আজ: ১৯ মার্চ, ২০১৯ ইং, মঙ্গলবার, ৫ চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৩ রজব, ১৪৪০ হিজরী, রাত ১০:৪৪
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয়, প্রধান সংবাদ, বাংলাদেশ, রাজনীতি ইসির কাছে ১৩টি চিঠিতে অভিযোগ দিল ঐক্যফ্রন্ট

ইসির কাছে ১৩টি চিঠিতে অভিযোগ দিল ঐক্যফ্রন্ট


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১১/২২/২০১৮ , ৬:২৮ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জাতীয়,প্রধান সংবাদ,বাংলাদেশ,রাজনীতি


Spread the love

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যত কমে আসছে, নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নানা অভিযোগ ও দাবিতে বিএনপি’র চিঠির সংখ্যা তত বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এ ধরনের ১৩টি চিঠি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ( সিইসি) কে এম নূরুল হুদাকে দেয়া হয়েছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল চিঠি পৌঁছে দেন। দুইটি চিঠিতে নির্বাচন কমিশন সচিবসহ সরকারের তিনজন সচিব, দুইজন বিভাগীয় কমিশনার এবং ১৭ জন জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে পক্ষাপাতমূলক আচরণ এবং দলীয় সম্পৃক্তার অভিযোগ এনে তাঁদেরকে প্রত্যাহার/বদলির দাবি জানানো হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ এনে পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজি (প্রশাসন-পুলিশ হেড কোয়ার্টার)) ও র‌্যাব মহাপরিচালকসহ ৭০ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

বিএনপির চিঠিগুলোর বিষয়বস্তু হচ্ছে-১. মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমাদানের জন্য বিএনপি অফিসের সামনে বিশাল গণজমায়েতে পুলিশি হামলা ও গ্রেফতারে নির্বাচন কমিশনের নির্বিকার ভূমিকা প্রসঙ্গে, ২. এক থানা বা নির্বাচনী এলাকায় কর্মরত কর্মকর্তাদের অন্য থানা বা নির্বাচনী এলকায় ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ, ৩. বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে তথাকথিত জরিপ প্রতিবেদনে সমতল নির্বাচনী মাঠ তৈরিতে প্রতিবন্ধকতা প্রসঙ্গে, ৪. রাষ্ট্রপতির সরকারী বাস ভবন ‘বঙ্গভবন’-এ সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী রাষ্ট্রপতির পুত্রের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সভা এবং আপ্যায়ন অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি, ৫. চট্ট্রগাম সার্কিট হাউজে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের উপস্থিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও জন নিরাপত্তা বিভাগের সচিবের সাথে চট্টগ্রাম বিভাগের সব রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক) ও পুলিশ সুপারদের নিয়ে রুদ্ধদার বৈঠক অনুষ্ঠানর প্রসঙ্গে, ৬. এনটিএমসসি ও বিটিআরসি’র বিতর্কিত দলান্ধ কর্মকর্তাদের সরিয়ে নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের পদায়ন সংক্রান্ত, ৭. একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের নিমিত্ত সব দল ও প্রার্থীর জন্য লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরির প্রয়োজনে পুলিশ বিভাগের দলবাজ ও রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারি কর্মকর্তাদের অবিলম্বে প্রত্যাহার প্রসঙ্গে, ৮. একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের নিমিত্ত সব দল ও প্রার্থীর জন্য লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরির প্রয়োজনে জনপ্রশাসনের দলবাজ ও রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারি কর্মকর্তাদের অবিলম্বে প্রত্যাহার প্রসঙ্গে, ৯. থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ি ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ না দেওয়া প্রসঙ্গে, ১০. নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরও নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে ডকুমেন্টারি মুভী, ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় বিবিধ বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধের দাবি, ১১.সিটি কর্পোরেশেন ও সরকারি মালিকানাধীন ইলেক্ট্রনিক ডিসপ্লে বোর্ড এবং ডিজিটাল বিল-বোর্ডে প্রধানমন্ত্রী/ মন্ত্রী/এমপিদের ছবি সম্বলিত কথিত উন্নয়ন প্রচারণা বন্ধ করা প্রসঙ্গে এবং ১২. গণহারে আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগ প্রসঙ্গে।

বিএনপি জনপ্রশাসনের যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে তাঁদেরকে প্রত্যাহার করতে বলেছে, তাঁদের মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি আওয়ামী লীগ নেতা মেয়র এবিএম মহিউদ্দন চৌধুরীর একান্ত সচিব ছিলেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রলায়ের সচিব সম্পর্কে বলা হয়েছে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারে প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী খ ম জাহাঙ্গীরের এপিএস ছিলেন। স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভািগের সচিব সম্পর্কে বলা হয়েছে তিনি ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল মান্নান ও খুলনার বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া সম্পর্কেও প্রায় একই ধরনের দলীয় সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে। মো. আব্দুল মান্নাকে দলবাজ আখ্যায়িত করা হয়েছে, আর লোকমান হোসেন মিয়া সম্পর্কে বলা হয়েছে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং তিনি আওয়ামী লীগের রেল মন্ত্রী মুজিবুল হকের আত্মীয়। বিএনপির তালিকায় চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেণী, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, টাঙ্গাইল, ঝিনাইদহ, খুলনা, কুষ্টিয়া, নড়াইল, ময়মনসিংহ, জয়পুরহাট, নওগাঁ, রাজশাহী ও সিলেট জেলার জেলা প্রশাসকদের বিরুদ্ধেও প্রায় একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

যেসব পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিএনপির অভিযোগ তার মধ্যে পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজি মোখলেছুর রহমান ও র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহম্মেদসহ ২৬জন অ্যাডিশনাল আইজি ও দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ ডিআইজিরাও রয়েছেন। এছাড়া রয়েছেন ৪৪ জন ডিসি ও এসপি। চিঠিতে পাবনা, সিরাগঞ্জ, বগুড়া, নাটোর, নওগাঁ, চাপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, ফেনী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, যশোর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, খুলনা, ভোলা, বরিশাল, সিলেট, শেরপুর, ময়নসিংহ, মাদারীপুর, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার পুলিশ সুপারের নামও রয়েছে।

Share

Comments

comments

Close