আজ: ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ইং, মঙ্গলবার, ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী, দুপুর ১:৪২
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, জাতীয় ডাকাতির পর গুহায় লুকিয়ে পড়ত তারা

ডাকাতির পর গুহায় লুকিয়ে পড়ত তারা


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: 11/02/2019 , 5:00 pm | বিভাগ: অপরাধ,জাতীয়


Spread the love

মহাসড়কে ডাকাতির পর সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি গুহায় লুকিয়ে থাকতো একদল ডাকাত। তারা সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতি করতো চট্টগ্রামের বেশ কিছু এলাকায়। শনিবার ভোরে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানার টাইগার পাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই দলে ১১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

গ্রেপ্তার ১১ জন হলেন- মো. সালাউদ্দিন (২৪), মো. রাজু (১৯), ইসরাফিল হোসেন আলম (২২), আকবর হোসেন (২২), সেলিম (২৮), মো. টিটু (২৫), ইয়াসিন (২৩), ফজর আলী (৩৫), মো. সুমন (২৫), রহিম প্রকাশ হৃদয় (২২) এবং পলাশ হোসেন (২৫)।

এ বিষয়ে দুপুরে নগরীর মোমিন রোডে মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান।

সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান বলেন, এদের দলনেতা মো. সালাউদ্দিন আড়াই বছর জেলে ছিল। এরপর দুই মাস আগে বেরিয়ে আবার ডাকাতির কাজে জড়িয়ে পড়ে। চট্টগ্রাম নগরী, সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই উপজেলা, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ফেনী, কুমিল্লা, লাকসাম ও নোয়াখালী এলাকায় এরা ডাকাতি করে। ডাকাতি শেষে সীতাকুণ্ডের পাহাড়ের গুহায় চলে যায়। যে কারণে তাদের সন্ধান পাওয়া যেত না।

দুই মাস আগে গ্রেপ্তার অন্য একটি ডাকাত দলের কাছে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই ডাকাত দলটিকে অনুসরণ করছিল পুলিশ।

পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী বলেন, ভোরে পিকআপ ও প্রাইভেট কার নিয়ে ডাকাতি প্রস্তুতির সময় টাইগার পাস এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সীতাকুণ্ডের পন্থিছিলায় দোকানে, সম্প্রতি মিরসরাইয়ে ডাকাতি, নগরীর সাগরিকা এলাকায় মোটর পার্টসের দোকানে, ফেনীর মহিপালে কাপড়ের দোকানে, ফেনীতে চালের দোকানে, চৌদ্দগ্রামে মার্কেটে এবং ফেনী, কুমিল্লা, লাকসাম ও নোয়াখালী এলাকায় পিকআপ ভ্যান নিয়ে মহাসড়কে ডাকাতির কথা তারা স্বীকার করেছে।

গত চার-পাঁচ বছরে তারা ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের প্রায় দুই শ ঘটনার সাথে জড়িত বলে জানিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মিরসরাই ও আকবর শাহ থানায় মামলা আছে। অন্য থানাগুলোতেও মামলা আছে কি না খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে একটি কাঠের বাটযুক্ত লোহার তৈরি দেশীয় এলজি, ২টি কার্তুজ, ২টি কালো রংয়ের টিপ ছোরা, একটি লোহার তৈরি ছেনি, ৩টি কাঠের বাটযুক্ত কিরিচ, একটি সাদা রংয়ের পিকআপ, একটি সিলভার রংয়ের প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।

কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মহসিন জানান, নগরীতে মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত তারা দল বেঁধে ছিনতাইও করতো। ভোরের দিকে বাস ও ট্রেনে নগরীতে আসা যাত্রীরা ছিল তাদের লক্ষ্যবস্তু।

যাত্রীদের রিকশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশা আটকে ছোরার ভয় দেখিয়ে সব ছিনিয়ে নিত। কারও কাছে পাসপোর্ট পেলে ছিনিয়ে নিয়ে পরে বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে টাকা আদায় করত। অধিকাংশ সময়ই টাকা আদায়ের পর পাসপোর্ট ও মূল্যবান কাগজপত্র ফেরত দিত না যোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি-দক্ষিণ) শাহ মো.আব্দুর রউফ, এসি কোতোয়ালি নোবেল চাকমা, কোতোয়ালী থানার ওসি মো. মহসীন।

Share

Comments

comments

Close