আজ: ২১ জানুয়ারি, ২০২০ ইং, মঙ্গলবার, ৭ মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৭ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী, রাত ১১:৩৯
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা সংবাদ আখাউড়া চেকপোস্টে ইমিগ্রেশন ভবন নির্মাণে ফের বিএসএফের বাধা

আখাউড়া চেকপোস্টে ইমিগ্রেশন ভবন নির্মাণে ফের বিএসএফের বাধা


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০১/১৬/২০২০ , ১:০৫ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জেলা সংবাদ



আখাউড়া আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর চেকপোস্ট এলাকায় বাংলাদেশ পুলিশের ইমিগ্রেশনের নির্মাণাধীন ভবন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর চেকপোস্ট এলাকায় বাংলাদেশ পুলিশের ইমিগ্রেশন ভবন নির্মাণকাজ ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃপক্ষের ফের বাধার মুখে বন্ধ রয়েছে।

গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ত্রিপুরা বিএসএফ কর্তৃপক্ষ বাধা দেয়ায় এ ভবন নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।

তারা বলছে, বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃপক্ষের যে নকশায় ইমিগ্রেশন ভবনের নির্মাণকাজ করা হচ্ছে তা করা যাবে না। নকশা সংশোধন করে ভারতীয় বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তবেই ইমিগ্রেশন ভবন নির্মাণকাজ শুরু করতে হবে।

যদিও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ভারতীয় বিএসএফ কর্তৃপক্ষ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন ‘আখাউড়া স্থলবন্দর চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ভবন নির্মাণে ভূমি থেকে ৩৫ ফিট উচুঁ পর্যন্ত করা যাবে। বর্তমানে যে নকশা বা ড্রয়িং ধরে নির্মাণকাজ চলছিল ভারতীয় বিএসএফ কর্তৃপক্ষের বাধায় তা বন্ধ রয়েছে’।

তবে এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করবেন বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

এ ব্যাপারে সরাইল বিজিবির-২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কবির  বলেন, দুই দেশের সমঝোতার মাধ্যমে নতুন নকশায় আখাউড়া ইমিগ্রেশন ভবন নির্মাণ কাজ করা হবে। দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ে এ বিষয়টি জানিয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলেই ফের কাজ শুরু হবে।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ওয়ার্ক অর্ডারের পর আখাউড়া স্থলবন্দর চেকপোস্টে ইমিগ্রেশন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে মেসার্স বিজনেস সিন্ডিকেট ইন্টারন্যাশনাল কনস্ট্রকশন লিমিটেড নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

তখন ইমিগ্রেশন ভবন এলাকায় নির্মাণসামগ্রী রাখার শুরুতেই ২০১৭ সালের ১১ মার্চ ভারতের বর্ডার নিরাপত্তা বাহিনী বিজিবির মাধ্যমে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সূত্র জানায়, নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার পর পুলিশ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র নিয়ে প্রায় তিন বছর পর ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ভবন নির্মাণের কাজ ফের শুরু করা হয়।

৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরে নির্মাণকাজ শুরু হওয়া ইমিগ্রেশন ভবনের পাইলিংয়ের কাজ চলছে। এরই মধ্যে দ্বিতীয় দফায় নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় ভারতীয় বিএসএফ।

তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে তাও ঠিক করে বলতে পারেনি কোনো সংস্থা। এতে আমরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

সরেজমিন পরিদর্শনে স্থানীয় বিজিবি ও ইমিগ্রেশন পুলিশ জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তের ওপারে ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশনের পশ্চিম পাশে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সীমানার গা ঘেঁষে বিএসএফ ক্যাম্পের স্থায়ী বিভিন্ন ভারী স্থাপনার কাজ চলছে। বিএসএফ বাংলাদেশ সীমানা ঘেঁষে প্রাচীর গড়ে তুলেছেন অনেক আগেই।

এদিকে ত্রিপুরা সীমান্তজুড়ে কাঁটাতারের বেড়ার পাশে সুপ্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে আগরতলা ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট। অপরদিকে আন্তর্জাতিক সীমানালংঘন করে চেকপোস্ট বিএসএফ ক্যাম্পের উত্তর পাশে- ২০০০/২৩, ৬এস মেইন পিলার বরাবর কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ‘৭১ মুক্তিযুদ্ধের প্রবেশদ্বার নামে খ্যাত ও স্মৃতিবিজড়িত আখাউড়া দিয়ে স্বাধীনতার পর থেকে ভারত-বাংলাদেশে উভয় দেশের নাগরিকরা যাতায়াত করছে।

বিশেষ করে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন হয়ে ট্রেনে চলাচলের সুবিধা থাকায় ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে ওঠে। বর্তমানে ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা বিমানবন্দর হয়ে ভারতে যাতায়াত সুবিধা থাকায় যাত্রী পারাপার বেড়েছে।

তাই চট্টগ্রাম, ঢাকা ও সিলেট থেকে অনেকেই যাতায়াতে আখাউড়া ইমিগ্রেশন ব্যবহার করছেন। ২০১৯ সালের শেষ পাঁচ মাস অর্থ্যাৎ গত আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে যায় ৭১ হাজার ৬৫৩ জন পাসপোর্টধারী বাংলাদেশি। আর ভারতীয় ও অন্যান্য দেশের ৫২হাজার ১৩৫জন বিদেশি বাংলাদেশে আগমন করেন।

এর মাধ্যমে ভ্রমণ কর বাবত বাংলাদেশ সরকার আয় করেছে ৩ কোটি ৫৮ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা। চলতি বছর ২০২০ সালে এই লক্ষ্যমাত্রা আরও ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন আখাউড়া কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। আখাউড়া স্থলবন্দর চেকপোস্ট স্থায়ী কাঠামো ও ইমিগ্রেশন সেন্টার নির্মাণ হলে এ পথে দুই দেশের মানুষের যাতায়াত আরও বাড়বে জানিয়েছেন আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ইনচার্জ এসআই আবদুল হামিদ।

তিনি জানান, বর্তমানে আখাউড়া ইমিগ্রেশন ভবন নামমাত্র টিকে রয়েছে। সংস্কার করে কোনোমতে, ঝুঁকি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা হচ্ছে। স্থায়ী ভবন তৈরি হলে এ চেকপোস্ট সীমান্ত পথে বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের নাগরিকের পাশাপাশি বিদেশিদের আসা যাওয়া আরও বেড়ে যাবে।

Share

Comments

comments

Close