আজ: ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ইং, বুধবার, ৭ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৫ সফর, ১৪৪১ হিজরী, দুপুর ১:১৬
সর্বশেষ সংবাদ
রাজনীতি ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা

ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ১০/০৯/২০১৯ , ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: রাজনীতি


Spread the love

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের কার্যক্রম চলছে ১৩ বছর আগের কমিটি দিয়ে। ২০০৬ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে মহানগরের দুই কমিটি গঠন হলেও এরপর আর নতুন কোনো সম্মেলন হয়নি। হয়নি নতুন কোনো কমিটিও। ফলে মহানগর পর্যায়ের এই দুই কমিটিতে নতুন নেতৃত্ব আসার সুযোগ তৈরি হয়নি।
এদিকে, এক যুগের বেশি সময় সম্মেলন না হওয়ায় ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই শাখার অনেক নেতাকর্মী উদ্যমহীন হয়ে পড়েছেন। কিংবা অন্য কোনো সহযোগী সংগঠনে যোগ দিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছেন তারা।
পদপ্রত্যাশী নেতাদের অভিযোগ, দীর্ঘ ১৩ বছর সম্মেলন না হওয়ায় ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ উত্তর এবং দক্ষিণে নেতাকর্মীদের মাঝে অস্থিরতা নেমে এসেছে। হতাশ হয়ে পড়েছেন অনেক ত্যাগী। সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের তাগিদ থাকলেও তা বাস্তবায়নে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা।
২০০৬ সালের ৩১ মে ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে মহানগরকে দুইটি ভাগে ভাগ করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটির ঘোষণা করা হয়।
ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন হওয়ার ছয় বছর পর ২০১২ সালে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেল অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনের মাধ্যমে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ কমিটি ১০১ সদস্য বিশিষ্ট করার প্রস্তাব পাস করা হয়। কিন্তু এখনও ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি দিয়ে সংগঠনের কাজ করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।
শুধু তাই নয়, দীর্ঘ সময়েও মহানগরের দুই অংশ এখনও কয়েকটি থানায় কমিটি দিতে পারেনি। পুরনো বেশ কয়েকটি থানার পাশাপাশি নতুন থানাগুলোতেও কমিটি নেই। এছাড়া ১৭ বছর আগে দেওয়া কমিটি দিয়েই চলছে কয়েকটি থানার কার্যক্রম।
দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় সংগঠনের কাজ একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে। মহানগরের নেতারা বারবার কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বললেও কেন্দ্রীয় নেতারা এর আগে বলেছিলেন , অতি শিগগিরই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করা হবে।
এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাউছার বলেন, ‘আমি আন্তরিকভাবেই সম্মেলন চাই। এর আগে আমাদের নেত্রীর সম্মতি পাওয়া গেলেও বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড, নির্বাচন বিভিন্ন ইস্যুর কারণে পরবর্তী সময়ে আর সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু এবার আমাদের মূল দল আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার আগেই স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে ।’
অপরদিকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ বলেন, ‘ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সম্মেলন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এবার কেন্দ্রের সম্মেলনের সাথে সাথে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগও নতুন কমিটি পাবে বলে আশা করছি।’
১৩ বছর আগে সর্বশেষ ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন মোবাশ্বের চৌধুরী। আর ফরিদুর রহমান খান ইরান নির্বাচিত হন সাধারণ সম্পাদক। অন্যদিকে দক্ষিণের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন দেবাশীষ বিশ্বাস, আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন আরিফুর রহমান টিটু।

এদিকে মধ্য নভেম্বরে কেন্দ্র ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কমিটি আসছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও দুটি কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবি পাওয়ার আশায় তৎপরতা শুরু করেছেন ডজন খানেক নেতা।
আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ স্বীকার না করলেও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেতে মাঠে নেমেছেন অনেকেই। মহানগরের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ফরিদুর রহমান খান ইরানের পাশাপাশি সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন নব্বই দশকের ছাত্রনেতা ইসহাক মিয়া ।
মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন মোহাম্মাদপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি লায়ন এমএ লতিফ । তিনি সাবেক ৪২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন এবং ২০০৪ ইং থেকে মোহাম্মাদপুর-আদাবর ও শেরেবাংলা নগর থানার আহ্বায়ক হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন । এছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম মনোয়ার হোসেন বিপুল ও ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এস এম রবিউল ইসলাম সোহেল।
তাদের কেউ সরাসরি তদবিরের কথা অস্বীকার করলেও ফেসবুকে তাদের অনুসারীদের পক্ষ থেকে কৌশলী প্রচার চালানো হচ্ছে। ‘অমুক ভাইকে অমুক পদে দেখতে চাই’ বলে আলোচনায় থাকা প্রায় সবাই ফেসবুকে তৎপরতার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে জানা গেছে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আলোচনায় থাকা প্রায় সব নেতাই। ফলে কৌশলী প্রচার চালালেও তাদের কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না।

তবে সম্ভাব্য সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ হওয়ার আভাসে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। ঝিমিয়ে পড়া নেতা কর্মীদের মাঝে চাঙ্গা ভাব বিরাজ করছে। সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের নিয়ে কর্মী ও সমর্থকরা আলোচনা ও সমালোচনা শুরু করে দিয়েছেন। আনন্দ-উল্লাসের পাশাপাশি তৃনমূলকর্মীদের মধ্যে অজানা হতাশা দেখা দিয়েছে।

Share

Comments

comments

Close