আজ: ৮ এপ্রিল, ২০২০ ইং, বুধবার, ২৫ চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ শাবান, ১৪৪১ হিজরী, সকাল ৭:৩৩
সর্বশেষ সংবাদ
শিক্ষাঙ্গন অঘোষিত বৃক্ষ জাদুঘর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

অঘোষিত বৃক্ষ জাদুঘর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০২/২৪/২০২০ , ২:১১ অপরাহ্ণ | বিভাগ: শিক্ষাঙ্গন



গাছ কাটার ব্যাপারে মানুষ যতটা আগ্রহী, রোপণের ব্যাপারে ঠিক ততটাই অনাগ্রহী; কিন্তু এই চিন্তাকে একেবারেই প্রশ্রয় দেননি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ। তিনি শুধু বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভিতরেই প্রায় ৩৩ হাজার গাছ লাগিয়েছেন। প্রায় প্রতিটি গাছেই লেগে আছে তার হাতের ছোঁয়া। ৭৫ একরের ক্যাম্পাসে ঢুকলেই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাহারি গাছপালা যে কারো নজর কাড়তে সক্ষম। ফুলগাছ, ফলগাছ, ঔষধিগাছ, কাঠগাছসহ সব ধরনের গাছের একটি বৃক্ষ জাদুঘরে পরিণত হয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫ একরের ক্যাম্পাস।

ক্যাম্পাসের ভিতরে খেলার মাঠের পাশে, মসজিদের সামনে, ক্যাফেটেরিয়ার সামনে, লাইব্রেরির সামনে, একাডেমিক ভবনগুলোর সামনে অথবা প্রাশাসনিক ভবনসহ যে কোনো জায়গায় দাঁড়ানো হোক না কেন মুহূর্তেই সেখানে একটা নির্মল অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে যেন। প্রত্যেক ভবনের সামনে নিয়মিত দূরত্বে লাগানো হয়েছে ফুলের গাছ। বছরের ১২ মাসেই ফোটে কোনো না কোনো ফুল। চারটি একাডেমিক ভবনের সামনে পুরোটা জুড়ে নানা রকম বৃক্ষের সমারোহ। চড়ুই, ঘুঘুসহ নাম না জানা অসংখ্য পাখি খেয়ালি ওড়াউড়ি করে এপাশ থেকে ওপাশ। রংপুর শহরের যে কোনো স্থানের চাইতে ক্যাম্পাসের এই দৃশ্য অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। ক্যাম্পাসের এ বিরল দৃশ্য পরম যত্নে গড়ে তুলেছেন ড. তুহিন ওয়াদুদ। তিনি যেন সবুজের কারিগর।

অঘোষিত বৃক্ষ জাদুঘর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

শতাধিক প্রজাতির ৩৩ হাজার গাছ: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শতাধিক প্রজাতির প্রায় ৩৩ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে পরিচিত গাছের ফাঁকে ফাঁকে পরিচয় মিলবে বিভিন্ন অপরিচিত গাছের। কোনোটা পরিণত, আবার কোনোটা চারা অবস্থা থেকে মাত্রই ছোটো ডাল মেলে বেড়ে উঠছে। শরীর ভরতি সবুজ-কোমল-কচি পাতা।

গাছ এবং শিক্ষার্থী: গাছ লাগানোর কাজে বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদেরকেও উদ্বুদ্ধ করেছেন। শিক্ষার্থীরাও সাড়া দিয়েছেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে। শুরুর দিকে বাংলা বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৃক্ষরোপণ নিয়ে কথা বলার পর শিক্ষার্থীরা গাছের পরিচর্যায় আগ্রহ দেখায়। তুহিন ওয়াদুদ নিজের বেতনের দুই হাজার টাকা দিয়ে ২০০ গাছের চারা কিনে ক্যাম্পাসে গাছ লাগানো শুরু করেন। এভাবেই শুরু হয় খাঁখাঁ ক্যাম্পাসে গাছ লাগানোর কর্মকাণ্ড। এই উদ্যোগ দেখে মিঠাপুকুর উপজেলার আবদুস সালাম বেশ কিছু আমগাছের চারা দেন। এছাড়া নিজ বিভাগের প্রতিটি ব্যাচের শিক্ষার্থীকেই উদ্বুদ্ধ করেন গাছ লাগানোর জন্য। এমনকি মাঝে মাঝে ক্লাসও নেন যে কোনো গাছের নীচে অথবা কোনো বাগানে। এতে করে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছ লাগানোর জন্য বাড়তি উত্সাহ কাজ করে। এছাড়া, মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীরা চাঁদা তুলে গাছ লাগিয়েছেন।

অঘোষিত বৃক্ষ জাদুঘর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

ড. তুহিন ওয়াদুদের লাগানো গাছের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৬ সালে বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পুরস্কারের জন্য ২য় স্থান অধিকার করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দাঁড়ানোর মতো ছায়া ছিল না। সেই ক্যাম্পাস এখন সবুজে পরিপূর্ণ। ক্যাম্পাসে ঢকুলেই বিভিন্ন ফুল চোখে পড়ে। পাখিদের কলকাকলিতে মনটাই ভরে যায়। এই গাছগুলো ক্যাম্পাসকে দিয়েছে এক অনন্য সৌন্দর্য। অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারী, রংপুরের অনেক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তির সহযোগিতায় মূলত এত বড়ো কাজটি আমি সহজে করতে পেরেছি।

Share

Comments

comments

Close