আজ: ২০ জানুয়ারি, ২০২০ ইং, সোমবার, ৬ মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৬ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী, রাত ৯:১২
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয় পেঁয়াজের মূল্য কারসাজির সিন্ডিকেট ১৭ জনের

পেঁয়াজের মূল্য কারসাজির সিন্ডিকেট ১৭ জনের


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০১/১৬/২০২০ , ২:৫১ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: জাতীয়



পেঁয়াজের মূল্য কারসাজির সিন্ডিকেট ১৭ জনের

পেঁয়াজের মূল্য কারসাজিতে ১৭ জনের একটি সিন্ডিকেট জড়িত। এই জড়িত ১৭ জন হলো খাতুনগঞ্জ আর ঢাকার। মূলত চার গডফাদার নিয়ন্ত্রণ করেছে পরিকল্পিতভাবে মূল্যবৃদ্ধির পুরো বিষয়টি। এক্ষেত্রে সহায়তা করেছে মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ একটি দপ্তরের একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী। আর এই কারসাজির মাধ্যমে দেড় হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার এমন রিপোর্ট গত মাসে মন্ত্রণালয় ও শীর্ষ প্রশাসনের কাছে জমা পড়েছে। রিপোর্টে সবার নামও উল্লেখ আছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কারোর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

জানা গেছে, এবার পেঁয়াজের কেজি ২৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। এখনো পেঁয়াজের মূল্য ১০০ টাকার ওপরে। আসন্ন পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে ঐ সিন্ডিকেট ফের পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে। পেঁয়াজ কেলেঙ্কারির চার গডফাদার অতীতে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি ও ব্যাংক কেলেঙ্কারির সঙ্গেও জড়িত ছিল। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কেউ ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তারা সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকেছে। তবে পেঁয়াজ কারসাজিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, আমদানি-রপ্তানি বিভাগের একশ্রেণির কর্মকর্তারা জড়িত।

সিন্ডিকেট কারসাজির মাধ্যমে বাজার থেকে টাকা তুলে নিয়ে দেশে সেই টাকা রাখেনি। কারণ হিসেবে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে কোনো কোনো ব্যবসায়ী বলেছেন, দেশে টাকা রাখতে গেলে টাকার উত্স দেখাতে হয়। তাই তারা বিদেশে দেড় হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে।

দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ৩৫ লাখ মেট্রিক টন। উত্পাদন হয় ২৩ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ৫ লাখ থেকে ৮ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বিভিন্ন কারণে পচে যায়। তবে সঠিক সময়ে বিক্রি করে দিলে পচে না। মূল্য বৃদ্ধির জন্য অনেকে পেঁয়াজ মজুত করে রাখেন। প্রতি বছর ৬ লাখ থেকে ৯ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। দেশে যা উত্পাদন হয় তা আগস্ট মাস পর্যন্ত চলে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে সংকট দেখা দেয়।

এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো আগে থেকে পূর্বাভাস দেয়। কতটুকু আমদানি করতে হবে তা সময়মতো বলে দেয়। কিন্তু এবার তা করা হয়নি। এছাড়া আমদানি করা হলেও তা বাজারে না ছেড়ে মজুত করে রাখে ঐ সিন্ডিকেট। ২০১৮ সালে সবজি থেকেও পেঁয়াজের দাম কম ছিল। কিন্তু এবার পেঁয়াজের দাম আকাশছোঁয়া। এদিকে আমদানিকৃত পেঁয়াজের মধ্যে ৮০ থেকে ৯০ ভাগ আসে ভারত থেকে। ১০ থেকে ১৫ ভাগ আমদানি করা হয় মিয়ানমারসহ অন্যান্য দেশ থেকে। এবার ভারতেও পেঁয়াজের সংকট।

Share

Comments

comments

Close