আজ: ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং, রবিবার, ২ পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৯ রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী, রাত ১২:৫৩
সর্বশেষ সংবাদ
সম্পাদকীয় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে জৈবপ্রযুক্তির ভূমিকা

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে জৈবপ্রযুক্তির ভূমিকা


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০৩/২৬/২০১৮ , ৭:৩১ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: সম্পাদকীয়


Spread the love
Spread the love

মোঃ মেহেদী কাউসার ফরাজীঃ  আমাদের আলোচনার বিষয় হচ্ছে “টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে জৈবপ্রযুক্তির ভূমিকা”। অর্থাৎ, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও বিশ্লেষণী আলোচনার মাধ্যমে  ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য-২০৩০’ ও  ‘জৈবপ্রযুক্তি’  -এ দুটো বিষয়ের মেলবন্ধন সৃষ্টি করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য জৈবপ্রযুক্তির বিভিন্ন ব্যবহার সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞানলাভের চেষ্টা করবো।

) টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য২০৩০: ১) টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য-২০৩০ হচ্ছে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত একটি উন্নয়ন পরিক্রমা, যার ইংরেজি প্রতিশব্দ “Sustainable Development Goal-2030” বা সংক্ষেপে SDG. ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য পুরোপুরি দূর করা এবং বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার জন্য নতুন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের খসড়া রোডম্যাপ ২ আগস্ট ২০১৫ সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশ দীর্ঘ তিন বছরের দর-কষাকষি শেষে ১৭টি লক্ষ্য সামনে রেখে ৩০ পৃষ্ঠার এ খসড়া গ্রহণ করে। এর নামকরণ করা হয় “Transforming Our World : The 2030 Agenda for Sustainable Development”. ২৫-২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫ নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত টেকসই উন্নয়ন শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের শীর্ষ নেতারা চরম দারিদ্র্যমুক্ত, পরিবেশ সুরক্ষিত ও নিরাপদে বসবাস উপযোগী বিশ্ব তৈরির লক্ষ্যে উপরিউক্ত এজেন্ডা চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেন। ১ জানুয়ারী ২০১৬ থেকে এ লক্ষ্য পূরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

২) জৈবপ্রযুক্তি: বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ও যুগোপযোগী বিষয়ের নাম জৈবপ্রযুক্তি বা বায়োটেকনোলজি (Biotechnology)। “বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশলগত নীতি অনুসরণ ও প্রয়োগ করে জীবদেরকে (উদ্ভিদ বা প্রাণী) ব্যবহার করার মাধ্যমে মানুষের জন্য কল্যাণকর ও ব্যবহারযোগ্য প্রয়োজনীয় মালামাল তৈরীর বিশেষ প্রযুক্তিকে জৈব প্রযুক্তি বলে (কোলম্যান-১৯৮৬)।“ অর্থাৎ, “যে বিশেষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে বিভিন্ন ধরণের অণুজীব এবং উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ উৎস বা দ্রব্যাদি ব্যবহার করে মানবকল্যাণ সাধন করা যায় তাকেই জৈবপ্রযুক্তি বলে”।

আবহমানকাল থেকে মানুষ তার প্রয়োজনে বিভিন্ন ধরনের জৈবপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছে। পাউরুটি তৈরির জন্য ঈস্টের (Yeast) ব্যবহার করার প্রাচীন প্রযুক্তি থেকে শুরু করে ক্লোনিং (Cloning) পদ্ধতিতে ডিপ্লয়েড (2n) দেহকোষ থেকে অযৌন পদ্ধতিতে স্তন্যপায়ী শিশু ভেড়া ডলি, পলি, মলি ও ট্রেসির জন্মের মত অত্যাধুনিক পদ্ধতি ইত্যাদি সকল কিছুই জৈবপ্রযুক্তির (Biotechnology) অন্তর্ভুক্ত।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে জৈবপ্রযুক্তির ভূমিকা :

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য-২০৩০-এ গৃহীত ১৭টি লক্ষ্য অর্জনে জাতিসংঘের সদস্য দেশসমূহ বিভিন্ন উপায়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করবে এবং দক্ষ জনশক্তিকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিবে। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশসমূহের ক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য-২০৩০-এ গৃহীত ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে যেগুলো অর্জনে জৈবপ্রযুক্তি (Biotechnology) বিষয়ক জ্ঞানলাভ এবং তা প্রয়োগের প্রয়োজন সেগুলো হলো:

লক্ষ্য০১: সকল প্রকার দারিদ্র্য দূরীকরণ

দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সবচেয়ে কার্যকরী হচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে তাদেরকে স্বাবলম্বী করে তোলা। এক্ষেত্রে জৈবপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্প/খামার (যেমন: হাঁস-মুরগি ও মাছের সমন্বিত চাষ, মাশরুম খামার প্রভৃতি) করা উত্তম। এসব খামারের প্রতিষ্ঠাতা ও কর্মচারীরা অল্প বিনিয়োগে নিজেদেরকে স্বাবলম্বী করতে পারেন।

লক্ষ্য০২: ক্ষুধা দূরীকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন এবং পুষ্টির উন্নয়ন কৃষির টেকসই উন্নয়ন

জৈবপ্রযুক্তি ব্যবহার করে নিম্নোক্ত উপায়ে এই লক্ষ্য অর্জন করা যাবে:

  • ধানক্ষেতে মাছ চাষ,
  • একই পুকুরে রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের চাষ করা,
  • কোন নির্দিষ্ট মাছ চাষ করার ক্ষেত্রে উচ্চফলন পাবার উদ্দেশ্যে স্ত্রী মাছকে Sex-reversal বা লিঙ্গ পরিবর্তন পদ্ধতিতে পুরুষ মাছে রূপান্তরিত করে অবাঞ্ছিত জন্ম রোধ করে মাছের দৈহিক বৃদ্ধি বাড়ানো।
  • ইরি, বিরি (IRRI, BRRI) ইত্যাদি উচ্চ ফলনশীল ধান উৎপাদন,
  • ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ প্রতিহতকারী ফসল ও ফল উৎপাদন,
  • অধিক ডিম প্রসবকারী মুরগির (Layer) এবং অধিক মাংস বিশিষ্ট মোরগ-মুরগির (Broyler) উৎপাদন,
  • পাতলা খোসা বিশিষ্ট ও বীজহীন, সহজে পচে যায় না এমন ফল উৎপাদন প্রভৃতি।

লক্ষ্য০৩: স্বাস্থ্যসম্মত জীবনমান নিশ্চিতকরণ এবং সব বয়সের সকলের জন্য কল্যাণ করা

চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা জৈবপ্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং সে সবের সাফল্যজনক প্রয়োগ করার মাধ্যমে মানুষের প্রভূত কল্যাণ সাধন করে চলেছেন। নিম্নে কয়েকটি বায়োটেকনোলজিক্যাল উপায় উল্লেখ করা হলো যেগুলো এসডিজি-২০৩০’র লক্ষ্য-০৩ পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখছে:

  • পুরুষ মশাকে বন্ধ্যা করে ম্যালেরিয়া নিবারণের পদক্ষেপ নেওয়া,
  • জীন থেরাপি পদ্ধতিতে চিকিৎসা করার মাধ্যমে হাঁপানি, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, এমনকি কোলন ক্যান্সার ইত্যাদি বিভিন্ন দুরারোগ্য বংশগত ব্যাধি থেকে রক্ষা পাওয়া,
  • ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় বিশুদ্ধ মানব ইনসুলিন, ক্যান্সার রোগীর ইন্টারফেরন ওষুধ, মানুষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রনকারী হরমোন উৎপাদন করা হয়েছে,
  • মানুষের রক্তে স্যুগার, হরমোন ইত্যাদির পরিমাণ নির্ণয় এবং মাদক জাতীয় দ্রব্যের উপস্থিতি তাৎক্ষনিকভাবে পরিমাপ করার জন্য বাণিজ্যিকভাবে বায়োসেন্সর (Biosensor) তৈরি করা হয়।
  • সন্তানের পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব নির্ণয় করা যায়।

 

লক্ষ্য০৬: সকলের জন্য নিরাপদ পানি স্যানিটেশনএর টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা

সকলের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিতকরণে জৈবপ্রযুক্তি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। পানি দূষণরোধে কৃষিজমিতে বিষাক্ত রাসায়নিক সারের পরিবর্তে বিভিন্ন জৈবসার (যেমন- গোবর, কেঁচোসার প্রভৃতি) ব্যবহার করা যেতে পারে। জৈবজ্বালানি ব্যবহার করে অল্প খরচে ভূগর্ভস্থ পানিও উত্তোলন সম্ভব। স্যানিটেশনের ক্ষেত্রেও জৈবপ্রযুক্তি ভূমিকা রাখতে পারে।

লক্ষ্য০৭: সকলের জন্য সহজলভ্য, সুবিধাজনক, নির্ভরযোগ্য, স্থিতিশীল আধুনিক জ্বালানি বা বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা

বর্তমান সময়ে জ্বালানি সঙ্কট হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম সমস্যা। এ কারণে এসডিজি-২০৩০’র অন্যতম লক্ষ্য এই সঙ্কট মোকাবেলা করা। আধুনিক জৈবপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন করা সহজতর হয়ে যাবে। বিভিন্ন ধরনের জৈব আবর্জনা থেকে বায়োগ্যাস তৈরি করে বর্তমানে গ্যাস এবং বিদ্যুতের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। বসতবাড়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিল্পে এই বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

লক্ষ্য০৯: মনোরম স্থাপনা নির্মাণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থিতিশীল শিল্পায়ন এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা

জৈবপ্রযুক্তি ব্যবহার করে শহরাঞ্চলে সবুজবিপ্লব সাধিত হচ্ছে। আকাশচুম্বী সব দালানের দেয়ালে ও ছাদে বাহারি বৃক্ষরোপণের ব্যবস্থা করা যাচ্ছে। ছাদকৃষির মাধ্যমে সংকরিত ফল ও সবজি চাষ করা সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতে বায়োটেকনোলজির আধুনিকায়নের মাধ্যমে জীন রহস্যের সকল জট খুলে মানুষের জীন বিষয়ক সবকিছু জানা যাবে; ফলে মানুষ তার ইচ্ছানুযায়ী ছেলে সন্তান বা মেয়ে সন্তান নিতে পারবে। এভাবে পৃথিবীতে নিত্য-নতুন উদ্ভাবনের প্রতিযোগীতা সৃষ্টি হবে।

লক্ষ্য১১: মানববসতি শহরগুলোকে নিরাপদ, মনোরম স্থিতিশীল রাখা

জৈবপ্রযুক্তি ব্যবহার করে শহরাঞ্চলে সবুজবিপ্লব সাধিত হচ্ছে। আকাশচুম্বী সব দালানের দেয়ালে ও ছাদে বাহারি বৃক্ষরোপণের ব্যবস্থা করা যাচ্ছে। পরিবেশবান্ধব স্থাপনা নির্মাণের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার আবহাওয়া স্থিতিশীল থাকবে। মানুষের রোগবালাই অনেকাংশে কমে যাবে। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। জৈবশিল্প প্রতিষ্ঠিত হলে অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে।

লক্ষ্য১৩: জলবায়ু পরিবর্তন এর প্রভাব মোকাবেলায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ

আজকাল নানা কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। প্রকৃতির উপর মানুষের অপরিকল্পিত স্বেচ্ছাচারের কারণে পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তিত হচ্ছে। এর ফলে হুমকির মুখে পড়ছে আগামীদিনের পৃথিবীর অস্তিত্ব। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশী ঝুঁকির মুখে পড়ছে বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো। আর তাই জলবায়ু পরিবর্তন ও এর ঝুকি মোকাবেলায় অন্যতম সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে জৈবপ্রযুক্তি।

লক্ষ্য১৪: সাগর, মহাসাগর সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসইভাবে সেগুলো ব্যবহার করা পৃথিবীর প্রায় ৭১% জল। অর্থাৎ, সাগর, মহাসাগর ও নদী। এই বিশাল জলরাশি পৃথিবীতে মানবসভ্যতার জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। কিন্তু, হতভাগ্য মানবজাতি সবচেয়ে বেশী অত্যাচার চালাচ্ছে এই জলরাশির উপর। যাবতীয় আবর্জনা ফেলে ও সামুদ্রিক প্রাণী হত্যা করে পৃথিবীকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ যেমন-যুদ্ধ ইত্যাদির ফলে সমুদ্রের উপর ধ্বংসলীলা বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন জাহাজ, সাবমেরিন চলাচলের কারণে সমুদ্রে মানুষের খবরদারির ফলে স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এসব সমস্যা উত্তরণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে জৈবপ্রযুক্তি। সমুদ্রের দূষণ পদার্থ নষ্ট করার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়াররা। আমেরিকার G.E.C. কোম্পানির গবেষণাবিদ জীন প্রযুক্তির মাধ্যমে এমন একটি ব্যাক্টেরিয়া উৎপাদন করেছেন যা সমুদ্রের পানিতে বা পরিবেশ দূষণকারী পেট্রোলিয়াম জাতীয় পদার্থ নষ্ট করে দেয়।

লক্ষ্য১৫: স্থলভূমির জীববৈচিত্র সংরক্ষণ উন্নয়ন করা, মরুকরণ প্রশমিত করা জমির ক্ষয়রোধকরণ জীববৈচিত্রের ক্ষতি কমানো

স্থলভূমির জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা, মরুকরণ প্রশমিত করা ও জমির ক্ষয়রোধকরণ ও জীব-বৈচিত্রের ক্ষতি কমানোর ক্ষেত্রে জৈবপ্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সংকরায়ণের মাধ্যমে নতুন নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী তৈরি করা, ব্যাকটেরিয়া জাতীয় অণুজীবের সাহায্যে পশুখাদ্য সংরক্ষণ, জৈবসারের ব্যবহার প্রভৃতি উপায়ে এই লক্ষ্য পূরণ সম্ভব।

অর্থাৎ, দেখা যাচ্ছে যে, মোট ১৭টির মধ্যে অন্তত ১০টি লক্ষ্য অর্জনে সরাসরিভাবে জৈবপ্রযুক্তি (Biotechnology) জড়িত। ফলে, এ কথা বলা যায় যে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য-২০৩০ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে জৈবপ্রযুক্তি বা বায়োটেকনোলজি।

বিঃদ্রঃ জৈবপ্রযুক্তির এতসব উপকারী দিক ছাড়াও কিছু মারাত্মক ক্ষতিকর দিক রয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী তৈরি হলে তা মানবসভ্যতার জন্য প্রচন্ড হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জানা গেছে, কোন কোন পশ্চিমা দেশ এই প্রযুক্তিতে বিভিন্ন মারাত্মক ক্ষতিকর জীবাণু ও বীজাণু তৈরী করে গবেষণাগারে রেখে দিয়েছে, যেগুলো কোন শ্ত্রু দেশের উপর ছড়িয়ে দিলে সেসব দেশ এসব জীবাণু ও বীজাণু দ্বারা আক্রান্ত হবে; একে বায়োলজিক্যাল যুদ্ধ (Biological War) বলে। এ ধরণের জীবাণু ও বীজাণু মানবসভ্যতা ধ্বংস করে দিতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

সুতরাং, সুনিয়ন্ত্রিত ও সুচিন্তিতভাবে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের মানুষদের উপর এর প্রভাব গভীরভাবে পর্যালোচনা করেই কেবল কোন নতুন জৈবপ্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। তা না হলে এই সুন্দর পৃথিবী মানুষের দ্বারাই এক মহাবিপর্যয়ের মুখোমুখী হবে!

Share

Comments

comments

Close