আজ: [english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ

শুভ জন্মদিন বাংলাদেশ


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: 03/26/2018 , 12:11 am | বিভাগ: জাতীয়,প্রধান সংবাদ,বাংলাদেশ,মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের ইতিহাস



জেসমিন হাওলাদার মোহনাঃ  আজ ২৬শে মার্চ বাংলাদেশের ৪৭  তম জন্মদিন,  মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ।  বাঙালির হৃদয়ে রক্তের অক্ষরে লেখা একটি দিন। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এই স্বাধীনতা, এই দিনে জাতি স্মরণ করছে বীর শহীদদের৷ স্বাধীনতা দিবস তাই বাংলাদেশের মানুষের কাছে মুক্তির প্রতিজ্ঞায় উদ্দীপ্ত হওয়ার ইতিহাস৷

হাঁটি হাঁটি  পা পা করে বাংলাদেশ নামের দেশটি এখন উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার শপথ গ্রহনের মধ্য দিয়ে পুরো জাতি আজ মহান স্বাধীনতা  ও বাংলাদেশের জন্মদিন উদযাপন করবে।

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের আজকের দিনে স্বাধীনতা অর্জনের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ।  ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন,  ৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয়লাভ, ৫৬-এর সংবিধান প্রণয়নের আন্দোলন, ৫৮-এর মার্শাল ’ল বিরোধী আন্দোলন, ৬২-এর শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলন, ৬৬-এর বাঙালির মুক্তির সনদ ৬দফার আন্দোলন,  ৬৯-এর রক্তঝরা গণঅভ্যুত্থানের পথ পেরিয়ে ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে বাংলার মানুষের ভোটে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করতে থাকে। তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আলোচনার আড়ালে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে পাকিস্তানের সামরিক জান্তা। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতা হস্তান্তরে অনীহার কারণে বাংলার মুক্তকামী মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এমনই এক প্রেক্ষাপটে ২৫ শে মার্চ কালরাত্রিতে পাক হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ সারাদেশে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে ইতিহাসের বর্বরোচিত গণহত্যা শুরু করে। মধ্যরাতেই অর্থাত্ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরের বাড়ি (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু ভবন) থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইপিআরের ওয়্যারলেসে স্বাধীনতার ডাক দেন।

 

চট্টগ্রামে অবস্থানকারী আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক জহুর আহমেদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার বাণী সেই রাতেই সাইক্লোস্টাইল করে শহরবাসীর মধ্যে বিলির ব্যবস্থা করেন। পরে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা সংক্রান্ত বিবৃতিটি সর্বপ্রথম পাঠ করেন আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান। এরপর ২৭ শে মার্চ তত্কালীন মেজর জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।

 

সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে আজ  মহান স্বাধীনতা দিবসটি পালন করা হবে। সব ভবনে ও শহরের প্রধান সড়কগুলোতে উড়বে রক্তস্নাত জাতীয় পতাকা। সকালে ফুলে ফুলে ভরে উঠবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে দলমত নির্বিশেষে সেখানে হাজির হবে লাখো মানুষ। ভোর ৬টায় রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুষ্পস্তবক অর্পণের পরই সাধারণের জন্য স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। আজ সরকারি ছুটির দিন। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

 

রাষ্ট্রপতির বাণী

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বাণীতে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে আরো অর্থবহ করতে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে তিনি দেশবাসীসহ প্রবাসে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। রাষ্ট্রপতি ঐতিহাসিক এই দিনে পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যার নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় মহান স্বাধীনতা।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন। এ অর্জনকে অর্থপূর্ণ করতে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে হবে। স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করতে হবে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দিতে হবে। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে তিনি দেশবাসী এবং প্রবাসী বাঙালিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ২৬ মার্চ ‘আমাদের জাতির আত্মপরিচয় অর্জনের দিন। পরাধীনতার শিকল ভাঙার দিন।’

জাতীয় পার্টির (জেপি) শুভেচ্ছা

জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৭তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০১৮ উপলক্ষে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে জেপির নেতৃদ্বয় আমাদের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধে নিহত সকল শহীদের স্মৃতি বিনম্র শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, ৩০ লাখ শহীদ ও কোটি জনতার ত্যাগ ও তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতার এই মহান লগ্নে আমরা গভীর শ্রদ্ধায় ও বিনম্র ভালোবাসায় স্মরণ করছি সকল শহীদ ও আত্মত্যাগকারী বাংলার জনগণকে। আমরা সেই সাথে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও কারাগারে নিহত জাতীয় চার নেতার প্রতি, যারা মুক্তিযুদ্ধে আমাদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আমরা তাদের এই আত্মত্যাগ থেকে সব সময়ই প্রেরণা লাভ করব এবং দেশপ্রেমের অগ্নিমঞ্চে দীক্ষিত হব। জেপি নেতৃদ্বয় বলেন, স্বাধীনতা দিবসের এই মহান লগ্নে আমরা দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উত্জীবিত হয়ে এক সুখী সমৃদ্ধশালী উন্নত দেশ গড়ার সংগ্রামে অংশ গ্রহণের আহ্বান জানাই।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি

আওয়ামী লীগের দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ সোমবার সূর্যোদয়ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৬টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, সকাল ৭টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, বেলা ১১টায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার মাজারে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। এছাড়া দিবসটি স্মরণে আওয়ামী লীগ আগামীকাল মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। সভায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন।

জেপির কর্মসূচি

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় পার্টি-জেপি বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। মহান স্বাধীনতা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৬টায় সাভারস্থ জাতীয় স্মৃতিসৌধে জেপির পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। জেপির সকল কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। আগামী ২৮ মার্চ বিকাল সাড়ে ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে কনফারেন্স লাউঞ্জে জাতীয় পার্টি-জেপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব কবেন জেপির চেয়ারম্যান এবং পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি। উক্ত সভায় বরেণ্য রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবিগণ অংশগ্রহণ করবেন। জাতীয় পার্টি-জেপির সাধারণ সম্পাদক উক্ত কর্মসূচি সফল করার জন্য সকল নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান এবং জেপির সকল শাখাকে অনুরূপ কর্মসূচি গ্রহণ করে স্বাধীনতা দিবস পালনে নির্দেশ প্রদান করেন।

Comments

comments

Close