আজ: ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং, রবিবার, ২ পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৯ রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী, রাত ১:৩৬
সর্বশেষ সংবাদ
ধর্ম কুদৃষ্টি থেকে বেঁচে থাকুন

কুদৃষ্টি থেকে বেঁচে থাকুন


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০৪/০৬/২০১৮ , ৩:৪৭ অপরাহ্ণ | বিভাগ: ধর্ম


Spread the love
Spread the love

মানুষের চোখ আল্লাহ প্রদত্ত এক নেয়ামত। এ নেয়ামতের যথাযথ মূল্যায়ন করা উচিত। একজন অন্ধই শুধু বুঝতে পারে চোখের মূল্য কত! আলো থেকে অন্ধকারে অথবা অন্ধকার থেকে আলোর দিকে এলে এর সংকোচন ও সম্প্রসারণ ঘটে। চোখের সদ্ব্যবহার করলে অশেষ সওয়াব পাওয়া যায়। হাদিস শরিফে আছে, ভক্তি-শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে একবার মা-বাবার দিকে তাকালে একটি হজ ও ওমরার সওয়াব পাওয়া যায়। স্বামী-স্ত্রী একে অপরের দিকে প্রেম-ভালোবাসার দৃষ্টিতে তাকালে তাদের প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়। (সুয়ুতি, জামিউল আহাদিস : ২০২৮১)। পক্ষান্তরে চোখের অপব্যবহার করলে গোনাহ হয়। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘দৃষ্টি হচ্ছে ইবলিসের বিষাক্ত তিরগুলোর মধ্য থেকে একটি তির, যে ব্যক্তি আমাকে ভয় করে তা ত্যাগ করবে, তার মিষ্টি-স্বাদ নিজের হৃদয় অনুভব করবে।’ (মাজমাউয যাওয়াইদ : ৮/৬৬)

কোরআনের অসংখ্য আয়াতে আল্লাহপাক তার নিদর্শনাবলি, ব্যক্তি তার নিজের প্রতি, অপরাধীদের পরিণাম ইত্যাদির প্রতি তাকিয়ে দেখার জন্য তাগিদ দিয়েছেন। কিন্তু মানুষ তার উল্টো পথে চলে। যে কাজ করতে নিষেধ করা হয়, সেদিকেই ঝুঁকে পড়ে। নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি তার আগ্রহ বেশি। উচিত হলো যে কাজে সওয়াব রয়েছে, সে কাজগুলো বেশি বেশি করার চেষ্টা করা, আর যে কাজ থেকে নিষেধ করা হয়েছে সেগুলো থেকে বিরত থাকা।
কুদৃষ্টি হারাম। গুরুতর পাপ। যৌনতার গন্ধ থাকলে তা আরও জঘন্য। কুদৃষ্টি একটি মারাত্মক ব্যাধি। গায়রে মাহরাম নারীর দিকে পুরুষের দৃষ্টি দেওয়া বা সুদর্শন পুরুষের দিকে আর্কষণ নিয়ে নারীর দৃষ্টি দেওয়া হলো কুদৃষ্টি। কুদৃষ্টি করার ফলে অন্তর অন্ধকার হয়ে যায়। ইবাদতে মজা পাওয়া যায় না। ইবাদতের নূর নষ্ট হয়ে যায়। গোনাহের কাজের জন্য মনে বেশি আগ্রহ জাগে। অন্তরের মাঝে বিভিন্ন চিন্তা আসে। ফলে মন অস্থির হয়ে থাকে। ইবাদতে বিঘ্ন  ঘটে। মানুষ কুদৃষ্টিকে কোনো গোনাহ মনে করে না। অথচ দৃষ্টি হেফাজতের জন্য স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা কোরআনে এরশাদ করেছেন, ‘হে নবী আপনি ঈমানদারকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে।’ (সূরা নূর : ৩০)। পরের আয়াতে বলেন, ‘হে নবী আপনি ঈমানদার নারীদের বলুন তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে।’ (সূরা নূর : ৩১)।
রাসুলে করিম (সা.) এরশাদ করেন, ‘চোখের জেনা হচ্ছে কুদৃষ্টি করা।’ জাবির ইবনে আবদুল্লাহ বাজালী থেকে রাসুল (সা.) এর উক্তি বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ‘ইচ্ছা ছাড়াই হঠাৎ কোনো বেগানা নারীর ওপর দৃষ্টি পড়ে গেলে সেদিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নাও।’ (মুসলিম : ২১৫৯)। আলী (রা.) এর রেওয়াতে আছে, ‘প্রথম দৃষ্টি মাফ, দ্বিতীয় দৃষ্টি গোনাহ।’ (আবু দাউদ : ২১৪৯)। এর উদ্দেশ্য এই যে, প্রথম দৃষ্টি আকস্মিক ও অনিচ্ছাকৃত হওয়ার কারণে ক্ষমা, নতুবা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রথম দৃষ্টিপাতও ক্ষমার যোগ্য নয়।
সর্বোপরি, চোখ আল্লাহ তায়ালা প্রদত্ত একটি নেয়ামত। হাজার লাখো টাকা খরচ করলেও এ নেয়ামত অর্জন করা যাবে না। শুধু চোখই নয়, মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সবই আল্লাহ পাকের আমানত। মনমতো এগুলো ব্যবহার করা যাবে না। অপব্যবহার হলে আল্লাহপাক তার নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন। অতএব, গুরুত্বের সঙ্গে চোখের হেফাজত দরকার। এই চোখে যেন কোনো গোনাহ না হয়।

Share

Comments

comments

Close