আজ: ৮ এপ্রিল, ২০২০ ইং, বুধবার, ২৫ চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ শাবান, ১৪৪১ হিজরী, সকাল ৯:১১
সর্বশেষ সংবাদ
শিক্ষাঙ্গন চুয়েট শিক্ষকের প্রচেষ্টায় ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের দশের অধিক প্রকাশনা

চুয়েট শিক্ষকের প্রচেষ্টায় ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের দশের অধিক প্রকাশনা


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: ০৩/০১/২০২০ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: শিক্ষাঙ্গন



বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে গবেষণা ও মুক্ত জ্ঞান চর্চার স্থান। এখানেই স্কুল-কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মূল পার্থক্য। স্কুল-কলেজে পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্ভুক্ত বিষয় সমূহ পড়ানো হয় এবং সেগুলো ব্যবহারিক ক্লাসে দেখানো হয়। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিষয়ের মৌলিক জ্ঞান প্রদানের পাশাপাশি সেই বিষয়ে পুরো পৃথিবীতে কি গবেষণা হচ্ছে তাও জানানো হয়। কিভাবে ওই বিষয়ে আরো বেশি উন্নতি করা যায় এবং সেই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা যায় সেটি দেখানোর কথা থাকলেও বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে গতানুগতিক পদ্ধতিতে চলছে। যদিও চূড়ান্ত বছরে প্রোজেক্ট অথবা থিসিস করানো হয় কিন্তু এর আগে স্নাতকোত্তরের বিভিন্ন বিষয়ের উপর গবেষণা অথবা প্রোজেক্ট করানো এবং সেখান থেকে প্রকাশনা হওয়া খুবই দুর্লভ। তাই এবার একটু ভিন্ন পথে হাঁটলেন চট্রগ্রাম  প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কম্পিউটার কৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ ছাবির হোসাইন।

গত তিন বছর ধরে তিনি কম্পিউটার কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বছরের অ্যালগরিদম ডিজাইন এন্ড এনালাইসিস কোর্সটি পরিচালনা করে আসছেন। কোর্সটির মৌলিক বিষয় পড়ানোর পাশাপাশি তিনি ছাত্র-ছাত্রীদেরকে গবেষণা ও প্রজেক্ট করতে উৎসাহিত করেন। শিক্ষার্থীরা উৎসাহিত হয়ে কাজ শুরু করলে তিনি সেগুলোর দেখভাল করেন। সেমিস্টারের শেষে ভালো কাজগুলোকে প্রদর্শন করার জন্য তিনি প্রত্যেক বছর পোস্টার প্রেজেন্টেশন এর ব্যবস্থা করেন। এই কাজে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে সহযোগিতা দিয়ে আসছে ।

গত তিন বছরের নিরলস প্রচেষ্টার কারণে প্রায় দশেরও অধিক প্রকাশনা দ্বিতীয় বছরের ছাত্র-ছাত্রীদের দ্বারা সম্ভব হয়েছে এবং আরও কিছু গবেষণা প্রকাশিত হওয়ার অপেক্ষায় আছে। এই কাজগুলো আই ট্রিপল ই (IEEE) স্পনসরড কনফারেন্স, থমসন রয়টার্স ইন্ডেক্সড জার্নাল, স্কোপাস (SCOPUS) ইন্ডেক্সড স্প্রিঞ্জার (Springer) বুক সিরিজ-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনফারেন্স ও জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

উল্লেখযোগ্যগুলো হলঃ International Conference on Advances in Science, Engineering and Robotics Technology (ICASERT-2019), International Joint Conference on Computational Intelligence (IJCCI-2019), International Conference on Cyber Security and Computer Science (ICONCS-2020), International Conference on Computing Science, Communication and Security (COMS2-2020), EMITTER International Journal of Engineering Technology, ইত্যাদি।

গত বছর এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (Asian University for Women) কর্তৃক আয়োজিত ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক কনফারেন্স অন ন্যাচারাল সাইন্স এন্ড টেকনোলজি (ICNST-2019) তে তার ছাত্রী মালিহা জাহান চৌধুরী আইসিটি সেকশনে শ্রেষ্ঠ গবেষণাপত্র উপস্থাপনের পুরস্কার পায়। তার সহ-গবেষক হিসেবে ছিলেন একই ব্যাচের ছাত্রী কানিজ ফাতেমা তন্নী। তাদের গবেষণার বিষয় ছিল প্রোগ্রামিং ল্যাবে শিক্ষার্থীদের উপস্থাপিত কোড সমূহে প্লেগারিজম (মিল) বের করা।

মোঃ ছাবির হোসাইন জানান, আমি মূলত অ্যালগরিদম কোর্সের সাথে প্রাসঙ্গিক বিদ্যমান বিষয়গুলোকে নতুনভাবে সমাধানের অথবা বিদ্যমান সমাধানসমূহকে আরো উন্নত করার চেষ্টা করি। কিভাবে অ্যালগরিদমের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে প্রাত্যহিক জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা যায় সেই চেষ্টাও করি। যেমনঃ এয়ারলাইন শিডিউলিং এমনভাবে করা যাতে এরোপ্লেন গুলো বেশিরভাগ সময় ফ্লাইট মুডে থাকে এবং এতে প্রতিষ্ঠানের লাভ বেশি হয়; অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ব্যবহার করে সহজে নির্দিষ্ট এলাকায় রক্তদাতা কে খুঁজে পাওয়া; ভ্রমণপিপাসুদের শারীরিক কষ্ট কমিয়ে সহজে টুরিস্ট স্পটগুলোকে খুঁজে বের করা; কম মূল্যের এবং কাছাকাছি ওষুধের দোকান খুঁজে বের করা; কাছাকাছি এমন হাসপাতাল খুঁজে বের করা যেখানে সিট খালি আছে এবং খরচ কম; ভাড়া বাসা খুঁজতে সহযোগিতা করা; র‍্যাগিং ঠেকানোর জন্য প্রথম বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরি করা; ফ্রিল্যান্সারদের লাভজনক কাজ বেছে নেওয়ার জন্য সহযোগিতা করা; কার্যকর গ্রাফ সার্চ পদ্ধতি দেয়া; জেনেটিক অ্যালগরিদম ব্যবহার করে দ্বিঘাত সমীকরণ সমাধানের নতুন পদ্ধতি বের করা; ট্রাভেলিং সেলসম্যান সমস্যার কার্যকর সমাধান করা; ইত্যাদি।

শুরুর গল্পটা ছিলো একটু ভিন্ন ধরণের। চুয়েটের এক অনুষ্ঠানে যন্ত্রকৌশল বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. আব্দুল ওয়াজেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও বিতরণের স্থান। সেই কথা থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি কাজ শুরু করলে ২০১৮ সালের ৩০ মার্চে Airline Scheduling with Max Flow Algorithm নামক তার প্রথম পেপারটি প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে আরও ২৩ টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। ওয়েবসাইট লিংকঃ click here

শুধু দেশেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথেও যুক্ত হয়ে গবেষণা কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টুয়ার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. আসাদ কবির, কানাডার ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির ড. এনামুল হক প্রিন্স, আমেরিকার হিউস্টোন বিশ্ববিদ্যালয়ের মোঃ মাইনুল ইসলাম, ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া পাহাং এর ড. মুহাম্মাদ নোমানী কবির প্রমুখ। তিনি মূলত মেশিন লার্নিং রেকমেন্ডার সিস্টেম ডিজাইন, অ্যালগরিদমের কম্পেক্সিসিটি এনালাইসিস, অগমেন্টেড রিয়্যালিটি, কম্পিউটার ভিশন, তথ্য পুনরুদ্ধার ও প্রদর্শন ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণা করেন ।

কেন এ ধরণের গবেষণায় নিয়োজিত আছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয় নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও বিতরণের স্থান হিসেবে পরিণত হোক। শুধু চূড়ান্ত নয়, যেকোন বর্ষের শিক্ষার্থীরা যাতে গবেষণা করতে পারে সে বিষয়ে জোর দেয়া। এজন্য কনফারেন্সে গবেষণা প্রবন্ধ রেজিষ্ট্রেশন ফি প্রদানসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা বাড়ানো দরকার। আশা করা যায় আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েরও শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উদ্বুদ্ধ  করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার কেন্দ্রে পরিনত হবে।

Share

Comments

comments

Close