আজ: ১৯ জুন, ২০১৯ ইং, বুধবার, ৫ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী, রাত ১:২১
সর্বশেষ সংবাদ
প্রধান সংবাদ, বাংলাদেশ, সবিশেষ জুলাইয়ে প্রাথমিকে ২৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ

জুলাইয়ে প্রাথমিকে ২৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০৫/৩১/২০১৮ , ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: প্রধান সংবাদ,বাংলাদেশ,সবিশেষ


Spread the love

সরকারের চলতি মেয়াদে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণে আসছে বড় নিয়োগ। জানাগেছে, আগামী জুলাই মাসে প্রায় ২৪ হাজার অথবা এর চেয়েও বেশি শিক্ষকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিগত ২০১৪ সালের ১০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কার্যক্রম দীর্ঘদিন আইনি জটিলতায় বন্ধ ছিল। বর্তমানে ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে বেশকিছু জেলার পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আরও কিছু জেলার পরীক্ষা চলমান। তবে সারাদেশে এখনো অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতা রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে খুব দ্রুতই নিয়োগ সার্কুলার হবে বলে মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সূত্রে জানাগেছে। পাশাপাশি প্রাইমারির শিক্ষার্থীর জন্যও সংগীত ও শারীরিক শিক্ষক নিয়োগ করার চিন্তা করছে মন্ত্রণালয়। স্কুলগুলোয় শূন্যপদে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ, পাঠদানে সুন্দর ও আকর্ষণীয় উপকরণ ব্যবহার, ডিজিটাল স্মার্ট ক্লাসরুম, নিয়মিত ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও সহশিক্ষা কার্যক্রম রেখে একেকটি স্কুল ‘চাইল্ড কেয়ার হোম’ রূপে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্তি সচিব মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ  বলেন, আমাদের শিক্ষকের ঘাটতি আছে এবং প্রতিদিনই অনেক শিক্ষক অবসরে যাচ্ছেন। জুনের মধ্যে প্রায় ৩৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। বর্তমানে ২০১৪ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ১০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম চলমান আছে। এতে প্রায় ১২ লাখ পরীক্ষার্থী আবেদন করেছিল। এছাড়াও আগামী জুলাই মাসে ২৪ হাজার বা তার বেশি শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি আসতে পারে বলে জানান এ অতিরিক্ত সচিব। আমারা চাচ্ছি নতুন মেধার ছেলে-মেয়েদের। যারা এখন চাকরির জন্য অপেক্ষা করছে। তিনি আরও বলেন, যেহেতু নির্বাচনের বছর এসময় নির্বাচন কমিশন যদি এ বিষয়ে আপত্তি তোলে তাহলে হয়তো নিয়োগ সার্কুলার জারি নাও হতে পারে। অপরদিকে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, আমাদের শিক্ষকের ঘাটতি আছে। এজন্য চলতি মেয়াদে বড় একটা নিয়োগ সার্কুলার হওয়ার সম্ভবনা আছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, স্কুলে শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার মাত্র ৪০ শতাংশ শেখানো হয়। বাকি ৬০ শতাংশই নির্ভর করে শিক্ষার্থীর ওপর। অথচ উন্নত বিশ্বে শিক্ষার্থীর শিক্ষা অর্জনে স্কুলের ভূমিকাই ৭০ শতাংশ। বাকিটা শিক্ষার্থীর কার্যক্রম বা উপাদানের ভূমিকা। দেশে স্কুলগুলোয় শ্রেণিকক্ষে কাক্সিক্ষত লেখাপড়া না শেখার প্রধান কারণ শিক্ষক সংকট। অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, সারা দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৪ হাজার ৮২০টি। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক নেই সাড়ে ২১ হাজার স্কুলে। সহকারী শিক্ষকের ৩২ হাজার পদ শূন্য। প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী মোট শূন্য পদের ৩৫ শতাংশ সরাসরি এবং ৬৫ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। ৬৫ শতাংশ হিসেবে পদোন্নতিযোগ্য পদ ১৭ হাজার এবং সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদ চার হাজার। ২০১৪ সালে প্রধান শিক্ষকদের পদটি দ্বিতীয় শ্রেণি হওয়ায় এ পদে নিয়োগ হয় পিএসসির মাধ্যমে। অধিদপ্তরের সূত্র আরও জানায়, প্রতিদিনই অসংখ্য শিক্ষক অবসরে যাচ্ছেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে সাত-আট মাস লেগে যাচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে শূন্য পদের সংখ্যা আরও বেড়ে যাচ্ছে।

Share

Comments

comments

Close