আজ: ২১ অক্টোবর, ২০১৮ ইং, রবিবার, ৬ কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১২ সফর, ১৪৪০ হিজরী, ভোর ৫:০৭
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয় বিএনপি-জামাতের অদূরদর্শীতায় স্যাটেলাইটে বাড়তি খরচ!

বিএনপি-জামাতের অদূরদর্শীতায় স্যাটেলাইটে বাড়তি খরচ!


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০৫/১৪/২০১৮ , ১২:২১ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: জাতীয়



১৯৯৭ সালে প্রকল্প নেওয়ার পরেও তা বাস্তবায়নে দুই দশক দেরি হওয়ার কারণেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট স্থাপনে দেশকে শত শত কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়েছে।

বিএনপি-জামায়াতের খামখেয়ালি ও অদূরদর্শীতার খেসারতেই বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটে স্থাপনের খরচ কয়েকগুন বেড়েছে।

প্রযু্ক্তি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেরি করার কারণে নিজস্ব সুবিধাজন কক্ষপথ হারিয়েছে বাংলাদেশ। আর সে কারণে রাশিয়ার উপগ্রহ কোম্পানি ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে ২১৯ কোটি টাকায় ১৫ বছরের জন্য কক্ষপথ কিনে নিতে হলো।

বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তি সংশ্লিষ্টরা বিষয়টিতে ভোটের রাজনীতিকে জাতীয় স্বার্থের উর্ধ্বে বিবেচনা করার প্রচলিত ধ্যান ধারণাকেই দুষছেন। তারা বলছেন, একটি দেশের সরকারে আসতে পারে পরিবর্তন কিন্তু একটি সরকারের নেওয়া উন্নয়ন কিংবা অগ্রসরতার পরিকল্পনা অন্য সরকার চালিয়ে নিতে ব্যর্থ হলে কিংবা নিতে না চাইলে দেশের পরিণতি যা হয়, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে।

একাধিক সংবাদমাধ্যমে পাওয়া তথ্য মতে, ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৭ সালে ‘বাংলাদেশের ভূ-স্থির উপগ্রহ প্রেরণ প্রকল্প’ নামে একটি পরিকল্পনা হাতে নেয়। পরে প্রকল্পটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে সংযুক্ত হয় এবং প্রকল্প খাতে অর্থ বরাদ্দও দেওয়া হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেই নেওয়া হয়েছিল এই উন্নয়ন প্রকল্প।

তবে দায়িত্বশীলরা বলছেন, তখন পুরো বিষয়টি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সার্বিক তত্ত্বাবধানেই এগোচ্ছিল। যার ধারাবাহিকতায় ১৯৯৮-১৯৯৯ এর দিকে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) এর কাছে বাংলাদেশের নিজস্ব কক্ষপথে স্যাটেলাইট স্থাপনের একটি আবেদন করা হয়।
সে আবেদনে স্যাটেলাইটটির নাম প্রস্তাব করা হয় ‘বঙ্গবন্ধু’।

তবে সে আবেদনে সাড়া মেলার আগেই ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসে।

একাধিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মতে, ‘বঙ্গবন্ধু’ নাম থাকার কারণে মহাকাশে স্যাটেলাইট স্থাপনের প্রকল্পটি বাতিল করে দেয় বিএনপি-জামায়াত জোট।

তারা একে ওই সরকারের সাবমেরিন অপটিক্যাল ফাইবার কেবল স্থাপনের প্রস্তাব নাকচের মতোই মারাত্মক ওই পশ্চাৎমুখী সিদ্ধান্ত বলে মত দেন।
পশ্চাৎমুখি সিদ্ধান্তের কারণেই বাংলাদেশ মহাকাশে নিজস্ব কক্ষপথ হারিয়েছে, এমন মন্তব্য করে একজন বিশ্লেষক জানান, আমাদের নিজস্ব কক্ষপথে অন্য দুটি দেশ এরই মধ্যে স্যাটেলাইট স্থাপন করেছে। আর সে কারণেই ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ মহাকাশে উৎক্ষেপণের জন্য বাংলাদেশকে রাশিয়ার উপগ্রহ কোম্পানি ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে ২১৯ কোটি টাকায় ১৫ বছরের জন্য কক্ষপথ কিনে নিতে হলো।

ওই সময়ে বিষয়গুলো সামনে এনে লেখালেখি হলেও তা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেনি।

খবরে জানা যায়, আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে বিষয়টির প্রতি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব ফজলুর রহমান বেশ আগ্রহী ছিলেন বলেন বিভিন্ন লেখালেখিতে উঠে এসেছে। ফজলুর রহমান নিজে এককালে ছিলেন পদার্থবিজ্ঞানের মেধাবী ছাত্র এবং অনেকটা তারই উদ্যোগে বিষয়টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তৎকালীণ মন্ত্রী জে. নূরুদ্দিন খানের দৃষ্টিতে নেয়া হয়। বিজ্ঞানমন্ত্রী বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নিয়ে গেলে তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেন এবং তা খুব দ্রুত গতি পেতে শুরু করে। ফলে ‘বাংলাদেশের ভূ-স্থির উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ প্রেরণ প্রকল্প’ গৃহীত হয়; আর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় তাতে অর্থ বরাদ্দও করে।

২০০৯ সালে ফের সরকারে আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে দেখতে শুরু করেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ততদিনে কাজটি ২০০১-০২ সালের তুলনায় অনেক বেশি জটিল হয়ে পড়ে। কারণ, এ দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে পৃথিবীর অনেক দেশ মহাকাশে অনেক উপগ্রহ বসিয়ে ফেলে। তাতে বাংলাদেশের জন্য সুবিধাজনক কক্ষপথও দখল হয়ে যায়। একই সাথে কঠিন হয়ে পড়ে এতসব উপগ্রহের ট্রান্সপন্ডারের সাথে ফ্রিকুয়েন্সি সমন্বয়ের কাজটিও।

স্যাটেলাইট প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা আগে স্থান কাজে লাগাবে, আগে ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড কাজে লাগাবে, আন্তর্জাতিক সংস্থা আইটিইউ তাদেরকেই অগ্রাধিকার দেবে।

নিজস্ব ভূ-স্থির উপগ্রহের প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যাওয়ার পর প্রায় এক দশক চলে যাওয়ায় এর মাঝে এসব কাজে যে জটিলতা বেড়েছে তাতে অর্থ, দক্ষ জনবল এবং প্রকল্প-প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন খরচ হচ্ছে আগের তুলনায় অনেকগুণ বেশি। আর কক্ষপথে আমাদের বঙ্গবন্ধু-১ উপগ্রহটি স্থাপিত হতে হচ্ছে সুবিধাজনক অবস্থান ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা থেকে বেশ দূরে ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমায়।

তবে দেরিতে হলেও বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট এখন বাস্তবতা। গত ১২ মে দিনের প্রথমভাগে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ নামে মহাকাশে পাড়ি জমিয়েছে। কক্ষপথ থেকে এরই মধ্যে সিগন্যাল পেতে শুরু করেছে ভূমিতে স্থাপিত স্টেশন।

প্রযুক্তিবিদরা আশা করছেন, দেশের অগ্রগতিতে এ স্যাটেলাইট অনন্য ভূমিকা রাখবে এবং একটি কার্যকর সফল উপগ্রহ হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠা পাবে।- সারা বাংলা ডট নেট 

Comments

comments

Close