্থ আত্মসাত মামলায় কেহ দু’ বছরের বেশী দন্ডিত হলে সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী দু’ বছরের মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে, নির্বাচন কমিশনের কিছু করার হয়তো নেই। তবে, নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে যে দন্ডিত ব্যক্তি দলের কোন “দায়িত্বশীল পদে“ বহাল থাকতে পারবেন না; তবে খালেদা জিয়া দলের চেয়ারপারসন হিসেবে বহাল থাকতে পারবেন না। বলা বাহুল্য, দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দলে রড় কোন পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না। এক্ষেত্রে তিনি হয়তো দূর থেকে দলকে নির্দেশনা দিয়ে যেতে পারবেন। জিয়া পরিবারে কেউ হয়তো দলের হাল ধরার থাকছেন না। তারেক রহমান হয়তো সাহস করে দেশে ফিরে দলকে নেতৃত্ব দেবেন তা অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় না।

 

৪। খালেদা ও তারেক রহমানের বিকল্প নের্তৃত্বঃ

জিয়া পরিবারের বাইরে থেকে কোন রাজনীতিক বিএনপিকে বাঁচাতে নের্তৃত্ব দেবেন তা কল্পনারও অতীত। প্রশ্নটি রাজনীতিবিদদের যোগ্যতা নিয়ে নয়; সিনিয়র নেতাদের নেতৃত্বের দ্বন্দের পাশাপাশি রয়েছে একে অপরের প্রতি অবিশ্বাস এবং সাধারণ কর্মিদের কাছে নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা। দলের সিনিয়র নেতাদের সাথেও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে যা অনেকে সমাধানযোগ্য নয় বলেই মনে করেন তবে, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বিএনপিকে এ প্রথমবারের মতো জিয়া পরিবারের বাইরের কোন একক বা যৌথভাবে নেতৃবৃন্দ নেতৃত্ব দেবেন। তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধেও রয়েছে দুর্নীতির মামলা। অন্যদিকে, তারেক তনয়া জাইমা রহমান এখনো পরিনত বয়সী নন যে বিএনপির মতো বিশাল এক রাজনৈতিক দলকে নেতৃত্ব দেবেন।

 

নেতৃত্বে থেকে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিদায়ের সাথে সাথে দলের মধ্যকার বর্তমান কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে যা পরিবর্তি নেতৃত্ব সামাল দিতে ব্যর্থ হবেন। সিনিয়র নেতাদের সবাই দলের নেতৃত্ব দিতে ইচ্ছে প্রকাশ করবেন। বেগম খালেদা জিয়ার প্রচ্ছন্ন সমর্থনেই হয়তো নতুন নেতৃত্ব আসবে; জিয়া পরিবারের বাঁধন আলগা হয়ে যাবে। বঞ্চিত নেতৃবৃন্দ আলাদা দল করার প্রয়াস পাবেন, দল ভেঙ্গে যাবে নিশ্চিত করেই বলা চলে।

 

সবকিছুই আগামি কিছুদিনের মধ্যেই পরিষ্কারভাবে জানা যাবে বলেই ধারণা করা যায়।

 

 

এম এস আলম, যুক্তরাজ্য, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ 

Comments

comments

Close