আজ: ২৫ মে, ২০২০ ইং, সোমবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩ শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী, রাত ১০:৩৮
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, রাজধানী ঢাকা, রাজনীতি ডিএনসিসি ওয়ার্ড ২৯: কাউন্সিলর নির্বাচনে সংখ্যালঘুর বাড়ি দখলের মূল হোতা সামিউল আলিম !

ডিএনসিসি ওয়ার্ড ২৯: কাউন্সিলর নির্বাচনে সংখ্যালঘুর বাড়ি দখলের মূল হোতা সামিউল আলিম !


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০১/৩১/২০২০ , ৬:০৬ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,রাজধানী ঢাকা,রাজনীতি



ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯ নম্বর ওয়ার্ড। কয়েক যুগ ধরে এই ওয়ার্ডে বাসিন্দারা তাদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে হাজী চিনু মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের বেছে নিচ্ছেন। হাজী চিনু মিয়ার মৃত্যুর পর ছেলে সলিম উল্লাহ সলু ও মেয়েজামাই নুরুল ইসলাম রতন কমিশনার ও কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মূলত নির্বাচন এলেই এই ওয়ার্ডে শ্যালক ও দুলাভাইয়ের মধ্যে ভোট যুদ্ধ হয়। কখনো নির্বাচিত হন নুরুল ইসলাম রতন কখনো বা সলিম উল্লাহ সলু। সর্বশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন নুরুল ইসলাম রতন ।
শালা-দুলাভাইয়ের লড়াইটা এখানে দীর্ঘ দিনের । গত নির্বাচনেও ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে শ্যালকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিতেছেন দুলাভাই নুরুল ইসলাম রতন । সলিমউল্লাহ সলু ঘুড়ি প্রতীকে ভোট পেয়েছিলেন চার হাজার ৮৭২ টি। রতন ঠেলাগাড়ি প্রতীকে লড়ে জিতেছেন সাত হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে । এবারো দুজনই আগের মার্কা নিয়েই নির্বাচনী মাঠে প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ।

এই ওয়ার্ডে শালা-দুলাভাইয়ের লড়াইয়ের পাশাপাশি প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় আছেন মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক সামিউল আলিম চৌধুরী ঝুড়ি প্রতীকে, থানা শ্রমিক লীগের নেতা নুর মোহাম্মদ লাটিম প্রতীকে ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা এম নুরুল ইসলাম ওরফে শাহেদ রেডিও প্রতীকে । এখানে বিএনপি সমর্থন দিয়েছে লিটন মাহমুদকে। তিনি মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক।

অভিযোগ আছে,  বিদ্রোহী কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ও মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক সামিউল আলিম চৌধুরী ২০১৮ সালে শ্যামলী ২ নম্বর রোডে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়ি দখল করেন । শুধু তাই নয়, পরিবারটিকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে প্রায় ৯ কোটি টাকা মূল্যের বাড়িটি দখলে নেন আলিম সহ ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতা। সে সময় অর্ধশত ক্যাডারের একটি বাহিনী নিয়ে পরিবারের সদস্যদের গাড়িতে তুলে নিয়ে যান এবং বাড়ির মালামালসহ সর্বস্ব লুট করেন তারা।সেই সময়ের অভিযোগের সূত্র ধরে জানা যায় , তৎকালীন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক কামরান শহিদ প্রিন্স মহব্বত ও মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তৌফিকুর রহমান রেজা মিসলু, থানা সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক সামিউল আলিম চৌধুরী ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল হাই ও তার ছেলে শেরে বাংলা নগর থানা তাঁতী লীগের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক রাজন মাতব্বর, ২৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ ইউসুফ শামীম ওরফে গরু শামীম, শেরে বাংলা নগর থানা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শারমিন আক্তারসহ একটি সিন্ডিকেট বাড়িটি দখলে নেয়। কিন্তু সে সময়ের তেজগাঁও অঞ্চলের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়ি দখলের বিষয়টি জানতে পেরে কঠোর অবস্থান নেন । তাঁর নির্দেশেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের নেতা মিসলু ও তাঁতী লীগ নেতা রাজন মাতব্বরকে গ্রেপ্তার করে। ওই ঘটনায় মিহির বিশ্বাস বাদী হয়ে নুরুজ্জামানসহ অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে বাড়ি দখলের মামলা করেন শেরে বাংলা থানায়। মামলার পর পুলিশের তদন্তে বেড়িয়ে আসে বাড়ি দখলের মূল হোতা কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতা কামরান শহিদ প্রিন্স মহব্বত ও আলিম সহ ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের নাম।
বাড়িটির মালিক ছিলেন মিহির বিশ্বাস , যিনি বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর যুগ্ম সম্পাদক। তিনি স্ত্রী ও ১০ বছরের এক সন্তানসহ বাড়িটিতেই থাকতেন। ওই ঘটনায় সে সময় মুসড়ে পড়েন মিহির বিশ্বাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাদের সবার চোখে মুখে অজানা এক আতঙ্কের ছাপ। পরিবারটির অভিযোগ, ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই বাড়িটির দিকে নজর পড়ে যুবলীগ নেতা কামরান শহিদ প্রিন্স মহব্বত ও সামিউল আলিম সহ একটি ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের। অভিযোগে জানা যায় , কামরান শহিদ প্রিন্সকে সহযোগিতা করেন থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হামিদা আক্তার মিতা, ওই মামলার আসামি থানা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শারমিন আক্তার হচ্ছেন থানা আওয়ামী লীগের নেত্রী হামিদা আক্তার মিতার খুবই ঘনিষ্ঠ। ওই সিন্ডিকেট তাদের বাড়িটি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য অনেকভাবে ভয়ভীতি দেখানো হলেও তারা যায়নি। শেষ পর্যন্ত আলিম তাদের জোরপূর্বক বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যান এবং মালামাল লুট করে বাড়িটি দখলে নেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তৎকালীন ডিসি বিপ্লব কুমারের সহায়তায় বাড়িটির দখল ফিরে পান মিহির বিশ্বাস। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন কেন্দ্রীয় যুবলীগ মহব্বতকে দল থেকে বহিষ্কার করে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। শাপলা হাউজিং এলাকায় চার কাঠার একটি বাড়ি এবং মোল্লা পাড়ার পশ্চিম কাফরুলের আমানউল্লাহর ১১২৪ নম্বর প্লটের প্রায় আট কাঠার বাড়ি দখলের অভিযোগ রয়েছে যুবলীগ নেতা মহব্বতের বিরুদ্ধে। আর এসবের মূল সহায়তাকারী হিসেবে বরাবরই মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক সামিউল আলিম চৌধুরীর নামটি উঠে আসে ।

সামিউল আলিম চৌধুরীর নির্বাচনে অর্থের যোগান দাতা হিসেবে কামরান শহিদ প্রিন্সের নাম জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কজন । খবর নিয়ে জানা যায় , শুধু একসাথে বাড়ি বা ভূমি দখলই নয় , সামিউল আলিমের গডফাদার বলে পরিচিত প্রিন্স মোহাব্বতের বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে । ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে প্রায় ৮০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় মহব্বতের দুটি প্রতিষ্ঠান। বর্ষণ অ্যাগ্রোর বিরুদ্ধে ৪৪ কোটি ৩১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ও মেসার্স বীথি এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি টাকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বর্ষণ অ্যাগ্রো ও মেসার্স বীথি এন্টারপ্রাইজের মালিক কামরান শহীদ প্রিন্স মহব্বত। বর্ষণ অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং এমডি মহব্বত ও তাঁর স্ত্রী শামিয়াজ আক্তার। ভুয়া কাগজপত্রে বেসিক ব্যাংকের টাকা নেওয়ার অভিযোগে কামরান শহিদ প্রিন্স মহব্বত ও তার শামিয়াজ আক্তারের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছে দুদক।
এদিকে কাউন্সিলর নির্বাচনে সংখ্যালঘুর বাড়ি দখলের মূল হোতা আলিম অংশ নেয়ায় এবং কামরান শহিদ প্রিন্স মহব্বত অর্থ ও লোকবল দিয়ে নির্বাচনে সহায়তা করায় আতংকে রয়েছে ওয়ার্ডের বাসিন্দারা ।

Share Button

Comments

comments

Close