আজ: ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং, শুক্রবার, ৩০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৭ রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী, রাত ১:০২
সর্বশেষ সংবাদ
প্রধান সংবাদ, বিভাগীয় সংবাদ, রংপুর বিভাগ, রাজনীতি রংপুর-৪ আসনে আলোচনায় চার ব্যবসায়ী

রংপুর-৪ আসনে আলোচনায় চার ব্যবসায়ী


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০৯/২৯/২০১৮ , ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: প্রধান সংবাদ,বিভাগীয় সংবাদ,রংপুর বিভাগ,রাজনীতি


Spread the love
Spread the love

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রংপুরের কাউনিয়া-পীরগাছা এলাকায় বইছে নির্বাচনী হাওয়া। তরুণ-বৃদ্ধ, নবীন-প্রবীণ সবার মুখেই ভোটের আলাপ। এখানে সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হলেও আলোচনায় দেশের বিশিষ্ট চার ব্যবসায়ীর নাম। যাদের একজন টিপু মুনশী। নৌকা প্রতীক নিয়ে রংপুর-৪(কাউনিয়া-পীরগাছা) আসন থেকে পরপর দুবারের এই এমপি এবারো মনোনয়ন চাইবেন। 

১৯৭৩ সালে এই আসন থেকে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ আলীম উদ্দিন, ১৯৭৯ সালে বিএনপির মজিবুর রহমান, ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের শাহ আব্দুর রাজ্জাক, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির শাহ আলম, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে জাতীয় পার্টির করিম উদ্দিন ভরসা এবং ২০০৮ ও ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী টিপু মুনশী।
ক্ষমতার বাইরে থেকেও বিএনপির উজ্জীবিত হওয়ার চেষ্টা আর জাতীয় পার্টির মুমূর্ষু অবস্থায় বেশ ভালোই আছেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতা মুক্তিযোদ্ধা টিপু মুনশী। তাকে ঘিরে নেই জোরালো কোনো অভিযোগ। একদিকে যেমন উন্নয়ন হয়েছে, অন্যদিকে কোনো গ্রুপিং-বিভেদ ছাড়াই শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, এখানে টিপু মুনশীর বিকল্প নেই। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে যা উন্নয়ন হয়েছে তা বিগত কোনো সংসদ সদস্যের আমলে হয়নি বলে দাবি আওয়ামী লীগ নেতাদের।

কাউনিয়ার নেত্রী রীতা রানী সরকার জানান, টিপু মুনশী এমপি নির্বাচিত হওয়ায় আগে আমাদের এলাকা উন্নয়নবঞ্চিত ও অবহেলিত ছিল। এখন এখানে উন্নয়নের জোয়ার বইতে শুরু করেছে। এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনেও আমরা এ আসন থেকে টিপু মুনশীকে দেখতে চাই।
আওয়ামী লীগ রংপুর জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন চৌধুরী জানান, মুক্তিযোদ্ধা টিপু মুনশী বিগত নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগে এই অঞ্চলের মানুষের কাছে অর্থনৈতিক, যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং তাদের ভালোবাসায় নির্বাচিত হওয়ার পর বিগত ১০ বছর আগের ৩৭ বছরের অবহেলা ও উন্নয়ন বঞ্চনার লাঘব ঘটিয়ে আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছেন যা ইতোমধ্যে জনগণের কাছে দৃশ্যমান। টিপু মুনশী নির্বাচিত হওয়ার পর রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, ব্রিজ-কালভার্ট তৈরি করে জনগণের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করেছেন। এছাড়া তার প্রয়াত পিতা রমজান আলী মুনশীর নামে এলাকায় একটি কলেজ স্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, টিপু মুনশীর কোনো বিকল্প নেই। আগামী নির্বাচনে টিপু মুনশী নৌকা প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন ইনশাল্লাহ।

অপরদিকে, কাউনিয়ার বিড়ি শিল্প এলাকা হারাগাছে কথা হয় আবুল, বকুল, মিজান ও খয়রাতের সঙ্গে। এরা সবাই বিড়ি শ্রমিক। তাদের ভাষ্য, ভোট এলেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েন এখানকার ভোটাররা। কারণ বেশিরভাগ ভোটার বিড়ি শ্রমিক হওয়ায় তাদের মালিকপক্ষের গ্রিন সিগন্যালের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই হারাগাছে রয়েছেন ভরসা গ্রুপের মালিক বিএনপির প্রবীণ নেতা শিল্পপতি রহিম উদ্দিন ভরসা। তার ছেলে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি এমদাদুল হক ভরসা এবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে উন্মুখ।
কাউনিয়া-পীরগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-৪ সংসদীয় আসনে এমদাদুল হক ভরসা ছাড়াও ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান আফসার আলী ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কর্নেল (অব.) আবদুল বাতেন। এখানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মতো বিএনপি থেকেও চলছে নির্বাচনী গণসংযোগ।
অন্যদিকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হলেও প্রচারণা থেকে পিছিয়ে নেই এরশাদের জাতীয় পার্টি। এখানে এক সময় জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তা ছিল জাপা নেতা করিম উদ্দিন ভরসাকে ঘিরে। কিন্তু এখন তা নেই বললেই চলে। আর এরশাদপ্রীতি তো দিন দিন কমছেই। এ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন তিনজন। তারা হলেন যুবলীগ থেকে সদ্য জাতীয় পার্টিতে যোগ দেওয়া বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোস্তফা সেলিম বেঙ্গল, যমুনা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভরসা। জেলা নাগরিক ঐক্যের সদস্য রফিকুল ইসলাম ও জেলা জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান হতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থী, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানীর নামও শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন, জেপি, জাসদ, বাসদ ও সিপিবি, বাংলাদেশ কংগ্রেস, জাকের পার্টি থেকেও প্রার্থী দেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানায়।
স্থানীয় ভোটার ও বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের মতে, এই আসনে তিন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আওয়ামী লীগ থেকে টিপু মুনশী, বিএনপি থেকে এমদাদুল হক ভরসা এবং জাতীয় পার্টি থেকে মোস্তফা সেলিম বেঙ্গলই মনোনয়ন পাবেন। তবে শেষ পর্যন্ত দেখতে হবে কোন ব্যবসায়ীর গলায় উঠবে আগামী সংসদ নির্বাচনের বিজয়ের মালা।

Share

Comments

comments

Close