আজ: ২৬ আগস্ট, ২০১৯ ইং, সোমবার, ১১ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৬ জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী, দুপুর ১:২৬
সর্বশেষ সংবাদ
ফেসবুক থেকে, বিনোদন Hasina: A Daughter’s Tale আপনি কেন দেখবেন?

Hasina: A Daughter’s Tale আপনি কেন দেখবেন?


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১১/২১/২০১৮ , ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: ফেসবুক থেকে,বিনোদন


Spread the love

শোক হোক শক্তি! এই কথা টি আমরা প্রায়ই বলে থাকি। কিন্তু শোক কে শক্তিতে পরিণত করা সহজ ব্যাপার নয়।
শোক কে শক্তি করে যে ঘুরে দাঁড়ায় স্রোতের বিরুদ্ধে একা। সংগ্রাম করে রচনা করে সফলতার পথ। আর সেই পথে এসে মিলে দাঁড়ায় ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্ন। তার সংগ্রাম, পরাজয়, বেদনার অধ্যায় নিজেদের প্রয়োজনেই আমাদের জানা দরকার।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তেমনই একটি অধ্যায়। Hasina: A Daughter’s Tale সেই অধ্যায়ের পাতাগুলো আমাদের সামনে মেলে ধরেছে।

চলচ্চিত্রটি দেখতে বসে মনে হবে দুই বোন আপনাকে বাসায় দাওয়াত দিয়েছে। প্রথম দৃশ্যেই দেখবেন, বড় বোন শেখ হাসিনা আপনার জন্য পোলাও আর মুরগী রান্না করছেন। তারপর, খাওয়া-দাওয়া শেষে বারান্দায় বসে চায়ের সাথে দুইজন গল্প শুনাচ্ছেন। শীতের বিকেল আপনাকে যতটা না শিহরিত করছে, তার থেকে আপনার গায়ে বেশী শিহরণ জোগাচ্ছে ইতিহাসের পাতা থেকে টেনে এনে বলা একেকটি ঘটনার বিবরণ।

শুনতে শুনতে একটা মূহুর্তে আপনার মনে হবে, আরে আমার বাবাও তো এমন। আমরাওতো সকালবেলা বাবার সাথে একই টেবিলে বসে টোস্ট আর চা খেয়ে স্কুলে গিয়েছি, আমার মা তো ঠিক এইভাবেই আমার জন্য পছন্দের খাবার বানিয়ে বসে থেকেছেন আমার ফেরার অপেক্ষায়। মনে হবে তাই তো, আমার ও তো আমার দাদী বাড়ি, আমার গ্রামের বাড়ি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরতম জায়গা মনে হয়, আমরাওতো ঈদের সময় এইভাবে গ্রামের বাড়ি বেরাতে যাই, ভাইয়ার বিয়ের সময়তো এইভাবেই মজাগুলো করতাম। এইভাবেইতো প্রেমের চিঠিগুলো আম্মার হাতে চলে যেতো, আমার ছোট ভাইটা ছোটবেলায় এমনইতো ছিলো। ঠিক, এমনি। আপনার এমনি মনে হবে।

খুব সহজ-সরল জীবন থেকে নেওয়া একেকটা সূত্রের কথা বলেছেন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। একটি ক্যামেরা রোলিং চলছে, কোনো স্ক্রিপ্ট নেই, কোনো কৃত্রিমতা নেই এর পরেও বিরতির সময় আপনার উঠে যেতে মন চাইবে না। কেন? কারণ, গল্প গুলো আপনার পরিচিত। আপনি খুব কাছ থেকে এর চরিত্রগুলোকে নিজের মনে করে নিতে বাধ্য হবেন।

পুরো ৭০ মিনিট দেখে শেষ করে এসে থিয়েটার থেকে বের হয়ে আসার সময় আপনি বুঝতে পারবেন, একটা মানুষের জীবনে এতো কিছু ঘটে যাবার পরেও উনি যদি এতো অবিচল, এতো শক্ত, এতো আত্মবিশ্বাসী এবং জীবনের প্রায় সবকিছু হারানোর পরও এইভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে আজকের এই অবস্থানে আসতে পারেন, তাহলে আমি কেনো নই?

জীবন ভাঙ্গা গড়ার খেলা, একটা জিনিস ভেঙে যেতে গেলে, তা সামলিয়ে নিয়ে আবা্র ও গড়ে তোলা সম্ভব। কিন্তু, খুব অল্প মানুষই একদম শূন্য থেকে শুরু করেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সেই রকমই একজন মানুষ। এক রাতের ব্যবধানে উনি কত কিছু হারিয়ে বসলেন। এতোবার ভেঙে পড়লেন, কিন্তু তারপরও আবার গড়ে তুললেন। নিজেকে গড়লেন, দলকে গড়লেন এখন দেশকে গড়বার কাজে নিয়োজিত আছেন।

ঘুরে দাঁড়ানোর এই অনুপ্রেরণার গল্পটিও আপনার নিজেকে নাড়া দেবে। আজ আমরা কত সহজে এতোটা অধৈর্য হয়ে যাই, কত সহজেই হার মানি তাই না? উনি তার পরিবারের প্রায় সবাইকে হারিয়ে ফেললেন, ভিন দেশে যেখানে ছিলেন সেখান থেকে এক কাপড়ে তাদের বের করে দেওয়া হলো। শেখ রেহানার ভাষ্য অনুযায়ী, আগের দিন তাদের সেখানে যাওয়া উপলক্ষে ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। পরের দিন সকাল বেলা, তারা রাস্তায়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খন্দকার মোশতাককে নিয়ে মন্তব্য, খুনীদের তার বাসায় আনাগোনার ঘটনা, ২৫ মার্চ রাত সম্পর্কে জাতির পিতার স্টেটমেন্ট দেবার দুর্লভ কিছু মূহুর্তসহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং অজানা তথ্যের সন্ধান আপনি পাবেন।

শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা ছাড়াও চলচ্চিত্রটি তে আরো একজন গল্প বলেছে তা হলো সংগীত। দেবজ্যোতি মিশ্রর অসাধারণ সংগীত আপনাকে কাঁদিয়ে ছাড়বে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম প্রিয় একটি গান ‘আমার সাধ না মিটিলো’,তিনি এমনভাবে ব্যবহার করেছেন যা আপনার মাথায় সেটি গেঁথে গিয়েছে স্থায়ীভাবে।

সাদিক আহমেদ, আসলেই এক বিস্ময়ের নাম। তার বিস্ময়ের ছাপ এইখানেও তিনি রেখেছেন, কি কালার, কি ফ্রেমিং আর কম্পোজিশন।

Applebox Films এর প্রত্যেকটা মানুষ যে পর্দার পেছনে দরদ ঢেলে কাজটা করেছেন সেটি পর্দায় উঠে এসেছে। দারুণ একটি টিম-ওয়ার্ক। CRI কেও আপনি ধন্যবাদ না দিয়ে পারবেন না এমন এক উদ্যোগ হাতে নিয়েছিলো বলে। পরিচালক পিপলু খান ধন্যবাদ জানিয়ে আপনি যখন সিনেমা হল থেকে ফিরবেন তখন আপনি সাথে নিয়ে
ফিরবেন একটু অণুপ্রেরণার গল্প। যা সারা জীবন আপনাকে প্রেরণা দিবে শোক কে শক্তি পরিণত করার।

Share

Comments

comments

Close