আজ: ৮ এপ্রিল, ২০২০ ইং, বুধবার, ২৫ চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ শাবান, ১৪৪১ হিজরী, রাত ৮:৫৮
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, জেলা সংবাদ, স্বাস্থ্য অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারীর খাদ্যদ্রব্য

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারীর খাদ্যদ্রব্য


পোস্ট করেছেন: desk news | প্রকাশিত হয়েছে: ১২/১৪/২০১৯ , ৪:০২ অপরাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,জেলা সংবাদ,স্বাস্থ্য



Image result for অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারীর খাদ্যদ্রব্য

শ্রীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদে নুরানি ও ভাই ভাই  নামের দুটি বেকারিতে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারি খাদ্য সামগ্রী। পণ্যের নেই কোন সরকারি অনুমোদন।ভাই ভাই  বেকারি সহ অন্যান্য বেকারির তৈরি নিন্মমানের বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য কিনে একদিকে প্রতারিত হচ্ছে গ্রাহক, অপরদিকে হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য।অপরদিকে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বেকারি মালিকরা। 

 

উপজেলার ভাই ভাই বেকারিসহ অধিকাংশ বেকারি’র নেই কোন ট্রেড লাইসেন্স ও বিএসটিআই‘র অনুমোদন। অস্বাস্থ্যকর, নোংরা ও সেঁতস্যাতে পরিবেশে নিন্মমানের বিভিন্ন ধরনের কেক বিস্কুট, জন্মদিনের কেক, মিষ্টি, লাড্ডু, শিশু খাদ্য ও বেকারী পণ্য তৈরি হচ্ছে। কাপড়ের রং ও পাউডার মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে মুখরোচক খাবার।

অল্প বেতনে শিশু শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। বেকারী শ্রমিকরা খালি গায়ে, শরীর থেকে ঘাম বেয়ে পরছে, ময়লা হাতে কখনো দেখা যায় একহাতে সিগারেট অন্য হাত দিয়ে কাজ করছে অথবা পায়ে মাড়িয়ে কাজ করছেন। খোলাভাবে তেলভর্তি ড্রাম রাখা হয়েছে। তার উপরে মাছি ভনভন করছে, ইদুর ও তেলাপোকার বিস্টা দিয়ে জীবানু ছড়াচ্ছে,  খোলা পরিবেশে বেকারী পণ্য তৈরির ফলে বাতাসে উড়ে এসে ময়লা-কালি ও ধুলো-বালি পড়ছে। কয়েকজন শিশু মাটিতে খাবার রেখে খালি গায়ে ময়লা হাতে বিভিন্ন খাবার প্যাকেট করছে। পাশেই রয়েছে ক্ষতিকর বিভিন্ন প্রকার রং ও স্যাকারিন।

উৎপাদন ও মেয়াদউর্ত্তীর্ন তারিখ ছাড়াই কাওরাইদ ও শ্রীপুরের নামি দামি বাহারি মোড়কে  পাউরুটি, কেক, বিস্কুট,  বিভিন্ন ধরনের বেকারী সামগ্রী উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে। ডাঃ আরিফ রায়হান বলেন, ভেজাল কেমিক্যাল ও নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরী করা এসব খাবার সামগ্রী খেলে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি হতে পারে।

পেটব্যাথা, শরীর দূর্বলসহ জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষের অকাল মৃত্যু বাড়ছে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে কারখানার এক কর্মচারী বলেন, কারখানায় সারাদিন ধরে তারা এসব পণ্য উৎপাদন করেন। রাতে ভ্রাম্যমান আদালত, র‌্যাব ও পুলিশের ঝামেলা কম বলেই পণ্য উৎপাদন রাতেই বেশি করে থাকেন।

কাওরাইদ বাজারের চা দোকানি রউফের এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা গরীব মানুষ, চা-পান বিক্রি করে সংসার চালাই। উৎপাদনের তারিখ দেখবার সময় নাই। কাস্টমাররা তো আর এসব জিজ্ঞেস করে না। প্যাকেট থেকে কোনমতে তুলে চা বা কলা দিয়ে খেতে শুরু করে বা এ সব বেকারি সামগ্রী কিনে নিচ্ছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন মানহীন প্রতিষ্ঠানে কিভাবে এসব পণ্য তৈরি হয়, এ প্রশ্ন অনেকের। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী প্রশাসনের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Share

Comments

comments

Close